একবিংশ শতকের একটি প্রধান সমস্যা জলের অভাব. প্রতি বছরই সেই সমস্ত দেশের তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে, যেখানে জীবন দায়ী জলের অভাব. তাদের মধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলিও রয়েছে, তাদের মধ্যে জলের ভাগ নিয়ে শুরু হয়েছে বিরোধ বৃদ্ধি. কি করে বিরোধ দূর করে, সবাইকে পানীয় জল দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে রাশিয়া ও কাজাখস্থানের রাষ্ট্রপতিরা কাজাখস্থানের উস্ত – কামেনাগোরস্কে আগামী ৬ – ৭ সেপ্টেম্বর সপ্তম আন্তর্আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্মেলনে একটি মুখ্য বিষয় হিসাবে আলোচনা করবেন.    মধ্য এশিয়াতে প্রধান জল বাহী ধমনী দুটি নদী আমুদরিয়া ও সীরদরিয়া. তাদের প্রবাহ কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান নিয়ন্ত্রণ করে থেকে, যারা তাদের প্রতিবেশী দেশের চেয়ে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে. কিন্তু দুই দেশই জল বিদ্যুত প্রকল্পের উন্নতি করতে চায়, যার অর্থ হল জল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ. জল জমা করা কোন কৃত্রিম হ্রদে, তা হলে অবশ্যই নদীতে জলের পরিমান কমবে, আর তা নেতিবাচক ভাবে প্রভাব ফেলবে উজবেকিস্থান, তুর্কমেনিয়া ও কাজাখস্থানের উপরে, সেটা একটি ভয়ানক সমস্যা হতে পারে. এখন অবধি আঞ্চলিক দেশ গুলি জলের জন্য দাম দেওয়া অথবা তার বদলে কিছু বিনিময় করার চুক্তি করেছে, যেমন উজবেকিস্থান ও কিরগিজিয়া গ্যাস দিয়েছে, তাজিকিস্থান ও কাজাখস্থান দিয়েছে বিদ্যুত. এই কাজ কি নতুন অবস্থাতে করা সম্ভব হবে, যখন এই সমস্ত জল বিদ্যুত প্রকল্পের কাজ গুলি বাস্তবায়নের সময় এগিয়ে আসছে. এই সম্বন্ধে স্ট্র্যাটেজি অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝার কুরতভ বলেছেন:    "মনে করা যেতে পারে কিরগিজিয়া লোকেরা তাদের দেশের ভিতরে নদীতে বিরাট কোন প্রকল্প তৈরী করতে চলেছে, যেখানে জল বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বাঁধ বিরাট করে তৈরী করা হবে, আর এর অর্থ হল প্রবাহের নীচের দিকে কাজাখস্থানে জলের পরিমান কমতে বাধ্য. তাই সেখানে এখনই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে কৃত্রিম হ্রদ তৈরী করতে হচ্ছে, জল ধরে রাখার জন্য".     সোজা পরিস্থিতি ইরতীশ নদীকে কেন্দ্র করেও হচ্ছে না, চীন থেকে শুরু হয়ে কাজাখস্থান হয়ে রাশিয়া পৌঁছেছে এই নদী. সিনজিয়ান উইগুর স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চলের উন্নতির জন্য চীন বিশাল পরিমান জল সেখানের চাষের সেচের জন্য এর মধ্যেই আলাদা করে নিতে শুরু করেছে, ফলে ইরতীশ নদীর জলের উচ্চতা খুবই কমে গেছে ও প্রতিবেশী দেশ গুলিতে জলের অভাব দেখা দিয়েছে. বিশ্বের বহু অন্যান্য অঞ্চলেও একসাথে জল ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকাতে সমস্যা খুবই গুরুতর, মধ্য এশিয়ার থেকেও তা অনেক বেশী ভয়ানক.    তেল ও গ্যাসের মতই জল সম্পদ আজ বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে একটি জরুরী বিষয়. এর সঙ্গেই উত্পত্তি হয়েছে নতুন প্রশ্নের – কি করে জল নিয়ে বিরোধ কে এড়ানো সম্ভব হয়, একটি খুবই সব দিক থেকে ভাল হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত হল – একটি নির্দিষ্ট ধরনের নীতি গ্রহণ করা ও সকলে মিলে তা পালন করা. প্রথমতঃ সেই সব দেশের, যারা জল সম্পদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে লাভজনক অবস্থায় রয়েছে. আপাততঃ এই ধরনের নীতি বা নিয়ম কিছু লিখিত অবস্থায় নেই. বিভিন্ন পক্ষকে চুক্তি করতে হচ্ছে. উস্ত – কামেনাগোরস্কে এই নিয়েই আলোচনা হবে.