রুশ নাগরিক ভিক্তর বুট, থাইল্যান্ডের জেলে বেআইনি অস্ত্র পাচারের অপরাধে বন্দী আছে, তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে. এই রকমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ডের আপীল কোর্ট. আরও আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমেরিকার পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডে কোন প্রমাণ উপস্থিত করার প্রয়োজন নেই.    এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিক্তর বুট আফ্রিকায় বেআইনি অস্ত্র পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল. তাছাড়া আমেরিকার দেশান্তরিত করার আবেদনে এক অদ্ভূত কথা লেখা হয়েছিল – সে গোপন চুক্তি করেছিল আমেরিকার নাগরিকদের মারার জন্য. এই সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ করার অসুবিধা এবং তার রাজনৈতিক ধান্ধা দেখাই যাচ্ছিল, আর তাই থাইল্যান্ডের বিচারালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রুশ নাগরিক ভিক্তর বুট কে দিতে চায় নি. নিউ ইয়র্কের অভিশংসক দপ্তর তখন বুট কে পাওয়ার জন্য নতুন ভাবে আবেদন করে, তাতে লেখা হয় যে, সে বেআইনি ভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ও যেখানে সশস্ত্র যুদ্ধ হচ্ছে, সেই সব অঞ্চলে অস্ত্র পাচার করেছে এবং এদের মধ্যে আমেরিকার বানানো দুনিয়ার এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী দল আল কায়দা রয়েছে. এবারে থাইল্যান্ডের বিচারালয় আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ও আগামী তিন মাসের মধ্যে তাকে আমেরিকায় পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. রাশিয়ার আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ মারিনা সিলকিনা এই সূত্রে মন্তব্য করে বলেছেন:    "এবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ নিয়ে বেআইনি পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে, সব মিলিয়ে রাশিয়া ও উকিলেরা এখনও থাইল্যান্ডের আদালতের এই সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পারে, কিন্তু এটা হতে হবে কূটনৈতিক বলয়ে এবং নির্দিষ্ট কোন বিচার সম্বন্ধে কাজ করতে গিয়ে. দুঃখের কথা হল, আমাদের সমস্ত কিছুই তো আর আন্তর্জাতিক আইনে লেখা নেই. আর তা এত ব্যক্তি নির্দিষ্ট করে লেখাও সম্ভব নয়".    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর চুপ করে নেই, সমস্ত বিষয় টিকেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে, আর তাই থাইল্যান্ডের আপীল কোর্ট এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন যে, "এটা বেআইনি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত. তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে যা খবর আছে, তা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রবল চাপের কাছে নতি স্বীকার করে. আর এটা দুঃখজনক. রাশিয়া সব কিছুই করবে, যাতে ভিক্তর বুট কে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়".    তিন মাসের মধ্যে আমেরিকাতে নিয়ে যেতে হবে ভিক্তর বুট কে, এই কথা বলা আছে আন্তর্জাতিক আইনে. সুতরাং খুব সম্ভবতঃ, রুশ নাগরিক আমেরিকার কোর্টে দাঁড়াবেন. উকিলেরা ভয় পাচ্ছেন যে, আমেরিকাতে পৌঁছনোর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাল্টে যায়, তাই বর্তমানে মুখ্য প্রশ্ন হল – কি অপরাধের জন্য বিচার হবে ভিক্তর বুটের.