সারা মধ্য এশিয়া জুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হতে পারে তাজিকিস্থানের পরিস্থিতির জন্য. এই ভাবেই বিশেষজ্ঞরা সেই দেশে ঘটে যাওয়া পরপর অনেকগুলি সন্ত্রাসবাদী ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন. শেষ অংশ হল সামরিক বাহিনীর উপরে রাস্তায় হামলা. এই ঘটনাতে ক্ষতিগ্রস্থ দের সংখ্যা সম্বন্ধে পরস্পর বিরোধী খবর পাওয়া যাচ্ছে – বিভিন্ন মতে ২০ থেকে ৪০ জন মারা গিয়েছে.    তাজিকিস্থানের পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে আগষ্ট মাসের শেষ থেকে. একের পর এক কাণ্ড ঘটতে শুরু করেছে, প্রথমে ছয় জন রক্ষী কে মেরে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগের জেল খানা থেকে বিশেষ বিপজ্জনক কিছু অপরাধী পালিয়ে যায়. ৩রা সেপ্টেম্বর – তাজিকিস্থানে প্রথম সন্ত্রাসবাদী আত্মঘাতী খুঝান্ডা শহরে স্থানীয় পুলিশের থানা উড়িয়ে দেয়. তারপর সেই সব পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের খুঁজতে গিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা মারা যায়. আর সর্বশেষ দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের ফৌজকে দেশের পূর্ব দিকে তাদের যাওয়ার রাস্তায় গুলি করে মারা.    এই সব বড় মাপের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজন ছিল বড় রকমের শক্তি ও অর্থের. সন্ত্রাসবাদীদের সমস্ত কাজই ছিল খুব পরিকল্পিত, এই কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা. প্রতিবেশী কিরগিজিয়াতেও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল. সব মিলিয়ে অঞ্চলে শুরু হয়েছে আফগানিস্থানে রূপান্তর. তাজিকিস্থান ও কিরগিজিয়ার সরকার নিজেরা বোধহয় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না, অন্ততঃ তাই মনে করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:    "আমার ভয় হচ্ছে, কিরগিজিয়ার সরকার, যারা তাদের দেশের পরিস্থিতির উপরে খুব কম নিয়ন্ত্রণই রাখতে পারছে, তারা নিজেদের শক্তিতে অথবা তাজিকিস্থানের প্রশাসনের বর্তমান ক্ষমতায় উপবিষ্ট লোকেরা এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতেই পারবে না, নতুন সমস্যা তাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাবে. আর সেই সব প্রজাতন্ত্র গুলির যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ছাড়া আর কারও উপরে নির্ভর করার উপায় নেই, কোনও আশাও নেই. কারণ উত্তর অতলান্তিকের জোট ও গণ প্রজাতন্ত্রী চীন, যারা সব সময়েই আঞ্চলিক কোন সমস্যা দেখলেই এড়িয়ে যায়, তারা কোন ভাবেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলে সাহায্য করতে আসবে না, যেমন আগেও ১৯৯৯ ও ২০০০ সালের বিরাট বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসবাদী যোদ্ধা আক্রমণের সময় তারা কোন ভাবেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নি. তাই আশা রয়েছে যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি বদ্ধ দেশ গুলির শীর্ষ বৈঠকের সময়ে নতুন সংশোধনী গৃহীত হবে, যার ফলে নতুন কিছু বিষয় এই সংস্থার চার্টারের মধ্যে যোগ করা হবে, যার ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া শীল প্রতিরক্ষা শক্তিকে সদস্য দেশের আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হবে. বিশেষজ্ঞ মনে করেন শুধু এই ভাবেই পরিস্থিতিকে কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে".    মনে করিয়ে দিই যে, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থায় রয়েছে রাশিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্থান, আর্মেনিয়া এবং বেলোরাশিয়া.