রাশিয়া – আগে শুধু পশ্চিমে ইউরোপে জ্বালানী শক্তি সরবরাহ করলেও বর্তমানে বেশী করেই পূর্বের দিকে নজর ফেরাচ্ছে. মঙ্গলবারে ২১শে সেপ্টেম্বর চীনের সঙ্গে শক্তি সরবরাহ সংক্রান্ত আলোচনার কাঠামোতে যৌথ উদ্যোগে খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা স্থাপন ও কয়লা থেকে তরল জ্বালানী তেল তৈরীর কারখানার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. একই সময়ে বাল্টিক সমুদ্রে উত্তর প্রবাহ নামের গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে, যা ইউরোপের বাজারে কার্বন যৌগ সরবরাহকে আরও বিস্তৃত করবে.জ্বালানী শক্তির বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি স্ট্র্যাটেজিক চরিত্র বহন করছে. চীনের তিয়ানশেজিন শহরে খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা বছরে ১৩ মিলিয়ন টন তেল পরিশোধন করতে সক্ষম হবে. এই কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের শতকরা ৭০ ভাগ দেবে রাশিয়ার কোম্পানীরা. কয়লা থেকে তরল জ্বালানী তৈরীর কারখানা রাশিয়াতে তৈরী করা হবে, আর সেখানে ব্যবহার করা হবে আধুনিক চৈনিক বিজ্ঞানের সূত্র. গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা উল্লেখ যোগ্য রকমের উন্নতি করেছে. ২০১৫ সালে রাশিয়ার নীল জ্বালানী চীনে পাঠানো আরও বাড়তে পারে. এখন বাকী রয়েছে দাম নিয়ে শুধু চুক্তির.রাশিয়া জ্বালানী রপ্তানীর ক্রম বর্ধমান প্রয়োজন মেটাতে পারে বলে বিশ্বাস করেন জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই কনদ্রাতিয়েভ, তিনি বলেছেন:"খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদন শিল্পের উন্নয়ন সম্বন্ধে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার স্ট্র্যাটেজি যথেষ্ট বেশী পরিমানে খনিজ তেলের উত্পাদন বৃদ্ধি করবে এবং বিশেষ করে গ্যাসের, আর তাই এই পাইপ লাইনকে মনে করা হচ্ছে সরবরাহের উপযুক্ত বাড়তি পথ ও তা বিভিন্ন দিকে পাঠানোর উপায়. মনে করা হয়েছে যে, উত্তরের প্রবাহ এবং চীনে খনিজ তেল পাঠানো বর্তমানের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাজার গুলিতে সরবরাহকে খুব একটা কমিয়ে দেবে না".পূর্বের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে রাশিয়া সক্রিয় ভাবে ইউরোপে জ্বালানী পৌঁছনোর পথ ভাগ করছে. ২০১১ সালেই উত্তরের প্রবাহ দিয়ে রাশিয়ার গ্যাস জার্মানী, ফ্রান্স, হল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেনে পৌঁছবে. আর দক্ষিণ প্রবাহ দিয়ে পাঠানো গ্যাসের হিসেব করলে রাশিয়ার গাজপ্রম গ্যাস কোম্পানী ইউরোপের প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করতে পারবে. সেই ভাবে দেখলে, ইউরোপের গ্যাসের বাজার ভাগ করার সুযোগ অন্যান্য খেলোয়াড় দেরও থেকেই যাচ্ছে, অংশতঃ নাবুক্কো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার কোম্পানীদের ও সেই অর্থে ইউক্রেনেরও, যারা রাশিয়ার গ্যাস ইউরোপে পাঠানোর বিষয়ে মোটেও পরিত্যক্ত হবে না.