কি করে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে পরিবেশ বিজ্ঞানকে খাপ খাওয়ানো যেতে পারে, পারমানবিক শক্তিকে বহু যুগ ধরে চলে আসা জীবনধারার সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে, এই নিয়ে মানব সমাজের সেরা মাথারা চিন্তা করেই চলেছেন. ভারতও এই প্রশ্ন নিয়ে ব্যস্ত. আগামী দশ বছরে দিল্লী পরিকল্পনা করেছে দেশের পারমানবিক শক্তি উত্পাদন ক্ষমতাকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করার – ২০ হাজার মেগাওয়াট তৈরী করার. পরিকল্পনা সফল হলে দ্রুত উন্নতিশীল ভারতীয় অর্থনীতির প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা মিটবে অনেকটাই, শক্তির বিষয়ে দেশের নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে. কিন্তু এই পথে সমস্ত না জানা বাধা আসছে, যা অতিক্রম করতে কম সময় খরচ হচ্ছে না.    বিষয় টি বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.    হরিপুরে পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র দেশে শান্তিপূর্ণ পরমাণু ব্যবহারে দ্বিতীয় রুশ ভারত সহযোগিতায় তৈরী প্রকল্প হতে পারত. এখন রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় দক্ষিণ ভারতের কুদানকুলামে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী হচ্ছে. হরিপুরে প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের গত বছরের রাশিয়া সফরের সময়ে. এই বছরের মার্চ মাসে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে আবারও এই কথার সমর্থন জানানো হয়. তখন দিল্লীতে সই করা হয়েছিল এক পথ নির্দেশিকার, যাতে রাশিয়ার প্রকল্প অনুযায়ী ভারতে পরপর কয়েকটি পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল. এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কুদানকুলাম ও হরিপুরে ছয়টি করে মোট বারোটি রিয়্যাক্টর বসানোর কথা হয়েছিল. প্রতিটি রিয়্যাক্টরের ক্ষমতা এক হাজার বা তারও বেশী মেগাওয়াট বিদ্যুত শক্তি.    হরিপুরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কাজকর্ম ভারতীয় পক্ষ থেকে এই বছরেই শুরু করার কথা ছিল, কিন্তু আপাততঃ তা সম্ভবপর হয় নি. সবই স্থানীয় জনতার প্রতিবাদের জন্য. ভারতের প্রশাসনের সমস্ত রকমের আশ্বাস স্বত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের জমি বিক্রী করতে রাজী হয় নি, যেখানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বসানোর কথা. স্থানীয় মেছোদের ভয় পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র হলে সমুদ্রে রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার পর গরম জল ফেলা হবে, তাহলে তাদের মাছ ধরার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে. এখানে অবশ্যই কিছু রাজনৈতিক দলের কীর্তি আছে, অংশতঃ স্থানীয় বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস জনসাধারণকে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে সমবেত করেছে.     আমরা রসঅ্যাটম সংস্থার প্রতিনিধি ভ্লাদিস্লাভ বীচকভ কে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বললে, তিনি বলেছেন:    "ভারতে যে সমস্ত রিয়্যাক্টর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে বসানো হচ্ছে, সেগুলি তৃতীয় প্রজন্মের রিয়্যাক্টরের চেয়েও উন্নত, তাদের উত্পাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট, অন্য ভাবে বললে, আমরা বলতে চাইছি একেবারে নতুন ধরনের রিয়্যাক্টরের কথা, যাদের বেশ কয়েক ধাপ নিরাপত্তা৩ বলয় রয়েছে, ক্ষমতাও বেশী. এটা রাশিয়ার পারমানবিক প্রযুক্তি উত্পাদন শিল্পের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি. শুধু রাশিয়া নয়, ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতেও এই রিয়্যাক্টর কোন ভাবেই সংলগ্ন অঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট করবে না, মাছ ধরার কোন ক্ষতি তো হবেই না. একই সময়ে বিদ্যুত শক্তি, যা পারমানবিক কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে, তা হরিপুরের বাসিন্দাদের বাড়তি রোজগারের পথ করে দেবে ও শ্রমকে সহজ করবে. এই সুন্দর জায়গায় নতুন জীবনের জোয়ার আসবে".    তা স্বত্ত্বেও ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদ পত্রে বলা হয়েছে যে, রাশিয়া ভারতকে পশ্চিমবঙ্গের হরিপুরের জায়গায় অন্য কোন জায়গা পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করার জায়গা দিতে বলেছে, সংবাদ পত্র জনৈক কর্তা ব্যক্তির কথা উদ্ধৃত করে লিখছে যে, দেশের পারমানবিক শক্তি দপ্তরে খুব খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে বর্তমানের পরিস্থিতি, সেখানে এখনও ভাবা হচ্ছে যে একটা সমাধানে আসা সম্ভব.    কি আর করা যাবে, এই রকম অন্য দেশেও হয়ে তাকে, স্থানীয় জনতা কোন না কোন প্রকল্পের বিরুদ্ধে গিয়েই থাকে. আমাদের দেশেও এই রকম হয়েছিল, সোচী শহরে অলিম্পিকের জন্য নির্মাণের জমি নিয়ে, এই শহরের কিছু বাসিন্দা তাদের জমিতে অলিম্পিকের নির্মাণ কাজ হোক, তা চায় নি. কিন্তু শেষ অবধি সকলের ভাল হয় এমন সমাধান পাওয়া গিয়েছিল, তাই আমরা আশা করব যে, হরিপুরের সমস্যাও সমাধান হবে.