ইরানের বুশের শহরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হওয়া একটা প্রতীকী ঘটনা, যা প্রমাণ করেছে যে, রাশিয়া তার সমস্ত সহকর্মী দেশের কাছে দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাজ করেছে. ইরানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, যা আগামী ২১শে আগষ্ট চালু হতে চলেছে, তার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে "রসঅ্যাটম" সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো তাঁর রিপোর্টে দেশের সরকারের প্রধান ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এই কথা বলেছেন.সের্গেই কিরিয়েঙ্কো উল্লেখ করেছেন যে, বুশের শহরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র একটি বৃহত্ আন্তর্জাতিক প্রকল্প, কিন্তু তা বাস্তবায়িত করার মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে রাশিয়া. ২১শে আগষ্ট বুশের শহরে এক বছর আগে পাঠানো পারমানবিক জ্বালানী সহ আধার গুলি খোলা হবে ও তার পরে ভান্ডার থেকে এনে তা রিয়্যাক্টরে লাগানো হবে. এই ভাবেই কেন্দ্রের কাজ চালু হবে, এই রিয়্যাক্টরের ক্ষমতা এক হাজার মেগাওয়াট.এই প্রকল্পের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে. ১৯৭৪ সালে এই কেন্দ্র তৈরী হওয়া শুরু হয়েছিল জার্মানীর "সিমেন্স" কোম্পানীর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে. কিন্তু ইরানে ইসলাম আন্দোলনের জয়ের পর জার্মানী ইরানের সহকর্মীদের সাথে কাজ বন্ধ করে দেয়. তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানে প্রযুক্তি পাঠানো বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করে. শুধু ১৯৯৫ সালে আবার এই কেন্দ্র তৈরীর কাজ চালু করা সম্ভব হয়েছিল. তখন রাশিয়ার "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" কোম্পানীর সাথে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমানবিক সংস্থা চুক্তি স্বাক্ষর করে. এই দলিল অনুযায়ী রাশিয়া কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর নির্মাণে অংশ নিয়ে সহায়তা করে. এছাড়া চুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য একটি রিয়্যাক্টর ও তার জন্য জ্বালানী এবং ইরানের বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার. আর তার তিন বছর পরে দুই পক্ষ ঠিক করেছিল যে, রাশিয়া এই কেন্দ্র নির্মাণ সম্পূর্ণ করবে.ইরানের বুশের শহরে আবার রাশিয়ার পারমানবিক বিষয়ে ক্ষমতা দেখানো সম্ভব হয়েছে, "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" সংস্থার তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের সম্পাদিকা ওলগা তসীলিওভা এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:"বুশের শহরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র একটি বিশ্বমানের অতুলনীয় প্রকল্প. "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" কোম্পানীর পক্ষে শুধু জার্মান প্রকল্প অনুযায়ী নির্মাণ কাজের অংশের মধ্যেই রাশিয়ার যন্ত্রপাতি বসানোই সম্ভব হয় নি, বরং বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সময়ে জার্মানী থেকে এর আগে নিয়ে আসা ১২ হাজার টন যন্ত্র পাতিকেও কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে. যাঁরা এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁরা বাধ্য হয়েছেন এই প্রকল্পের জন্য এক সারি নতুন ও অভিনব প্রযুক্তি গত সিদ্ধান্ত নিতে এবং নো হাউ আবিষ্কার করেছেন, যাতে রাশিয়ার প্রযুক্তিকে এই জায়গার ইতিমধ্যেই উপস্থিত ক্ষমতার সঙ্গে একত্রীকরণ করা সম্ভব হয়".আবারও উল্লেখ করব যে, ইরানের বুশের শহরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনের সমস্ত নিয়ম মেনে এবং আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার যথেষ্ট কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে. বাস্তবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিশ্বের যে কোন দেশই শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে শুধু একটি শর্তে যে, এই বিষয়ে কাজ করা সম্ভব একমাত্র স্বচ্ছ ভাবে ও দায়িত্ব প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ মেনে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভের প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী, বুশের শহরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ইরানকে পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে কাঠামোর মধ্যে বেঁধে রাখার একটি নোঙর হয়েছে.এখনও জানা নেই যে, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের দেশে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করণ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে, যা বিশ্বে নির্দিষ্ট ভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়েছে. কিন্তু আজকেই বলা যেতে পারে যে, এই প্রকল্প এই দেশের সামনে অসামরিক পারমানবিক শক্তির বিষয়ে উন্নত দেশ গুলির সাথে এক সারিতে আসার সমস্ত সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে. আর রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা শুধু এই বিষয়ে সাহায্যই করবে. কারণ আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার রিয়্যাক্টর গুলিকে বিশ্বের অন্যতম ভরসার যোগ্য বলে স্বীকৃতী দিয়েছেন.