আমেরিকার স্থাবর সম্পত্তির বাজারে সমস্যা সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে. সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থাবর সম্পত্তির বাজার সম্বন্ধে প্রকাশিত তথ্য ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ার বাজারে ধ্বস নামিয়েছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ২০০৮ সালের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সঙ্কট শুরু হয়েছিল স্থাবর সম্পত্তির বাজার থেকেই. এখন অনেকেই সভয়ে অপেক্ষা করছেন সঙ্কটের দ্বিতীয় ঢেউয়ের.    বাড়ীঘরের দাম কমা নিয়ে যে পরিস্থিতি, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে. ভেদোমস্তি সংবাদ সংস্থা ব্লুমবর্গ সংস্থার তথ্য উদ্ধৃতি করে দেখিয়েছে যে, মার্কিন অর্থনীতির নয়টির মধ্যে আটটি সঙ্কটের কারণ ছিল এই শিল্পের সমস্যা. কিন্তু বর্তমানের সঙ্কটের কারণ আরও বেশী দূর প্রসারিত. ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের পর আমেরিকার সমাজে ভয় দূর করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ভান্ডার থেকে খুব বেশী বিনামূল্যে অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার লোকসভার বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরিষদের সদস্য পাভেল মেদভেদেভ, তিনি আরও বলেছেন:    "আমেরিকার লোকেরা খুবই বাড়ী কিনতে চায়. যেহেতু বাজারে অর্থের সরবরাহ ছিল প্রচুর, তাই প্রথমে বাড়ী কিনতে ধার দেওয়া হয়েছিল সেই সমস্ত লোকেদের, যারা শোধ করতে পারবে, তারপরে তাদের যারা হয়ত পারবে বা পারবে না. তারপরে দেওয়া হয়েছিল তাদের, যাদের দেওয়া কোন ভাবেই উচিত ছিল না. এটাই ছিল সঙ্কটের মুখ্য কারণ. সস্তা অর্থের যোগান লম্বা সময়ের জন্য. এখন আমরা যা দেখছি, তা সেই সময়ের ঘটনার কারণ. বহু বাড়ী এমন সব লোকের হাতে ছিল, যারা তার জন্য ধার শোধ করার উপযুক্ত নন, আর সেই সমস্ত বাড়ী চলে এসেছে ব্যাঙ্কের হাতে. অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য এখন ব্যাঙ্ক গুলিকে এই সব বাড়ী বেচতে হবে. বাড়ীর সংখ্যা খুবই বেশী, তাই বাজারে ধ্বস নেমেছে".বর্তমানের স্থাবর সম্পত্তির বাজারের হাল খারাপ হওয়ার কারণ হল এই পরিস্থিতি এখনও চলছে. বাড়ীর দাম কমা, শেয়ার বাজারে মন্দা ও ব্যাঙ্ক গুলি ঋণ দিতে পারছে না বলে সার্বিক ভাবে কম সক্রিয়তা দেখা দিয়েছে. জনতার আয় কমছে, তার সঙ্গে কমছে চাহিদাও, গ্রাহকেরা সব কিছুতেই খরচ কমাচ্ছেন, ফলে কোম্পানী গুলির ক্ষতি হচ্ছে ও তারাও বিনিয়োগ ও ব্যয় কমাচ্ছে.এই রকমের চক্র থেকে বেরোনোর কোন পরিষ্কার পদ্ধতি জানা নেই. বলা যেতে পারে ইউরোপে বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য ইউরোপীয় সংঘের মোকাবিলার রাজনীতি কিছুদিন আগেও সারা পৃথিবীতে বাহবা পেলেও, বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন খুব সুবুদ্ধির কাজ হয় নি. শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে উন্নতির হার কমেছে দেখার মতো, তাই বিনিয়োগ কারীদের ইউরোপীয় এলাকার উপর ভরসা কমেছে. আর সম্ভবতঃ এই কারণেই নতুন আর্থিক সঙ্কটের ঢেউ আসতে চলেছে, তার সঙ্গে আমেরিকার স্থাবর সম্পত্তির বাজারের মন্দার হয়ত তেমন যোগ নেই. রাশিয়ার হায়ার স্কুল অব ইকনমিক্সের আন্তর্জাতিক অর্থ বিনিয়োগ শাখার প্রধান ভ্লাদিমির ইভস্তিগনিয়েভ বলেছেন:"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থাবর সম্পত্তির বাজারের মন্দা নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে না. সঙ্কটের বিপদ আমি এখন দেখছি না, তা হতে লাগবে আরও পাঁচ সাত বছর. তা হবে বিশাল সোভেরিন ফান্ড থেকে নেওয়া মার্কিন ও ইউরোপীয় ধারের কারণে, আর সেই সঙ্কট বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী হবে".প্রসঙ্গতঃ অর্থনীতি অঙ্ক নয়, এমনকি শুরুতে সব এক রকম হলেও পরে নানারকম হতেই পারে. কিন্তু বিনিয়োগ কারীরা আবারও চুপ করে আছেন, অপেক্ষা করছেন পরবর্তী ঝুঁকি সমেত বিনিয়োগ করার সঙ্কেতের অপেক্ষায়.