রাশিয়ার বিশিষ্ট অবস্থান তার ভূমিকাকেও বিশিষ্ট করেছে – ইউরোপ ও এশিয়ার দেশ গুলিকে সমাকলন করা. এই মত দিয়েছেন সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে চীনের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রফেসর গুয়া চেন সিন. রাশিয়ার উত্তরের রাজধানীতে আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্র "ভালদাই" ক্লাবের কাজ শুরু হয়েছে.    সপ্তম আলোচনা সভার মুখ্য বিষয়, যা নিয়ে এখানে আলোচনা হতে চলেছে তা হল -  "রাশিয়া: ইতিহাস ও ভবিষ্যত উন্নয়ন". ভালদাই ক্লাবের কাজে অংশ নিচ্ছেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার পনেরোটি দেশের বিশেষজ্ঞরা. তাদের মধ্যে – বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন, যাঁরা কাজ করছেন রাশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে.    রাশিয়া সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে "ভালদাই" ক্লাব বর্তমানে এক খুব নাম করা ও অপরিবর্তনীয় আলোচনা সভা বলে পরিচিত হয়েছে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল, রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের নেতারা এখানের আলোচনা সভার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের জন্য সময় রাখেন – এই সমস্ত লোকেরা বিদেশে রাশিয়াকে কিভাবে দেখা হচ্ছে, সেই বিষয়ে নির্নায়কের কাজ করে থাকেন. এই অভিজ্ঞতাও খুবই অতুলনীয়: অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপতি ও দেশ নেতারা এই ধরনের কাজ সাধারণতঃ করেন না.    সমাজে যে বিষয়টি পূর্ব্বে ও পশ্চিমে একই রকম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়ে থাকে – তা হল রাশিয়ার তার প্রতিবেশী দের সঙ্গে সম্পর্ক. কারণ রাশিয়ার সঙ্গে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের রাজ্য গুলির ও পূর্ব্ব ইউরোপের প্রাক্তন সমাজবাদী ব্লক ভুক্ত দেশ গুলির সম্পর্ক সমস্ত ইউরোপের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে, তাই "রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে জার্মানীর সাংবাদিক আলেকজান্ডার রার বলেছেন:    "ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে গতিময় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটছে সোভিয়েত দেশ পরবর্তী অঞ্চলেই, যেমন, এক বছর আগেও ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে থাকা দেশ গুলির মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল, আর এখন মস্কোর প্রধান সহযোগী দেশ বেলোরাশিয়ার চেয়েও ভাল সম্পর্ক তাদের সাথে. মলদাভিয়াতে পরিস্থিতি একই রকম, গত বছরে সেখানকার তত্কালীণ রাষ্ট্রপতি চেয়েছিলেন রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক জোট গড়বেন, আর এখন সেই দেশ ছুটছে ন্যাটো জোটের দিকে. দ্বিতীয় বিষয় হল অনেক গুলি সমাধান না হওয়া সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে. তাদের মধ্যে কম এখন আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার সমস্যা. বড় হয়ে রয়েছে দ্নীপার নদী উপত্যকার ও কারাবাখ অঞ্চলের সমস্যা. তাই রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্কে রয়েছে, তা প্রতিবেশী দেশগুলিকে খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখতে হয়. সেখানেই বহুলাংশে ইউরোপীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সমাধানের পথ দেখা হচ্ছে".    ইউরোপে প্রতিবারে নানা ধরনের উদ্বেগ শুরু হয়ে যা, যখন আরও একটি গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা অথবা ককেশাসে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং প্যারাডক্স হয়ে দাঁড়ায় তখনও যখন প্রশ্ন ওঠে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনঃ নবীকরণ করার, - এই কথা স্বীকার করেছেন আলোচনা সভার অংশগ্রহণকারী ইতালির বিখ্যাত মহিলা সাংবাদিক ওরিয়েত্তা মসকাতেল্লি. তাঁর কথামতো, পশ্চিমের দেশ গুলির এক্ষেত্রে নিজস্ব সামাজিক মতামতের ক্ষেত্রে প্রায় সবসময়ই মস্কোকে সন্দেহ করার একটা প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়. সমস্ত সন্দেহ ও দ্বন্দ্ব বা দ্বিধা দূর করতে পারে একমাত্র ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন কাঠামোকে স্বীকার করে নিলে. যে বিষয়ে ধারণা আজ থেকে দুই বছর আগে পশ্চিমের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.    সভার আরও একটি ঘোষিত বিষয় হল – রাশিয়াতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও তার ভবিষ্যত গতি প্রকৃতি (যা নিয়ে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম গুলি আলোচনা করতে ভালবাসে). কিন্তু, দেখা গেল যে, ক্ষমতার উর্দ্ধমুখী কাঠামো মোটেও সমস্ত বিশেষজ্ঞের কাছে নেতিবাচক নয়. অংশতঃ বিখ্যাত ফরাসী বিশ্লেষক আর্নো দ্যুবিয়েন বিশ্বাস করেন যে, শক্তিশালী গণতন্ত্রের সাথে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার খুবই সংযোজন যোগ্য. উদাহরণ হিসাবে তিনি তাঁর নিজের দেশ ফ্রান্স কে দেখিয়েছেন, যেখানে রাজ্য গুলির প্রচুর অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেখানের প্রধান নির্বাচন করা হয়ে থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেই. আর এটা ঠিকও – কারণ এই ভাবেই কেন্দ্রীয় সরকার লক্ষ্য রাখে, যাতে সারা দেশেই জাতীয় আইন মেনে কাজ কর্ম হয়.     কিন্তু তা স্বত্ত্বেও মুখ্য বিষয় হল, "ভালদাই" ফোরামের অংশগ্রহণকারীরা কি আশা করছেন, তাঁদের নিজস্ব অভিমত অনুযায়ী – "রাশিয়ার বাতাবরণে সম্পূর্ণ ভাবে নিমজ্জিত হতে পারা". এই সম্মেলনের মূল অংশটি হবে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে কিঝি ও ভালাম দ্বীপে যাওয়ার পথে  - সেই সমস্ত জায়গা, যা অতিথিদের রাশিয়ার ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার বিশিষ্ট শক্তিতে শক্তিশালী করে তুলবে. এর ফলে চিন্তার সেই সব জড়তা দূর হবে, যা পশ্চিমে অনেককেই বিশেষ করে অসুবিধায় ফেলে রাশিয়াকে দেখার ক্ষেত্রে কোন রকম আগে থেকে ধরে নেওয়া ধারণা ছাড়া দেখতে.