চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার কর্মময় জীবনে অন্যতম বিষয় ছিল সোচির আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন.রাশিয়ার অনেক নামিদামী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তিপত্রে সই করেছন.বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেখতে পেরেছেন যে,রাশিয়াতে রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ যার ফলে শুধুমাত্র ব্যবসা পরিচালনাই  নয় বরং নিজের ব্যবসা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব.যেখানে অর্থনৈতিক মন্দা কোন প্রভাব ফেলবে না.রাশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের ব্যাবসায়িক পরিবেশ বিষয়ে বিদেশী প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে.দুই দিনের এই সম্মেলনে প্রায় ২০০ এর মত বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে.যার অর্থ পরিমান ৩০০ বিলিয়ন রুবল.এই সমপরিমান অর্থই গতবছর অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় বিশ্বের নামকরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসমূহকে ঋণ দেওয়া হয়েছে.বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীরা জ্বালানী ও ক্ষনিজ শিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে.এই ব্যাবসায়িক লেনদেন থেকে যে বিষয়ে পরিষ্কার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে তা হল,এই ব্যাবসা যা শুধু অর্থনৈতিক লাভবানের জন্যই নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক.সোচি তে অনুষ্ঠিতব্য পূর্বেবর্তী সম্মেলনে বিদেশী মূলধন মূলত বিনিয়োগ করা হবে রাশিয়ার উন্নয়নশীল ভূখন্ডে.আর তা হচ্ছে-দক্ষিণ ও মধ্য রাশিয়া.রাশিয়ার ভূখন্ড উন্নয়নমন্ত্রী বিকতরা বাসারগিনা জানান যে,রুশ সরকার শুধুমাত্র এগিয়ে থাকে প্রদেশই নয় বরং অন্যান্য এলাকাগুলোতেই সুযোগ প্রদানে তৈরী.তিনি বলেন-আমরা অবশেষে বুঝাতে পেরেছি যে,শুধুমাত্র উন্নয়নশীল এলাকাগুলোকেই সর্বদা এগিয়ে রাখা ঠিক না.যারা কর্মঠভাবে কাজ করছে তারাই শুধু নয় বরং অন্যান্য এলাকাগুলোর কথাও চিন্তা করতে হবে যাদের সম্ভাবনা রয়েছে.এরা যদিও সেখানে উন্নয়ন ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে কিন্তু ঐ সব এলাকায় সুনির্দিষ্ট প্রকল্প.সরকারকে এই প্রকল্পসমূহকে সহযোগিতা করতে হবে.অর্থনৈতিক মন্দার পরই প্রথমবারের মত  সোচিতে  অনুষ্ঠিত  হয় বিনিয়োগ সম্মেলন.রাশিয়ার অর্থনীতি মন্দা কাটিয়ে দ্রুততার সাথে উন্নয়ন হচ্ছে.ইতিমধ্যেই চলতি বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রবৃদ্ধি হার ৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে.স্বভাবত বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এই বিষয়গুলিকেই প্রধান্য দিচ্ছে.রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্লাদিমীর পুতিন সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় এই কথা বলেন.তিনি বলেন,রাশিয়া বিদেশী ব্যাংসমূহের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনে তৈরী আছে.রুশ প্রধানমন্ত্রী বলেন-শুধুমাত্র বেসরকারী উদ্দোগে নেওয়া বৃহত প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমেই দেশের আধুনিকীকরনের উল্লেখযোগ্য কাজ সমপন্ন করা সম্ভব.প্রতিদিনের কর্পোরেট বা বেসরকারী ব্যানিজ্যে রাষ্ট্রের বা প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই.এর কর্যক্রমের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যায়.তৈরী করে নতুন উন্নতির মুখ.প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে.এক বছর পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাবসায়ী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সোচি শহরে মিলিত হবেন এবং তা হবে ১০ম বিনিয়োগ সম্মেলনের জয়ন্তী বছর.