রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর তীরের পর্যটন ও সামুদ্রিক বিশ্রাম কেন্দ্র সোচী শহরে রাশিয়া, আফগানিস্থান, তাজিকিস্থান ও পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতিদের দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক হয়েছে. তৃতীয় বৈঠকের জন্য সব পক্ষই তাজিকিস্থানের দুশানবে শহরকে নির্বাচন করেছেন. এই ঘটে যাওয়া বৈঠকের কয়েকটি আলোচ্য বিষয়ের ফল সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন আমাদের সমীক্ষক ভিক্তর এনিকিয়েভ.সত্য বলতেই হবে যে, মাত্র কয়েক বছর আগেই এই ধরনের দেশের নেতাদের শীর্ষ বৈঠক অসম্ভব বলে মনে হতে পারত. তার কারণ রাশিয়া অংশতঃ ভারতের প্রতিক্রিয়াকে খেয়াল না করে এশিয়াতে কোন কাজ করত না. মস্কোতে খুব একটা সহজ ছিল না গত শতকের সত্তরের দশকে আফগানিস্থানে অনুপ্রবেশের পরে এই দেশের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপন করা. আর পাকিস্থান, উদাহরণ হিসাবে, ঐতিহ্য মেনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বেশী ঢলে ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে বেশী যোগাযোগ ও সম্পর্ক ভাল করার জন্য বিশেষ ইচ্ছা দেখায় নি. এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে. তাজিকিস্থান, পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেও কিছু জটিলতা ছিল.চার দেশ নেতাদের দ্বিতীয় বৈঠক প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে নূতন ভূ- রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা সমস্ত অংশগ্রহণকারী দেশেরই স্বার্থ সিদ্ধি করে. এর বেশীর ভাগ অংশই মস্কোর কোন জোট গঠন বিরোধী, কোন বিশিষ্ট মতবাদ প্রচার ছাড়া রাজনীতির উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়েছে, যা তার এশিয়ার দিকের পররাষ্ট্র রাজনীতির ভেক্টর কে শক্ত করার জন্যই করা হয়েছে. কিন্তু রাশিয়া, আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও তাজিকিস্থানের সম্পর্কে জোড় লাগার মূল কারণ হল এই দেশ গুলির জন্য সম্মিলিত বিপদের আশংকা, সমস্যা ও বিপদ, যা বিগত বছর গুলিতে খুবই বেশী করে স্পষ্ট হয়ে দেখা দিচ্ছে. প্রধান বিপদ অবশ্যই আফগানিস্থান থেকে সন্ত্রাস বাদ ও মাদক পাচারের সমস্যা. শুধুশুধুই তো আর সে বিষয় টিকে গতকালের যৌথ আলোচনার অন্যতম বিষয় বা চার দেশের রাষ্ট্রপতিদের যৌথ ঘোষণার মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুখ্য বিপদ বলে উল্লেখ করা হয় নি. এই প্রসঙ্গে বোঝা দরকার যে, এই ব্যাধির দূষিত কোষ বর্তমানে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে. তাই খুবই স্বাভাবিক যে, আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও তাজিকিস্থানের রাষ্ট্রপতিরা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভকে তাঁর সম্মিলিত ভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করার আহ্বানে সমর্থন করেছেন. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল এই কাজের জন্য আরও বেশী করে সাহাই সহযোগিতা সংস্থা ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থাকে সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে সকলের সমর্থন পাওয়া. এই পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা হয়েছে যে, চার দেশের বৈঠকে এই দেশ গুলির উপরোক্ত দুই সংস্থার প্রতি আগ্রহের বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যার সদস্য দেশ হল রাশিয়া ও তাজিকিস্থান.উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সোচী শহরের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশ গুলি পরিস্কার ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প গুলির প্রতি – যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানী শক্তি, পরিবহন ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবহার যোগ্য খনিজ উত্পাদন এবং আরও অনেক গুলি বিভিন্ন বিষয়ের প্রকল্প. রাশিয়া নিজেদের দিক থেকে পরিস্কার করে বুঝতে দিয়েছে যে, আফগানিস্থান ও পাকিস্থানের সঙ্গে বিষদ ভাবে ঘনিষ্ঠ এবং প্রসারিত সহযোগিতা করতে আগ্রহী. মস্কোর পক্ষ থেকে পাকিস্থানের বিধ্বংসী বন্যায় পীড়িত দের জন্য মানবিক সামগ্রীর সহায়তা প্রেরণ এবং রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে বিষয়টিকে নিয়ে আলোচনার আশ্বাস – এই ধারণা কাজে পরিনত করতে চাওয়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে মনে করা যেতে পারে. অন্য কথায় বলতে হলে এখন সাহস করে বলা যেতে পারে যে, রাশিয়ার উপরোক্ত দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক এক গুণগত ভাবে বেশী উঁচু মানের সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়েছে এবং তা এই এশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে.