১৫ই সেপ্টেম্বর ঠিক দুই বছর হল, যখন আমেরিকার ব্যাঙ্ক লেম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া বলে ঘোষণা করা হয়েছিল. এই দিনটিকেই বিশ্বে অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরুর দিন বলে মনে করা হয়ে থাকে.    আজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্পূর্ণ ফলের মূল্যায়ণ আগামী দশ বছর পার হওয়ার আগে বোঝা যাবে না. বিগত দুই বছর সারা বিশ্বের অর্থনীতির জন্যই কঠিন পরীক্ষার বছর ছিল: বিনিয়োগ ব্যবস্থায় ভয়ঙ্কর তোলপাড়, পরপর বহু ব্যাঙ্কের দেউলিয়া ঘোষণা, শিল্পোত্পাদনের হারের বিশাল পতন. বিনিয়োগের বাজার এখনও নিজেদের ক্ষতিপূরণ করে উঠতে পারে নি.    বিশ্লেষকেরা একটা বিষয়ে সহমতে এসেছেন, যে সঙ্কটের তীক্ষ্ণ সময়টি পার হওয়া গেছে. আর এখন সময় এসেছে বিশ্লেষণ করার. সঙ্কটের মূল কারণ ছিল ব্যাঙ্কের ধার ফেরত বিষয়ে বিলম্ব, তাই প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছিল ব্যাঙ্ক গুলি. এই দুই বছরে তারা অনেকটাই সাবধানী হয়েছে, ধার দেওয়ার আগে যে নিচ্ছে তার ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা সম্বন্ধে ভাল করে খোঁজ খবর নিয়ে তবেই কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে.    শিল্পোত্পাদনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে যে, কোম্পানীরা তাদের অর্থ সামর্থ্য ব্যবহার আরও ভাল করে করতে শিখেছে, বিরাট সব কোম্পানী, যেমন, জেনেরাল মোটর্স, নতুন করে শিখেছে খরচ কমাতে. কিন্তু কিছু দেশের এখনও খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে না. ফলে ইউরোপের মানচিত্রে একসাথে কয়েকটি দেউলিয়া হতে পারে এমন দেশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তাদের জন্য সংক্ষেপে আবার বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে ইংরাজীতে PIGS (শুয়োর)- পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, গ্রীস, স্পেন.    যে সমস্যা বিগত দুই বছরে বিশ্বকে একত্রিত করেছে, তা হল বেকারত্ব বৃদ্ধি. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ডোমিনিক স্ত্রস- কান বলেছেন যে, ততক্ষণ পর্যন্ত সঙ্কট শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত বিপুল পরিমানে বেকারত্ব বিশ্বে থাকবে. অনেক বিশ্লেষকই এক সাথে বলেছেন যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কট এই দুই বছরে বেকারত্বের সঙ্কটে পরিনত হয়েছে. কাজের অভাব প্রকট. যদি সংখ্যার দিকে তাকানো যায়, যা আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি খুবই সঙ্কট জনক: বেকার লোকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ কোটি. এটা ঐতিহাসিক ভাবে সবচেয়ে বেশী.    রাশিয়াতে বেকারত্বের সমস্যা সম্বন্ধে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা হয়েছে, তাই কাজের জায়গা সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল. তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল প্রশাসনের সামাজিক খরচ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত. ইউরোপে কোথাও বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের বছর গুলিতে পেনশন শতকরা ৪৭ ভাগ বাড়ানো হয় নি, যা হয়েছে রাশিয়াতে. ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া সমাধানে দেশের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে. দেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহোদ্দীপক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে. এই সবই এখন তার ফল দিচ্ছে. তাই রাষ্ট্রীয় স্ট্র্যাটেজি পরিষদের সহ সভাপতি ইওসিফ দিসকিন উল্লেখ করে বলেছেন:    "বেকারত্ব দেশে কমছে, এটা সত্য যে, এখনও খুব দ্রুত নয়. একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিশাল বিনিয়োগ প্রকল্প গুলিতে প্রত্যাবর্তনের, তাই আমার মনে হয়েছে যে, এই বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে উন্নতির হার আরো বাড়বে. আর আমি মনে করি যে, বিশেষজ্ঞরা যে বলেছেন বছরের শেষে জাতীয় উত্পাদনের হার শতকরা পাঁচ শতাংশ ও শিল্পোত্পাদন শতকরা সাত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, তা যথেষ্টই বাস্তব".    সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশ্বের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে নতুন করে বিন্যস্ত করেছে. এখন প্রথম দিকে এগিয়ে রয়েছে ব্রিক দেশ গুলি – ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন. তারাই এখন অর্থনৈতিক সূচকের বৃদ্ধির বিষয়ে এগিয়ে আছে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও তাদেরই দিকে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন শক্তিশালী অর্থনীতি সম্পন্ন দেশ গুলি বিশেষ দায়িত্ব রাখে এবং তারা তাদের সমস্ত পদক্ষেপ বহু দূর অবধি হিসাব করে নিতে বাধ্য, যাতে ২০০৮ সালের পরিস্থিতি আর না হয়, যখন সারা বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রশাসনের ভুলের শিকার হিসাবে বন্দী হতে বাধ্য হয়েছিল.