চলতি সপ্তাহের ছুটির দিনে মস্কোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রধান আকর্ষন হচ্ছে-রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ৮৬৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন এবং সেই সাথে সেনাবাহিনীর বাদ্য দলের আন্তর্জাতিক উত্সব স্পাস টাওয়ার উদ্বোধন.(মস্কো স্থানীয় সময় ২০.০০ টা)মস্কোর রেড স্কয়ারে ,ক্রেমলিনের দেয়ালের পাশে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উত্সব শুরু হবে,যেখানে অংশ নিচ্ছে প্রায় ১০০০ এরও বেশী সেনাবাহিনীর সঙ্গীত দল যারা এসেছে ৯টি দেশ থেকে. এছাড়াও থাকছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিলীত অর্কেষ্ট দল.রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল লেফটেন্যান্ট ভালেরী খালিলব আশাবাদী যে,উত্সবে যে বিষয়টি দেখানোর চেষ্টা করা হবে তা হল,সামরিক বাদ্য দলের মিলিত এই আয়োজন তা হতে পারে কুচঁকাওয়াজ অথবা অন্ত্যষ্টিক্রিয়া.ভালেরী বলেন,উত্সবের সঙ্গীত বিভাগের প্রধান হিসাবে আমি বলতে চাই যে,এটি অসাধারন একটি শো!.উত্সব শুধুমাত্র যে রাশিয়ার জনগনদেরকে আকৃষ্ট করবে তা নয়,আমি মনে করি তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাড়া ফেলবে.এর কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, রেড স্কয়ার এমন একটি স্থান যা সেনাবাহিনীর সঙ্গীত অনুষ্ঠান পরিবেশনের জন্য চমত্কার স্থান.এখানে রয়েছে অসাধারন কারুকাজ,ইতিহাস এবং সংস্কৃতি.রাশিয়ার আয়োজক কর্তৃপক্ষ স্বাধীন কমনওয়েলথ দেশসমূহ(সিআইসি) থেকে কাজাকিস্তান,তাজিকিস্তান ও ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গীতদলকে আমন্ত্রন জানিয়েছে.এই দেশসমূহের প্রতিনিধি দলগুলো রাশিয়ার নিজস্ব সেনাবাহিনীর সঙ্গীত দলের অনুকরনে তৈরী করে হয়েছে এমন কি ঐ দলসমূহ রাশিয়ার সামরিক সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করেছে.জার্মানী,ফ্রান্স,যুক্তরাষ্ট্র্,ইজরাইল ও বাহারাইনের সেনাবাহিনীর সঙ্গীত শিল্পীদের মূর্ছনায় রেড স্কয়ারের পাথরের বল্ক  আলোক সজ্জায় জ্বলমল করবে.রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ভালেরী খালিলব এ ক্ষেত্রে প্রধান আনন্দের বিষয় বর্ননা করেন.তিনি বলেন, আমরা চাই নি যে,দলসমূহের পূনরাবৃত্তি ঘটুক.বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দেশসমূহের অর্কেষ্ট দল অংশ গ্রহন করুক,যারা প্রতিনিধিত্ব করবে বিভিন্ন জাতির.এই বিষয়টি উত্সবে অন্যতম উপকরণ হিসাবে কাজ করবে.আর কোথায় শুনতে পাওয়া যাবে বাহারাইনের অর্কেষ্টের সুর অথবা স্কটল্যান্ডের বংশীবাদক.এ যে অপূর্ব.উত্সবের আয়োজন অনেক ব্যাপক.যেই সব সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে সেখানে থাকছে ক্লাসিক্যাল,২য় বিশ্ব যুদ্ধকালীন(৬৫তম বিজয় উপলক্ষে) গান এমন কি মাইক্যাল জ্যাকসনের  জনপ্রিয় গানও.অন্যদিকে উত্সবের নামকরন স্পাস টাওয়ার যা রাশিয়ার ইতিহাসের স্মারক বহন করে চলছে.যার নির্মান নঁকশা তৈরী করেছেন,বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কারুশিল্পী মিখাইল শেমইয়াকিন.তিনি বলেন-এই কাঠামোটি হাস্যকর,আনন্দের যা অনেকের কাছেই ইতিমধ্য পরিচিত.শিল্পী আরও বলেন,কাঠামোটি খুবই নাজুক যা একই নামের বালেত থেকে নেওয়া হয়েছে.এটি বিশ্বের অনেক স্থানেই দেখানে হয়েছে.বিশেষ করে ওয়াশিংটনে,লন্ডনে ও প্যারিসে. এমন একটি অসাধারন উত্সবে স্মারক হিসাবে এই কাঠামোকে নির্বাচন করা হয়েছে.আমি সর্বদা সামরিক বাহিনীর সঙ্গীতকে অনেক ভালবাসি.আমি নিজেও সৈনিক পরিবারের সন্তান,আমার মা ২য় বিশ্ব যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন.তাই এই উত্সব থেকে আমি অনেক আনন্দ আর ভালবাসা পাব,যা আমরা শৈশবের অনেক স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দিবে.

শেমেইয়াকিন(স্পাস টাওয়ার) স্মারক যা প্রত্যেক অংশগ্রহনকারী এবং বিশেষ অতিথিদেরকে প্রদান করা হবে এবং সেই সাথে প্রদান করা হবে ফ্রান্সের বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী মিরে মাতেকে.তিনি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রেড স্কয়ারে এই উত্সবের সমাপনী দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন.