২০১২ সালে কে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হবেন, তাই নিয়ে জল্পনা, ভ্লাদিমির পুতিনকে উত্সুক করে কিন্তু এতটা নয় যে, তাতেই একমাত্র থেমে থাকতে হবে. এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাঁর এক সাক্ষাত্কারে "কমেরসান্ত" নামের কাগজকে. তিনি এই সাক্ষাত্কারের সময়ে নিজে রাশিয়াতে তৈরী "লাডা – কালিনা" গাড়ী চালিয়ে দেশের সুদূর প্রাচ্যের অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন.

    সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে ভাবা উচিত্ তা কাজের ক্ষেত্রে তা কি প্রভাব ফেলবে, রেটিং নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই, এটা ভ্লাদিমির পুতিনের দৃঢ় বিশ্বাস. তাই নিজের জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে রেটিং নিয়ে তিনি মনোযোগ দেন না, আর আপাততঃ মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন দেখেন না যে, তিনি অথবা দিমিত্রি মেদভেদেভ কে ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছেন, না কি দুজনেই একসাথে প্রার্থী হবেন. সময় যখন আসবে, তখন তাঁরা দুজনেই একসাথে বসে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবেন এই প্রশ্নের বিষয়ে. যাই হোক না কেন, এখন এবং ২০১২ সালের পরেও দেশের নেতাকে প্রচুর কাজ করতে হবেই. পুতিনের মতে বর্তমানের রাশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো সাময়িক রূপান্তরের সময়ের. আর পরবর্তী কালে তা যত বেশী অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে, ততই বেশী করে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন পদ্ধতি তৈরী করতে হবে.   

    রাশিয়াতে কার্যকরী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য অনেক সময় লাগবে বলে মনে করেন "রাজনীতি" নামের ফান্ডের প্রেসিডেন্ট ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ, তিনি বলেছেন:

    "মনে করিয়ে দিই যে, ১৯৯১ সাল অবধি রাশিয়াতে কোন গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ছিল না. আর মাত্র কুড়ি বছরের ইতিহাসে গণতন্ত্র হিসাবে রাশিয়া অনেক দূর চলে এসেছে. নতুন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পূর্ণ হতে কত সময় লাগবে, তা বলা কঠিন. কোথাও এর জন্য কয়েক পুরুষ লাগে, কোথাও কয়েকটি দশকেই তা সম্ভব হয়. আমি বিশ্বাস করি যে, রাশিয়ার নিজের কাঠামোতেই রাষ্ট্র হবে, কারও নকল করে তা হবে না".

    নতুন রাশিয়ার রাষ্ট্রের প্রধান বা মুখ্য নীতি হিসাবে ভ্লাদিমির পুতিন দেখেন দেশের নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে একটা সুরের মিল এবং প্রশাসনের আভ্যন্তরীন সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য.

    আসলে এই ধারণা নতুন নয়, দেশের সেই দিকেই যাওয়া উচিত্, যে দিকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরেই নিজস্ব কাজ করার ক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা থাকে. কিন্তু তাতে এখনও পৌঁছনো বাকী, তাই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভগেনি মিনচেঙ্কো বলেছেন:

    "ক্ষমতা ভাগ করার নীতি সার্বজনীন. তা সব জায়গায় কাজ করতে পারে এবং করতে বাধ্য. কিন্তু রাশিয়াতে তা কাজ করে না. তার উপরে, স্থানীয় স্বায়ত্ত শাসনের উপরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা খুব স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া যায়. তা স্বত্ত্বেও প্রশাসন জনতার ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ এটা শুরু হয়েছে দিমিত্রি মেদভেদেভের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে. এক সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর রাষ্ট্রপতি অবস্থায় সামাজিক প্রতিবাদে নিজের মত থেকে সরে এসে চীনে যাওয়ার তেলের পাইপ লাইনের পথ বদলে ছিলেন, বৈকাল হ্রদ থেকে তার দূরত্ব বাড়িয়ে. আর বিগত কিছু সময় ধরে জনগনের প্রতিবাদের প্রভাব প্রশাসনের কাজের উপরেও পড়ছে. যেমন, উদাহরণ হিসাবে পরিবহন শুল্ক বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন ফেরত পাঠানো বা খিমকি অঞ্চলের বন কাটা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত".

    প্রসঙ্গতঃ বিরোধী দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন: সবচেয়ে বড় কথা হল, প্রতিবাদের ক্রিয়া যেন কোন রকমের অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি না করে. যদি বর্তমানের প্রশাসনের বিরোধীরা আইন সঙ্গত রাষ্ট্রের জন্যই আন্দোলন করেন, তবে তারা যেন নিজেরা চালু আইন ব্যবস্থা যেন মেনে চলেন. বর্তমানের বিশ্বে নিজের মত অন্যদের কাছে জানানো অনেক সহজ, সাংবাদিকদের ডেকে আনুন, সমালোচনা করে ঘোষণা করুন – আর ইন্টারনেটের বা টেলিভিশনের মাধ্যমে সবাই আপনার কথা শুনতে পাবে. প্রশাসন নিজের মত পরিবর্তন করতে রাজী আছে. কিন্তু তাকে অহেতুক উত্তেজিত করার কোন দরকার নেই.