জল – জীবন ঠিকই, কিন্তু যখন জল অনেক বেশী – তখন তা মৃত্যু ও ধ্বংসের দূতও হতে পারে. রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্থানে অতুলনীয় বন্যায় প্রায় ২ কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যে ষাট লক্ষের জন্য প্রয়োজন অনতিবিলম্বে মানবিক সাহায্য. মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারেরও বেশী. বন্যা পাকিস্থানের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হেনেছে.    এই দেশের পরিস্থিতির সম্বন্ধে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ:    রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান কী মুন কিছুদিন আগে পাকিস্থান সফর করে এসে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখে বলেছেন "বিশ্বমানের বিপর্যয়" এবং সমস্ত দেশকে আহ্বান করেছেন পাকিস্থানকে সাধ্য মতো সাহায্য করতে. এই ধরনের সাহায্য ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে, রাশিয়া এবারের অস্বাভাবিক গরমে, দাবানলে জ্বলে যাওয়া বিশাল কেন্দ্রীয় এলাকায় নিজেদের দেশের বিপদ স্বত্ত্বেও পাকিস্থানে দুটি বিমান ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে. ইসলামাবাদে পৌঁছনো দ্বিতীয় বিমানে গিয়েছে ৪২টন মাল, তার মধ্যে খাদ্য দ্রব্য, জেনারেটর, কম্বল, তাঁবু ও অন্যান্য প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানের জলে ডুবে যাওয়া এলাকা গুলির পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠিয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ, ভারত ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর থেকে পাকিস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হলেও পাকিস্থানকে সাহায্য হিসাবে পঞ্চাশ লক্ষ ডলার সাহায্য দিতে চেয়েছে.মানবিক সাহায্য এবং সহায়তা পাকিস্তানের প্রশাসন ও মানুষেরা খুব কৃতজ্ঞতা স্বীকারের সঙ্গেই নিয়েছেন. পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান শাহ মাহমুদ কুরেশীর কথামতো, আন্তর্জাতিক সমাজের তরফ থেকে ইসলামাবাদকে ৮ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে দানী দের কাছে বন্যা পীড়িত পাকিস্থানের জন্য যে চাওয়া সাহায্য তার হিসাবে প্রায় দ্বিগুণ.    কিন্তু সমস্ত বিদেশী সাহায্যের বিরুদ্ধে পাকিস্থানের চরম পন্থী ও সন্ত্রাসবাদী দল গুলি সরব হয়েছে. তারা পাকিস্থানের লোকেদের বিদেশী সাহায্য নিতে অস্বীকার করে তাদের নিজেদের কাছ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য নিতে বলছে. আমরা পাকিস্থানের চরমপন্থীদের এই ধরনের অবস্থান সম্বন্ধে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ কে মন্তব্য করতে অনুরোধ করেছিলাম, তিনি তার উত্তরে বলেছেন:    "আমি দুটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করব. প্রথমতঃ যখন চরমপন্থী দল গুলি বিদেশী সাহায্য নিতে বারণ করছে ও তাদের কাছ থেকেই নিতে বলছে, তখন তারা পাকিস্থানের সমাজের মধ্যে শুধু আমেরিকার বিরুদ্ধেই নয়, বরং সমস্ত বিদেশীদের প্রতিই নেতিবাচক মনোভাব তৈরী করাতে চাইছে. এই ভাবে তারা পরিষ্কার মুসলিম জোট বাঁধার ব্যবস্থা করতে চাইছে. অবশ্যই তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তুলনায় খুব বেশী নয়, আর চরমপন্থীরা তো মনে হয় না যে, কোন সত্যিকারের সহায়তা করতে পারে. দ্বিতীয়তঃ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল জনতার মধ্যে চরমপন্থী ঐস্লামিক ধারণার প্রসার, কিন্তু শুধু এটাই নয়, চরমপন্থী ঐস্লামিক দল গুলি চাইছে নিজেদের প্রশাসনের বিরোধী পক্ষ হিসাবে পরিনত করতে ও সেই ভাবে দেশের এমনিতেই খারাপ সময়ে আরও বেশী করে সামাজিক সমস্যাকে অগ্নিগর্ভ করতে চাইছে, যেটা সত্যিই বিপজ্জনক. এ ছাড়া, তারা পাকিস্থানের বিশ্ব সমাজে অবস্থানকে নষ্ট করে দিয়ে দেশকে  আন্তর্জাতিক ভাবে কোন ঠাসা করতে চাইছে".    সত্যই বর্তমানের পাকিস্থানে অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়, তাদের অর্থনৈতিক ভাল অবস্থা অনেকটাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্যের উপর নির্ভরশীল, সেই সমস্ত দেশের বিনিয়োগ সংস্থা গুলির উপরে, যারা পাকিস্থানকে দান করে বাঁচিয়ে রেখেছে. এই সমস্ত সংস্থার কাছ থেকে সাহায্য নিতে না চাওয়ার মানে বহু লক্ষ মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে. তাছাড়া এই ধরনের অবস্থান শুধু প্রাকৃতিকই নয়, একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিপর্যয়েও পরিনত হতে পারে, যার ফলে দেশ আর থাকবে না ও এশিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি শুধু খারাপ হবে. এটা চায় না ও বুঝতে পারছে না তারাও, যারা আজ পাকিস্থানে বিদেশী সাহায্যের বিরুদ্ধে. কিন্তু পাকিস্থানের সরকার এটা ভাল করেই জানেন, যারা পাকিস্থানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেওয়া চরমপন্থী ঐস্লামিক দল গুলির কাজকর্ম বন্ধ করতে চাইছেন, আর লন্ডন থেকে প্রকাশিত আমেরিকার সংবাদপত্র "ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল" খবর দিয়েছে যে, পাকিস্থানের আই এস আই প্রথমবার ভারতের দিকে অঙ্গুলী প্রদর্শন না করে এই দলগুলিকেই দেশের জন্য প্রধান বিপদ বলে চিহ্নিত করেছে.