ফ্লোরিডার প্যাস্টর টেরি জোনসের ইসলাম বিরোধী অহেতুক প্ররোচনা শুধু আমেরিকার জন্যই পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায় নি. প্যাস্টরের বাণী বিতরণ বিফল হয় নি, যদিও তিনি শেষ মুহূর্তে ১১ই সেপ্টেম্বর কোরান পোড়ানোর ধান্ধা থেকে বিরত হয়েছেন.    পবিত্র জোনস অবশ্যই প্ররোচনা দাতা হিসাবে নাম করতে পেরেছেন – কিন্তু শুধু রাজনৈতিক কারণেই নয়, যতটা বলা যেতে পারে "চিকিত্সা বিজ্ঞানের" কারণ থেকে.    ডাক্তারেরা জানেন, যে কখনও কঠিন অসুখ শরীরের মধ্যে বহু বছর ধরে লুকিয়ে থাকে. এই ধরনের লীন হয়ে থাকা অসুখ, তা মানুষের হোক বা সমাজেরই হোক – খুবই ভয়ঙ্কর এবং ট্র্যাজিক ফল দিতে পারে. যখন অসুখ সারানোর পর্যায়ে থাকে, তখন তাকে অনেক সময় বাড়তে দিতে হয়, আর এই অর্থে "জোনসের প্ররোচনা" তার নিজের কাজ করেছে.কিছু "অসুখ" সম্বন্ধে সভ্য সমাজের উচিত্ মাঝে মাঝেই "খোঁজ করে দেখা". এই ধরনের অসুখের মধ্যে নাম করতে পারি অজানার আতঙ্ক (আর তার এক রূপ হিসাবে – ধর্মীয় অসহনীয়তা), কিন্তু এটাই সব নয়. ব্যাপারটা হল, সমস্ত সামাজিক ব্যবস্থা, সমস্ত সভ্য মডেল – তা সে রাষ্ট্রের পরিসীমাতেই হোক, বা বিশ্বের মাপেই হোক – তাতে একটা জিনিস থাকার প্রয়োজন আছে, যা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইংরাজী শব্দ "ফুল প্রুফ" বা "বদমাশের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার মত" কিছু বলা যেতে পারে. সামাজিক গৃহ হল – মানুষের মধ্যে সম্পর্কের একটা সম্মিলিত রূপ, তাদের এক নির্দিষ্ট ধারা বা নীতি অনুযায়ী বাঁচার পক্ষে সকলের সমর্থন – সেটা এক ধরনের দৃঢ়তার প্রয়োজন বোধ করে থাকে. যদি একক পাগলের কাণ্ড থেকে এই সামাজিক গৃহে কোন প্রতিধ্বনি উঠতে পারে – তাহলে কিছু একটা করার দরকার আছে, কিছু একটা ভাবার দরকার আছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরালো করতে হবে. "জোনসের প্ররোচনার" এটা আরও একটা স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এমন ফলাফল."১১ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কোরান পোড়ানোর দিন!" হিসাবে স্লোগান তুলে টেরি জোনস, অবশ্যই আশা করেছিল সামাজিক সমর্থনের, স্বপ্ন দেখেছিল বিরাট জন সমর্থনের. কিন্তু কোন জন সমাবেশ হয় নি. এমনকি যতক্ষণে প্যাস্টর তার ধান্ধার বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছেন, আর তার সমর্থকদেরও তা করতে বলেছেন, ততক্ষণে বোঝা হয়ে গিয়েছিল, যে স্বেচ্ছায় কোরান পোড়াতে চাওয়া লোকের সংখ্যাই নগণ্য. আর এটাও এই "চাপের পরীক্ষার" একটা গুরুত্বপূর্ণ ফল.এক দিক থেকে কিছু প্রান্তিক লোকের সমর্থন, আর অন্য দিক থেকে বিশাল সামাজিক চাপ, তৃতীয় দিক থেকে ধমক – টেরি জোনস শেষ অবধি এটাই পেয়েছেন. যদি ঐস্লামিক দের ধমকও এই বীর গোঁয়ারকে ভয় দেখাতে না পেরে থাকে, তবুও তাঁর দেশের সমস্ত লোকের সমালোচনায় তাঁর আমেরিকার মানুষের হৃদয় সহ্য করতে পারে নি. এই প্ররোচনা কিন্তু শুধু ভাল ফলই দেয় নি. সেটা দেখিয়েছে যে উচ্চারিত শব্দ কি রকম করে কোথায় "বাস্তব রূপ" নিতে পারে. জোনস যে "বীজ" বপন করেছেন, তার থেকে "চারা" কিন্তু বেরিয়েছে, তা সে উদ্যোগ যিনি নিয়েছেন, তিনি পরে শেষ মুহূর্তে যতই পিছিয়ে যান না কেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্যাস্টরের কিছু সমর্থক ১১ই সেপ্টেম্বর সত্যই নানা জায়গায় জনসমক্ষে কোরান পুড়িয়েছে.এই সমস্ত কাজের উত্তর পাওয়া গিয়েছে বিশ্বের অন্য প্রান্তে – ভারতের অশান্ত পাঞ্জাব ও কাশ্মীর রাজ্যে. প্রথম জায়গায় রেগে আগুণ হয়ে যাওয়া মুসলমানেরা শহরের একমাত্র গির্জার উপর হামলা করেছে, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে – খ্রীস্টান স্কুল জ্বালিয়ে দিয়েছে. উল্লেখ যোগ্য বিষয় হল: জানা গিয়েছে যে, মালেরকোটলা এলাকা, যেখানে গির্জা জ্বলেছে, এটা পাঞ্জাবের একমাত্র জায়গা যেখানে ১৯৪৭ সাল থেকে বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা সহমতে শান্তিতেই ছিল. ফ্লোরিডার এই প্যাস্টরের ধর্ম প্রচারের পর এখন সেখানে কি হতে চলেছে কে জানে?