বিশ্বের প্রাণীদের জন্য কি জল যথেষ্ট? এই প্রশ্ন ১০০ টি দেশেরও বেশী বিশেষজ্ঞ কানাডার মন্ট্রিলে শহরে বিশ্ব জল সম্মেলনে আলোচনা করতে শুরু করছেন.এই বছরে বিশ্বের বহু দেশে যে খরা হয়েছে, তা প্রথম প্রশ্ন হিসাবে এগিয়ে দিয়েছে জলের যথেষ্টতা নিয়ে. সমস্যা শুধু পানীয় জলেরই নয়, বরং তথাকথিত "লুকোনো জল" নিয়ে. তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে শিল্পোত্পাদনে – যেমন, তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিকে ঠাণ্ডা করার জন্য. এক টন শষ্য উত্পাদনের জন্য প্রয়োজন দেড় হাজার টন জলের, এক টন তুলো উত্পাদন করতে হলে চাই  - দশ হাজার টন জল. অন্য কথায় বলতে হলে যে কোন জিনিস বিক্রী করতে গিয়ে আমরা জলও বিক্রী করে থাকি.যদি রাশিয়ার মানচিত্রের দিকে লক্ষ্য করা হয়, তবে দেখা যাবে এই দেশে জল অনেক. কিন্তু বসন্ত কালের প্রবল বন্যার পরে দেশের নদী গুলি গ্রীষ্মে তাদের নাব্যতা হারায়. এই ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য রাশিয়াতে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে. সে গুলি গরমের সময়ে জল সরবরাহে সাহায্য করে. কিন্তু আগামী বছর গুলিতে এই ব্যবস্থা যথেষ্ট হবে না. সেই কারণেই এই বছরের প্রবল গরমের পরে রাশিয়াতে যে শিক্ষা লাভ সম্ভব হয়েছে তা হল দেশের সেচ ব্যবস্থার হাল ফেরাতে হবে আর যা আছে, তা হিসেব করে খরচ করতে হবে. প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সেরেদা:"গরমের সময়ে খরা আর প্রায় বৃষ্টি হীণ দিন গুলি, অর্থাত্ যে কারণে দেশে মাটির উপরের জল জমার জায়গা গুলিতে কিছু জমে নি, তা ভাল রকমের জলের ভান্ডার তৈরী করতে দেয় নি. আমরা চেষ্টা করছি জলের খরচ কমানোর, খাবার জলের সরবরাহকে অন্যভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে, জল জমা হওয়া জায়গা গুলির উপরে চাপ কমাতে".রাশিয়া নিজেই নিজের জলের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত, কিন্তু বহু দেশেই জল সমস্যার বিষয়. আর এই সব সমস্যা খুবই জটিল বিরোধের কারণ হয়েছে. ১৯৬৭ সালের ইজরায়েল ও তার প্রতিবেশী আরব দেশের ছয় দিনের যুদ্ধের একটা কারণই ছিল জর্ডন নদীর জল বন্টনের সমস্যা. স্পেনের কাতালোনিয়া, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, সেখানেও তারা কেউ নিজেদের জল অন্য এলাকার সঙ্গে ভাগ করতে রাজী নয়. এখনই বহু দেশে শুধু পানীয় জলই নয়, যে কোন রকমের জলই যথেষ্ট দামী হয়েছে. আর জল যে তেলের মত শীঘ্রই স্টক মার্কেটে বিক্রী হতে চলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির সেরেদা বলেছেন:"বর্তমানে মাটির উপরের ও নীচের জলের উপরে যে রকমের প্রযুক্তি গত ব্যবহারের জন্য চাপ পড়েছে, তাতে আমি মনে করি, যে হতেই পারে যে জল একটা বিক্রীর পণ্যে পরিনত হবে".আপাততঃ যখন জল যথেষ্ট তখন তা দখল করতে হবে এই রকম মানসিকতা আজ বহু দেশেরই. তাই দেখা গেছে মধ্য এশিয়ার একটি বৃহত্তম নদী ইরতীশ নদীর জল নিয়ে পরিস্থিতি সঙ্গীণ হয়ে উঠেছে. আজ চীন, যারা সীমান্তবর্তী জল প্রবাহ ও আন্তর্জাতিক হ্রদ নিয়ে হেলসিঙ্কি কনভেনশনে কখনও স্বাক্ষর করে নি, তারা চুপচাপ ইরতীশ থেকে ৬৮ কিউবিক মিটার জল নিয়ে নিচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে (৬৮ হাজার লিটার). রাশিয়া জন্য এর অর্থ হল ওমস্ক অঞ্চলে মরুভূমি তৈরী হওয়া. কাজাখস্থানেও ইরতীশের জল কমে যাওয়া নিয়ে বলা হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা. আর একেবারেই অল্প দিন আগে কাজাখস্থান বলেছে সাইবেরিয়ার নদী গুলিকে দক্ষিণে ঘোরানোর প্রকল্প চালু করার কথা. কারণ আর বিশ বছরের মধ্যেই মধ্য এশিয়াতে জলের অভাব তীব্র অনুভূত হতে চলেছে. আর তাই জলের উত্স তে পৌঁছনো চাই আজকেই, সমস্যার সমাধানও চাই এখনই. তা না হলে, বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, বিশ্বে জল নিয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু হবেই.