এই পড়ার বছরের শুরু থেকে উত্তর ককেশাসের একটি বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় – কাবার্দিনো – বালকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তালিকায় আলেকজান্ডার সাকুরভের নাম রয়েছে. বিখ্যাত রুশ চিত্র পরিচালক, যাঁকে বিশ্বের সেরা একশ জন পরিচালকের মধ্যে গণ্য করা হয়ে থাকে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২রা সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর মাস্টার ক্লাস শুরু করছেন.    তাতে ২১ জন ছাত্র নেওয়া হয়েছে, গুরু নিজেই বহু ইচ্ছুক ছাত্রদের মধ্যে থেকে এদের বেছে নিয়েছেন. আর এখন চেষ্টা করবেন নিজে তাদের শিক্ষা দিতে. সাকুরভ এই কাজের জন্য কেন উত্তর ককেশাস এলাকা বেছে নিয়েছেন? উত্তর বোধহয় তাঁর চলচ্চিত্রের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে. যেমন, তাঁর চিচনিয়া রাজ্যে তোলা ফিল্ম "আলেকসান্দ্রা", সাকুরভ এই রাজ্যে যখন সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ হচ্ছিল, সাই সময়কে তুলে ধরেছেন এই ছবিতে. সেখানে সেই সমস্ত লোকেদের দেখানো হয়েছে, যারা সেই সময়ে স্বজন হারানোর ট্র্যাজেডি নিজেদের জীবনে অনুভব করেছেন. এই সব দেখানো হয়েছে এক বৃদ্ধা রুশ মহিলার চোখ দিয়ে, যাঁর নিজের জীবনও সহজ ছিল না. উত্তর ককেশাসের সমস্যার প্রতি সাকুরভ আরও একটি তথ্য চিত্রে তুলে ধরেছিলেন, সেটি তাঁর এক সারি "কথার সুর" নামে তথ্য চিত্রের একটি ছিল. এটি ছিল পরিচালকের কাবার্দিনো – বালকারিয়া রাজ্যের প্রেসিডেন্ট আর্সেন কানোকভের সঙ্গে একটি সাক্ষাত্কারের কথাবার্তার চিত্র রূপ. সাকুরভ সেখানে কি চিন্তা নিয়ে বলেছেন, তা তাঁর কথাতেই টের পাওয়া যায়:    "কি রকম একটা আলাদা উদ্বেগ নিয়ে আমি রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চল নিয়ে চিন্তা করে থাকি. আমদের ইতিহাসে খুবই জটিল, পরস্পর বিরোধী ও দুঃখের ঘটনা প্রচুর. আর আমার মনে হয়, আজ যে সব সমস্যা আমাদের আছে, তার অনেকটাই, সেই সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিধ্বনি. ইউরোপীয় সমাজ ও সভ্যতা ককেশাসে মানুষের জীবনে বাস্তবে কি নিয়ে এসেছে যোগ করেছে?  এখানে পার্লামেন্ট তৈরী হয়েছে, রাজ্য গুলির সব কটিতেই পার্লামেন্ট আছে, বহু ধরনের পার্টি আছে. এখানে থিয়েটার তৈরী হয়েছে, সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা তৈরী হয়েছে – যা, আগে ককেশাসে ঐতিহ্য গত ভাবেই ছিল না. আর একই সময়ে একটা অনুভূতি হচ্ছে যে, ঐতিহ্য অনুযায়ী এখানকার লোকেদের জন্য বোধগম্য, সহজ ও স্পষ্ট জীবন ধারা যেন তার প্রয়োজন হারিয়েছে. আমরা জাতীয় সংস্কৃতিতে খুবই গভীর করে নতুন ধারা রোপন করতে চাইছি, ফলে কি পাচ্ছি"?    সাকুরভের ধারণা মতো, "সব কিছুই শুরু হয় সংস্কৃতি থেকে", তিনি বলেছেন:     "সংস্কৃতি থাকলে – সভ্য উত্পাদনের উপযুক্ত শিল্পও থাকবে, ব্যবসা থাকবে এমনকি সভ্য প্রশাসনও থাকবে. সংস্কৃতি – জাতীয় থিয়েটারের উন্নতি, সিনেমা এই সবই সমস্ত সমস্যা কোমল করতে বাধ্য". সব কিছু বিচার করে এই কারণেই আলেকজান্ডার সাকুরভ কাবার্দিনো – বালকারিয়া রাজ্যের ছাত্রদের সঙ্গে কাজ করতে রাজী হয়েছেন, যে কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলার বারাসবি কারামুরজভ খুবই খুশী. তিনি রেডিও রাশিয়া কে একটি সাক্ষাত্কারে বলেছেন:    "অবশ্যই এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা বলার মতো ঘটনা. আমার মনে হয়, এটা আমাদের রাজ্যের জন্যও একটা উল্লেখ জনক ব্যাপার, এমন কি বলা যেতে পারে সারা রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জন্যও. আমাদের এই রকম মাস্টার সমেত একটিও এমন কেন্দ্র নেই. আর এখানে যুব সমাজের সম্ভাবনা হয়েছে যার তার কাছে নয়, খোদ সাকুরভের কাছে চিত্র পরিচালনার শিক্ষা পাওয়া, এটাকে চমত্কার ছাড়া কি আর বলা যায়. আমি খুবই আশা করব যে, যা আমরা তাঁর সঙ্গে বাস্তবায়িত করব, তা বর্তমানের আত্মিক সঙ্কটের সমস্যা থেকে আমাদের সমাধানের পথ দেখাবে. অনেক কিছু করতে হবে, যাতে অল্প বয়সী জনতার মানসিক উন্নতি হয়. অর্থাত্ ভবিষ্যতের ঘটনার উপর বলা যেতে পারে এক বহু স্তর বিশিষ্ট প্রভাব বিস্তার".    আলেকজান্ডার সাকুরভ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকা, রাশিয়া ও ইউরোপের আরও অনেক বিশিষ্ট পরিচালক দের ডেকে আনতে চান, আর তিনি নিজে অবশ্যই তাঁর ছাত্রদের জন্য এই পেশার প্রতি এক আন কম্প্রোমাইন্সিং, সততা ও প্রার্থনার বাস্তব রূপ হতে পারেন. বর্তমানের সিনেমা নিয়ে যারা কাজ করছেন, সেই সব যুব পরিচালকদের জন্য সাকুরভ একজন আধুনিক, প্রযুক্তিগত ভাবে অনেক এগিয়ে থাকা একজন পেশাদার চিত্র পরিচালকের বাস্তব উদাহরণ. শুধুশুধুই তো আর তাঁকে কয়েকদিন আগে মেক্সিকোতে আন্তর্জাতিক ডিজিট্যাল সিনেমার উন্নতির জন্য "এল পোচোতে" নামের বিখ্যাত সম্মান দেওয়া হয়নি.