রাশিয়া তার বিদেশী সহযোগী দেশ গুলির সঙ্গে শক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কাজে উন্নতি করছে. এর প্রমাণ – রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণ, যিনি এই দিন গুলিতে রাশিয়ার পূর্ব্বের এলাকা গুলিতে কার্যকরী সফরে রয়েছেন ও চীন সীমান্তের কাছে খনিজ তেলের পাইপ লাইনের উদ্বোধনে অংশ নিয়েছেন.    এটি পূর্ব্ব সাইবেরিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইনের একটি প্রশাখা, যা রাশিয়া চীন সীমান্তে আমুর অঞ্চলের স্কোভোরদিনো জনপদ থেকে চীন সীমান্তের দাতসিন শহর পর্যন্ত পৌঁছেছে. প্রতি বছরে এই পাইপ লাইন দিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে দেড় কোটি টন পর্যন্ত খনিজ তেল পাঠানোর. আজ থেকে শুরু হয়েছে এই পাইপ লাইনে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় খনিজ তেল ভরা, আর ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই প্রথম রপ্তানী শুরু হবে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, ছয় বছর আগে এই প্রকল্পের ধারণা হয়েছিল, যখন চীন তার দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতির প্রয়োজনে জ্বালানী শক্তির অভাব বোধ করছিল. ঐতিহ্য অনুযায়ী নিকট প্রাচ্যের বাজার থেকে তেল নেওয়া ছাড়াও চীন তার নজর দূরের পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গুলির দিকেও দিয়েছিল. কিন্তু কাছের প্রায় কখনও শেষ হবে না এমন কার্বন যৌগের সরবরাহ করার মতো ও বিদ্যুত শক্তি দেওয়ার মতো দেশ রাশিয়া আছে. আর তাই এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ও দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্তে, এই কথাই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে:      "এই বছর রাশিয়ার তেল চীনে যাবে. এটা শুধু চীনে জ্বালানী পাঠানোর প্রকল্পই নয়, এটা সত্যই বহুমুখী প্রকল্প, যা আমাদের জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতাকে দৃঢ় করেছে. চীনের সহকর্মীরা কাজ করছেন রাশিয়ার মধ্যে তেলের উত্পাদনে আর রাশিয়ার কোম্পানীরা চীনের তৈল শোধনাগার গুলির শেয়ারের অংশীদার ও তেল সরবরাহের পরিকাঠামোর আংশিক মালিক".    ভ্লাদিমির পুতিন যোগ করেছেন যে, এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, কারণ আমরা আমাদের স্ট্র্যাটেজিক সম্পদের সরবরাহকে বহুমুখী করতে পারছি. এখনও অবধি আমাদের তেলের প্রধান গ্রাহক ছিল ইউরোপের সহকর্মী দেশ গুলি, তার অর্থ হল ১২ থেকে ১৩ কোটি টন তেল আমরা ইউরোপে পাঠিয়ে থাকি. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খুবই কম পাঠানো হত, কিন্তু এই অংশটি খুলে যাওয়ার ফলে পূর্ব্বের তেল সরবরাহের পথ দিয়ে আমরা তিন কোটি টন তেল পাঠাতে পারবো আর পরে তার প্রসার হলে তা পাঁচ কোটি টন হবে প্রতি বছরে. এটা অবশ্যই ইউরোপের পথ দিয়ে পাঠানো তেলের সঙ্গে উল্লেখ যোগ্য প্রতিযোগিতার বিষয়.    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা আমাদের ও সহকর্মী চীনের জন্য খুবই প্রয়োজন. চীনের জন্য – এটা দেশের জ্বালানী শক্তির ভারসাম্য স্থিতিশীল করার প্রশ্ন, আমাদের জন্য – নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশ এবং এই ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চীনের বাজারে প্রবেশ. প্রশাসনের প্রধান আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার জন্য এই এলাকাতে সমস্ত কাজের তখনই মানে হবে, যখন তা সুদূর প্রাচ্যের উন্নতির জন্য নির্দিষ্ট হবে, আর এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সুদূর প্রাচ্যের উন্নতির সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে. কারণ এই বিপুল নির্মাণ কার্যে ও তার জন্য পরিকাঠামো তৈরী করতে, রাস্তা বানাতে, জ্বালানী শক্তির পরিকাঠামো নির্মাণে বহু বিলিয়ন রুবল ব্যয় করা হচ্ছে, আর তার বাস্তবায়ন করতে বহু সহস্র বিশেষজ্ঞ, যাঁদের মধ্যে বহু স্থানীয় লোক রয়েছেন, তারা কাজ করছেন.