রাশিয়ার অর্থনীতি বিশ্বের অর্থনীতিতে আরও একটি ঝঞ্ঝা এলেও তা প্রতিহত করতে পারবে. এই রকমের ভবিষ্যত বাণী করে ঘোষণা করেছেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপ প্রধান আন্দ্রেই ক্লেপাচ.    রাশিয়ার প্রধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই ধরনের মত দেওয়ার কারণ কয়েকটি. যদি আজকের রাশিয়ার অর্থনীতির মূল্যায়ণ করা হয়, তবে উল্লেখ করা যেতে পারে: প্রধান শিল্পের ক্ষেত্রে অগ্রণী দেশ গুলির তুলনায় আজ তা যথেষ্ট সম্মান যোগ্য অবস্থানে রয়েছে. এই কথা বলেছেন রাষ্ট্রীয় স্ট্র্যাটেজি পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইওসিফ দিসকিন:    আজ উন্নতির জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে. সরকার পুরনো গাড়ী বদলে নতুন গাড়ী কেনার প্রকল্প চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমানে কৃষি কার্যের জন্য ব্যবহৃত পুরনো যন্ত্রও বদল করতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে. এই সবই বাস্তবিক সম্ভাবনা, যাতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা যায়. দেশের কাঁচা মাল উত্পাদন শিল্পেও নতুন বিনিয়োগের ঢেউ লক্ষ্যনীয়.    ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক পতন বর্তমানে সক্রিয় উন্নয়নে বদলে গিয়েছে, যা এই বছরে প্রথম ষান্মাসিকে শতকরা ছয় শতাংশের বেশী উন্নতি করেছে. শিল্প উত্পাদনের পতন অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে. এখনই বলা যেতে পারে যে, সঙ্কট পূর্ব উত্পাদনের হারে প্রত্যাবর্তন একটা সময় গোনার বিষয় মাত্র. একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, কোন রকমের স্নায়বিক দৌর্বল্য বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোন কোম্পানী কোন রকমের বিশাল পরিকল্পনা করছে না, আর জনসাধারনও কোন রকমের বিশাল পরিমানে ঋণ নিচ্ছেন না. একই সঙ্গে ব্যাঙ্ক গুলি ধারণা করতে আশংকা করছে না যে, অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গেই মানুষ আবার ঋণ নিতে ফিরে আসবে ও গ্রাহক ঋণের পরিমান সঙ্কট পূর্ব সময়ের মতই হবে. বিগত কিছু কাল ধরে দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রাজনীতিরও বদল ঘটেছে, দেশের মুদ্রার ভাসমান হার সম্ভাব্য বিশ্ব সঙ্কটের প্রতিক্রিয়াকে যথেষ্টই কোমল করবে, তাই এই রকমের বিশ্বাস নিয়ে বিনিয়োগ কোম্পানী ত্রোইকা ডায়ালগ কোম্পানীর প্রধান অর্থনীতিবিদ ইভগেনি গাভ্রিলেঙ্কোভ বলেছেন:    ২০০৮ সালের সঙ্কটের পর আর্থিক নীতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে. প্রধান সমস্যা ছিল বিদেশী মুদ্রা বিনিময়ের হার ছিল যথেষ্ট ঋজু. এখন পরিস্থিতি অন্য ধরনের: বিনিময়ের হার যথেষ্ট স্বাধীন ও ভাসমান, দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বিনিময়ের হার নির্ণয়ে প্রায় মাথাই গলায় না. আমি তাই মনে করেতে পারি যে, সম্ভাব্য কাল্পনিক বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট বাস্তবে দেখা দিলেও দেশের বহির্বাণিজ্যের কাঠামোর ক্ষেত্রে তা খুব প্রভাব ফেলতে পারবে না. বরং রুবলের দুর্বল বিনিময় হার দেশের শিল্পের উত্পাদকদের লাভের কারণ হবে, তাদের সাহায্য করবে বেশী লাভবান হতে. ফলে সেই ধরনের সঙ্কটের প্রভাব কে ভারসাম্যের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে.    কর্ম সংস্থানের ক্ষেত্রেও রাশিয়া বর্তমানে বহু দেশকে অতিক্রম করেছে. যদি, সঙ্কট পূর্বে রাশিয়াতে কর্ম হীণ ছিল শতকরা সাত ভাগ লোক, তবে বর্তমানে তা এই স্তরের চেয়েও কম. তুলনার জন্য বলা যেতে পারে যে, বর্তমানে ফ্রান্সে বেকার লোকের সংখ্যা প্রতি দশ জনে একজন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই সংখ্যার কাছাকাছিই কাজের বাজারের পরিস্থিতি.    বর্তমানের রাশিয়ার অর্থনীতির সমস্ত রকমের সমস্যার মধ্যেও, বিশেষজ্ঞরা আজকের পরিস্থিতির বিশেষত্ব নিয়ে উল্লেখ করতে বাদ দেন নি: অর্থনৈতিক উজ্জীবন দেখা গিয়েছে উন্নতির পথে ও যথেষ্ট আত্ম বিশ্বাসী. ভবিষ্যত বাণী অনুযায়ী রাশিয়ার অর্থনীতি আগামী বছরে  শতকরা চার শতাংশের বেশী বৃদ্ধি পাবে.