আন্তর্জাতিক পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা বিরোধী দিবসের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বিশ্বের সমস্ত দেশকে এই মারণাস্ত্র সংক্রান্ত সমস্ত পরীক্ষা বন্ধ করতে ও তার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচ সংকোচন করতে আহ্বান করেছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাহলে হয়ত বিশ্ব পরমাণু অস্ত্র মুক্ত হবে. আস্তানা শহরে আন্তর্জাতিক পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের সমস্ত প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর বার্তায় এই কথা বলেছেন.    সর্বদেশীয় পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ করার চুক্তি আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল. কিন্তু তা আজও আইনত বাধকতা মূলক হতে পারে নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই দলিলকে স্বীকৃতী দেয় নি. প্রসঙ্গতঃ এই সম্মেলনের সদস্যরা আস্তানা শহরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন সেনেট বারাক ওবামা প্রস্তাবিত চুক্তির দলিলকে নিশ্চয়ই সমর্থন করবে. আর তা অন্যন্য দেশের জন্য একটি ভাল উদাহরণ হবে.    নিজের পক্ষ থেকে বান গী মুন বিশ্ব সমাজকে আহ্বান করেছেন এবং প্রাথমিক ভাবে পারমানবিক ক্লাবের সদস্য দেশ গুলিকে, এই চুক্তিকে ২০১২ সালের মধ্যে কার্যকরী করতে. আর আপাততঃ পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ রাখতে. আর এই বিষয়ে প্রথমে সেই সমস্ত দেশেরই পদক্ষেপ নিতে হবে, যারা পারমানবিক ক্লাব বা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নয়. কারণ সদস্য দেশ গুলি ইতিমধ্যেই অন্য দলিলের বাধা নিষেধ অনুযায়ী পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ করেছে. যারা সদস্য নয়, তারাই তাদের পারমানবিক পরিকল্পনায় অস্ত্র তৈরী করার চেষ্টা করছে, সুতরাং এই কথা মাথায় রেখে নতুন ইউরো এশিয়া ফান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই করতুনভ বলেছেন:    বাস্তবে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করার প্রশ্ন সেই সমস্ত দেশের কাছেই রয়েছে, যারা এখন চেষ্টা করছে পারমানবিক ক্লাবের সদস্য হতে. তাদের জন্য এই পরীক্ষা এক ধরনের প্রতীক. এটা পারমানবিক অস্ত্রধারী দেশ হওয়ার কামনা. এটা এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন ও নিজেদের জাহির করার প্রচেষ্টা. আর তাই এই সব দেশের জন্য পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ করা একটা বিশেষ অর্থ হত, এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে বেদনা দায়ক সিদ্ধান্তও হতে পারত. আর, অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হল, সারা বিশ্বের সমাজ এই প্রশ্নে একটা সহমতে যেন আসতে পারে.    বিশ্ব সমাজের বিশেষ উদ্বেগের কারণ ইজরায়েল ও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা. আর যদিও তেহরান বা তেল আভিভ কেউই সামরিক ক্ষেত্রে পারমানবিক পরিকল্পনার কথা স্বীকার করছে না, তবুও বিশেষজ্ঞরা দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের কাজ কর্ম চলছে. আর এই দৃষ্টি কোণ থেকে দেখলে এই সমস্ত যুদ্ধের মুখে পৌঁছনো দেশের এই চুক্তি মেনে নেওয়া কে নীতিগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলা যেতে পারে.    রাশিয়া অনেক দিন ধরেই এই ধরনের পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে, কিন্তু মস্কোর অবস্থান সব সময়েই একই জায়গায় – পরীক্ষা বন্ধ রাখার জন্য এক তরফা দায়িত্ব নিলেও প্রধান কাজ হল – সর্বদেশীয় পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ করার চুক্তির আশু আইন সঙ্গত বাস্তবায়ন.