আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হতে চলেছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সামরিক বাহিনী. কাজাখস্থানের এলাকায় এর মধ্যেই সপ্তমবার শুরু হয়েছে "শান্তির মিশন" নামে যৌথ মহড়া. আয়োজকেরা যেমন ঘোষণা করেছেন যে, এই মহড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে করা হচ্ছে ও তা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে নয়. সকলের শত্রু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এর লক্ষ্য. কিন্তু এই মহড়ার প্রসার আমাদের কৌতূহলী করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতৃত্বের প্রশ্ন সম্বন্ধে এবং কিছু খুঁটিনাটি আলাদা করে জেনে নিতে.    এই মহড়াতে রাশিয়া, কাজাখস্থান, চীন, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান  থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন. আরও একটি দেশ উজবেকিস্থান এই মহড়াতে কোন কারণ না দেখিয়েই অংশ নিতে আসে নি.    সবচেয়ে বড় ও আনুষ্ঠানিক ভাবে "শান্তির মিশন" মহড়া হয়েছিল ২০০৭ সালে. রাশিয়ার চেবারকুল সামরিক ঘাঁটিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সমস্ত সদস্য দেশের রাষ্ট্রপতিরাই এসেছিলেন. এই প্রশিক্ষণে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশী সেনা অংশ নিয়েছিলেন. এই বছরে সেনা সংখ্যা কম এবং শেষ অধ্যায়ে রাষ্ট্রপতিদের জায়গা নেবেন সা. স. সংস্থার দেশ গুলির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা. কিন্তু সাধারণত কম সংখ্যক সন্ত্রাসবাদী দের মোকাবিলা ও ধ্বংস করার জন্য প্রশিক্ষণের বিষয়ে এই বিশাল মহড়া যে তার লক্ষ্য থেকে বেশ দূরে হচ্ছে, তা বোঝার জন্য এটাই যথেষ্ট নয়. বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সেনা যারা পাঠিয়েছে সেই চীন ও রাশিয়ার সেনা বাহিনী যে শুধুমাত্র সমান্তরাল ভাবে কাজ করতে শিখছে তাই নয়, বরং আরও বহু গভীরে তারা একসাথে প্রযুক্তিগত বিষয় গুলিতে একই ধরনের মান তৈরী করছে.    রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে খুব কম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে না যে, ভবিষ্যতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় কোন দেশ নেতৃত্ব দিতে চলেছে. তাই এই প্রশ্ন সম্বন্ধে নিজের অভিমত "রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের এশিয়া সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:    "চীন ও রাশিয়া দেশ হিসাবে সাহাই সহযোগিতা সংস্থাতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী হতে পারে, সেই কারণে তারা বেশ বড় মাপের সেনা বাহিনীও পাঠিয়েছে. এক্ষেত্রে দেশের মর্যাদার কথাও ওঠে".    এই প্রশিক্ষণ এটা দেখানোর জন্যই করা হচ্ছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – একটি বাস্তবিক রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি, যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারে. এই কাজ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার চাইতে বেশ অনেকটাই সুদূর প্রসারিত. আন্দ্রেই গ্রোজিন উল্লেখ করেছেন যে, এই মহড়াতে সন্ত্রাস মোকাবিলা করার প্রশিক্ষণ প্রধান হলেও অন্যতম নয়, তিনি বলেছেন:    "সব মিলিয়ে দেখলে বর্তমানের বিশ্বে যে কেন ধরনের মহড়াই, তা সে চীনে হোক, ভারতে হোক অথবা এমন কি ন্যাটো জোটেরই হোক, সব সময়েই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য করা হচ্ছে বলে টীকা দেওয়া হয়ে থাকে. কিছু ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে জলদস্যূ প্রতিরোধের কথাও. কিন্তু সকলেই আসলে কি হচ্ছে তা বুঝতে পারে. বড় মাপের সৈন্য দল এবং যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে মহড়া সব সময়েই বড় মাপের কোন বিষয়ের সমাধানের জন্যই করা হয়ে থাকে".    এশিয়ার কেন্দ্রীয় অংশে যথেষ্ট বিপদের আশংকা রয়েছে. এই গুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল – আফগানিস্থান ও পাকিস্থানে তালিবান আন্দোলন. কিরগিজিয়ার আন্তর্র্আঞ্চলিক সমস্যা যা এই বছরে সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল, তা ভুললেও চলবে না. এই রকম একটা পরিস্থিতিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সামরিক জোট একমাত্র সম্ভাব্য স্থিতিশীল করার উপযুক্ত শক্তি, যা আফগানিস্থান থেকে প্রথমে ইউরোপের ও ২০১১ সালে ন্যাটো জোটের আমেরিকার সেনা দল প্রত্যাহারের পর অঞ্চলে থাকবে. এই অঞ্চলের রাজনীতিবিদেরা এই কথা বুঝতে পারেন. পাকিস্থান, ইরান, ভারত ও মঙ্গোলিয়া এই যে সব দেশ গুলি আজ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাতে পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে রয়েছে, তারা এই সত্য বুঝতে পেরেছে. যদি রাজনৈতিক স্বার্থে তারা আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে, তাহলে তা বিশ্বে শক্তির অবস্থান অনেকটাই বদলে দেবে.