রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর কর্ম সপ্তাহের শেষ দিনটি ভোলগা নদীর তীরে প্রাচীন রুশ শহর ইয়ারোস্লাভলে কাটাবেন, যেখানে এই বছরে শহরটি স্থাপনের সহস্র বর্ষ পূর্তি উত্সব হচ্ছে. এখানে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ফোরাম আধুনিক রাষ্ট্র গণতন্ত্রের মাপকাঠি ও সাফল্যের সূচক গুলি.    গত বছরে এই ইয়ারোস্লাভল শহরের ফোরাম প্রথমবার হয়েছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের উদ্যোগে ও প্রচেষ্টা করা হয়েছে এটিকে নিজস্বতার দিক থেকে এক রকমের "রাজনৈতিক দাভোস" সম্মেলনে পরিনত করার.    ইয়ারোস্লাভল সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী রুশ রাজনীতিবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি, এই আধুনিক রাষ্ট্র গণতন্ত্রের মাপকাঠি ও সাফল্যের সূচক গুলি ফোরামের নামের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অংশতঃ বলেছেন:    "সম্ভবতঃ এই ধরনের জটিল নামকরণের পিছনে রয়েছে পরিস্কার ধারণা. আধুনিকীকরণ, যা আজ দেশের নেতৃত্বের রাজনীতির অংশ হয়েছে, তার একটি অন্যতম শর্ত হল দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ. আমাদের দেশে ব্যবসায়ী মহলে ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রভাবশালী দলের লোকেরা আছেন, যাঁরা মনে করেন যে, আগে আসবে অর্থনীতি, তারপর অন্য সব কিছু. কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা মনে করেন না. আধুনিকীকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, আর তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল বোধোদয় কি করে আমাদের রাষ্ট্রকে সফল করা যেতে পারে, শুধু অর্থনৈতিক দিকেই নয়. রাশিয়া বিশ্বের অগ্রগামী দেশ গুলির সঙ্গে একসাথে আধুনিকীকরণ করতে চায় এবং তার জন্য কিছু মাপকাঠির সম্বন্ধে আলোচনা করতে তৈরী – তা প্রযুক্তির জন্যও এবং রাজনীতির জন্যও".    রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকের সাথে এই রাজনৈতিক ফোরামের অন্য একজন অংশগ্রহণকারী জাপানের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা কেন্দ্রের ডিরেক্টর মুসোকোজি কিনহিদে কথা বলার সময়ে উল্লেখ করে বলেছেন:    "আমার মতে, প্রত্যেক দেশেরই নিজের গণতান্ত্রিক রূপ আছে. আর গণতন্ত্রের সার্বজনিক যে নিয়ম ও নীতি রয়েছে, তা আমার মতে বলা যেতে পারে যে, সরকার যেন সকলের হয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়. প্রত্যেক লোকেরই মত দেওয়ার যেন অধিকার থাকে. এক সময়ে সোভিয়েত দেশে সকলেই একই রকম ভাবে বলে মনে করা হত, জাপানেও ঐতিহ্য রয়েছে, সব সময়ে উপরের লোকের কথা মেনে নেওয়ার, কিন্তু এটা সত্যিকারের গণতন্ত্র নয়... সত্যিকারের গণতন্ত্র – বিভিন্ন ধরনের সমাহারে. অবশ্যই কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে একই ধরনের পথ বেছে নেওয়া উচিত, কিন্তু সব ক্ষেত্রে একই রকম হওয়া একাধারে ভাল কিছু হতে পারে না".    ইয়ারোস্লাভল শহরের রাজনৈতিক ফোরামে আলোচনার গতি বাড়ছে. আর আলোচনার মধ্য দিয়েই, পারস্পরিক কথাবার্তার মধ্য দিয়েই বিভিন্ন একেবারেই ভিন্ন ধরনের দেশের লোকেরা চেষ্টা করবেন পরস্পরকে বুঝতে পারার চাবি কাঠি খোঁজার.