মানব সমাজ দেউলে হতে চলেছে. ইকোলজি বিষয়ে. দেউলে হওয়া শুরু হবে ২১শে আগষ্ট থেকে, গ্লোবাল ফুট প্রিন্ট নেটওয়ার্ক নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এই বার্তা তাঁদের রিপোর্টে লিখেছেন. এই দিন বিশ্বে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার যতটা প্রকৃতি নিজে থেকেই আবার উত্পন্ন করতে পারে, তার থেকে বেশী হওয়া শুরু হবে. এই হিসাব নিখুঁত বলে বেশ চমকে দেয়. যদি এই ইকোলজি বিষয়ে দেউলে হওয়ার দিন কোন শুক্রবার ১৩ তারিখ থেকে শুরু হত – তবে বোধহয় আরও বেশী চমকে দিত.    এই দিন থেকে শুরু হতে চলেছে সমুদ্র ও নদীর জল শেষ হওয়ার দিন, কারণ আরও বেশী করে মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী মেরে ফেলা হবে, যতটা স্বাভাবিক ভাবে প্রকৃতি ভর্তুকি দিতে পারে তার থেকে. মানব সমাজ প্রতি মিনিটের সঙ্গে ৬৫ খানা ফুটবল মাঠের সমান আয়তনের বনাঞ্চল হারাবে. প্রকৃতিতে কার্বন যৌগ গ্যাসের পরিমান সমস্ত রকমের মাত্রা ছাড়ানো শুরু করবে, আর মানুষের উপরে আসবে প্রবল গরম, ঝঞ্ঝা, বিধ্বংসী বন্যা ও বিপর্যয় সৃষ্টি কারী অগ্নিকাণ্ড.     বহু দিন ধরে মানুষের তার পরিবেশের উপর প্রভাবকে পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে. তাঁরা প্রতি বছরে মানুষ কতটা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে, আর তার কতখানি প্রকৃতি আবার ভর্তি করতে পারে, তার উপরে তুলনা করেই এই রিপোর্ট তৈরী করেছেন.    ইকোলজিস্টরা যে পট রচনা করেছেন, তা অবশ্যই ভয়ঙ্কর. একই সময়ে তাঁদের মতে, মানুষের পরিবেশের উপর প্রভাব কমানো খুবই সহজ. শুধু কম করে মাংস খেতে হবে, যাতায়াত করতে হবে গাড়ীর বদলে মেট্রো বা সাইকেল চেপে, আর আবার ফিরে পাওয়ার যোগ্য শক্তির উত্সের ব্যবহার বাড়াতে হবে.    একদল দেশ এই দিকে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে. রাশিয়াতে অবস্থা সব মিলিয়ে খুব খারাপ নয়. একজন গড় রুশ লোক একজন গড় মার্কিন লোকের চেয়ে পরিবেশ দূষণ অর্ধেক কম করে থাকেন. কিন্তু আবার ফিরে পাওয়ার মত জ্বালানী শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়াতে বিগত কিছু সময় আগে পর্যন্ত খুব কমই নজর দেওয়া হয়েছে. এখন পরিস্থিতির বদল হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার প্রকৃতি সংরক্ষণ রাজনীতি সংক্রান্ত পরিষদের ডিরেক্টর ইভগেনি শভার্ত্স বলেছেন:    "অবশ্যই উচিত হবে কম কার্বন – হাইড্রোজেন যৌগের জ্বালানী ব্যবহার করে, তার জায়গায় আবার ফেরানো যায় এমন শক্তি ব্যবহার করা. আর জ্বালানী শক্তি নিয়ে বলতে গেলে – আমরা গর্ব করতে পারি যে, ২০০৮ সালের ৪ঠা জুন রাষ্ট্রপতি আমাদের অর্থনীতিতে শতকরা ৪০ ভাগ জ্বালানী সাশ্রয়ের প্রয়োজন বিষয়ে নির্দেশ স্বাক্ষর করেছেন. আর, বহু পক্ষ থেকে দেশের নেতাকে এই বহু প্রত্যাশিত নির্দেশ বদলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা স্বত্ত্বেও আপাততঃ সমস্ত কিছুই করা হচ্ছে খুবই গুরুত্ব দিয়ে. এই রকম সাশ্রয়ের উপযুক্ত সূচকের লক্ষ্য পূরণে ব্যবস্থা করেই কাজ করা হচ্ছে".    হতেই পারে যে, ফুট প্রিন্ট সংস্থার বিশেষজ্ঞরা রঙ চড়াচ্ছেন. আর ইকোলজি বিষয়ে দেউলে হওয়া বোধহয় অতটা নিকট সম্ভাব্য বিষয় নয়. কিন্তু তাও সহজ অঙ্ক করে দেখা হিসাবে দেখা গিয়েছে যে, বর্তমানের মানব সমাজের এখনকার মতো সমস্ত চাহিদা পূরণ করতে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে দেড় গুণ বড় গ্রহের প্রয়োজন. অথচ নতুন গ্রহ ২১ শে আগষ্টের আগে – অর্থাত্ বর্তমানের ইকোলজি বিষয়ে দেউলে হওয়ার দিন বা তার থেকে বেশ কিছু দিন পরেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, কেউ তার আশ্বাসও দেয় নি. বোধহয়, সত্যই মানব সমাজের উচিত হবে এখন গাড়ী ছেড়ে সাইকেল চাপা.