মধ্য এশিয়াতে নতুন সহযোগিতার কাঠামো তৈরী হচ্ছে. বুধবার ১৮ই আগষ্ট রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর তীরের পর্যটন ও স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র সোচী শহরে এর মধ্যেই দ্বিতীয় বার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই, পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ও তাজিকিস্থানের রাষ্ট্রপতি এমোমালি রাখমোন শীর্ষ বৈঠকে বসতে চলেছেন.    আগামী শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার মুখ্য বিষয় অনেকটাই নির্দিষ্ট হয়েছে পাকিস্থানের উপর নেমে আসা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ক্রমবর্ধমান খবরের পরিমানে যে, আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোটের সেনা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসফল ইত্যাদি দিয়ে. এই কাঠামোতে সমস্ত মূল বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে, তার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসের মোকাবিলা পর্যন্ত. এই চারটি দেশের সম্মিলিত এলাকা, যা অনেক গুলি নানা রকমের প্রকল্প দিয়ে ভর্তি করা যেতে পারে, তা জ্বালানী শক্তি উত্পাদন বিষয়ে, রেল পথ নির্মাণে, আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারে ও আরও নানা বিষয়ে. এই সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন আমাদের রেডিও স্টেশনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি, তিনি বলেছেন:    "যদি আমরা মানচিত্রের দিকে দেখি, তাহলে আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও তাজিকিস্থান – এরা প্রতিবেশী দেশ, যাদের মধ্যে জাতিগত ভাবে, সংস্কৃতির পরিসরে ও রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যোগ সূত্র রয়েছে. আর রাশিয়া এই অঞ্চলে সব সময়ই ছিল. তার সাহায্য এই তিনটি খুব একটা সহজ সময় পার না হয়ে আসা দেশের উন্নতির জন্য অবশ্যই খুবই প্রয়োজনীয় হতে পারে. রাশিয়ার সাহায্য প্রথমতঃ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে নিরাপত্তার প্রসঙ্গে. আর হতে পারে যে, রাশিয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়াতে সহায়তা করতে পারে. বর্তমানে তাজিকিস্থান ও আফগানিস্থান, বিশেষ করে পাকিস্থান – খুবই প্রয়োজন বোধ করেছে অর্থনৈতিক সাহায্য ও সমর্থনের. রাশিয়া বিশ্বের অন্যান্য সদস্য দেশ গুলির সঙ্গে একসাথে অন্ততঃ কিছু সমস্যার সমাধান করতেই পারে, যা এই অঞ্চলে বর্তমানে রয়েছে".    আফগানিস্থান – এটি প্রাথমিক ভাবে মাদক পাচারের সমস্যা, যা ট্রানজিট হয়ে রাশিয়াতে পৌঁছে যাচ্ছে. পাকিস্থান – সামরিক নিরাপত্তা এবং পারমানবিক ক্ষমতার সংরক্ষণ, যা কোন ক্রমেই সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়তে দেওয়া যাবে না. আর তাজিকিস্থান – "এটা সীমান্ত অঞ্চল, এমন দেশ, যার মধ্য দিয়েই রাশিয়াতে মাদক পাচার হচ্ছে. আজকে এই সব দেশের ভিতরে যা কিছু হচ্ছে, তা আমাদের দেশের পরিস্থিতির সঙ্গেও সরাসরি ভাবে যুক্ত, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ, অর্থনীতি ও জাতির স্বাস্থ্যের সঙ্কট". এই কথা দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে মনে করেছেন রাশিয়ার লোকসভার পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত পরিষদের প্রধান কনস্তানতিন কোসাচেভ. "তাই রাশিয়া এই ক্ষেত্রে দেশ গুলি যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, তার সমাধানের জন্য ভাল অর্থেই সহ অংশীদার দেশ হতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা সম্প্রদান করে – তা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক – সামরিক বা সামাজিক যে কোন ক্ষেত্রেই হোক".    চতুর্দেশীয় এই সম্মেলনের "মাঠে" পরিকল্পিত আছে রাশিয়া ও আফগানিস্থান, রাশিয়া ও পাকিস্থান এবং রাশিয়াও তাজিকিস্থানের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে.