এই বছরের শেষের আগেই রাশিয়ার উপগ্রহের মাধ্যমে দিক নির্ণয় ব্যবস্থা গ্লোনাসস কাজ করতে শুরু করবে, যা আমেরিকার জি পি এস ব্যবস্থার অনুরূপ. এই সম্বন্ধে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার (রসকসমস)প্রধান আনাতোলি পের্মিনভ বলেছেন:"যাতে গ্লোনাসস বিশ্বের যে কোন জায়গায় সফল ভাবে কাজ করে, তার জন্য কক্ষপথে কম করে হলেও এক সঙ্গে ২৪টি উপগ্রহ থাকা দরকার. বর্তমানে কক্ষপথে কর্মরত অবস্থায় বাস্তবে রয়েছে ২১টি উপগ্রহ, আমরা আশা করছি যে, এই বছরে পূর্ব্ব পরিকল্পনা মত সময়ের মধ্যে সমস্ত উপগ্রহ পাঠানো সম্ভব হবে ও আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ২৪টি বা তা থেকে বেশী উপগ্রহ কক্ষপথে থাকবে".রসকসমস সংস্থার প্রধান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্বন্ধে কথা বলেছেন, আর্কটিকা নামে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সৃষ্টি, যা খেয়াল রাখবে এই অঞ্চলের জল বায়ুর পরিবর্তন এবং ভূ তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজে সাহায্য করবে. তিনি বলেছেন:"আর্কটিকা – বিশ্বের আবহাওয়ার রান্নাঘর, বিশেষত রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ. অংশতঃ এই জন্য যে, বিশ্বের উষ্ণায়ন প্রাথমিক ভাবে প্রভাব ফেলবে উত্তরের অঞ্চল গুলিতে. কিন্তু ৬০ – ৮০ ডিগ্রীর উপরে বর্তমানে একটিও মহাকাশ ব্যবস্থা কাজ করছে না. আর্কটিক অঞ্চলের অনুসন্ধান ও সমুদ্র তীর অঞ্চলে খনিজ তেল, গ্যাস ইত্যাদি নিষ্কাশনের শিল্প নির্মাণের জন্য আবশ্যিক হবে স্থায়ী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার. এইটি সকলেই বুঝতে পেরেছেন".মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আর্কটিকা আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় হতে পারে. আনাতোলি পের্মিনভের কথা মতো, এই দিকেই কাজ করছেন কানাডার বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সহযোগিতার বিষয়ে ও প্রকল্পের বিষয়ে ইতালি ও বহু এশিয়ার দেশই এগিয়ে এসেছে. রসকসমস সংস্থার প্রধান মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কর্ম উপযোগিতা এখনও অনেক বাকী. তাঁর মতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন কক্ষপথে এখনও কম করে হলেও বছর দশেক কাজ করতে পারে, আর তার কিছু মডিউল প্রায় দ্বিগুণ বেশী সময় কর্ম উপযোগী থাকবে. ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশন আন্তর্গ্রহ অভিযানের জন্য মহাকাশ বন্দরে পরিণত হতে পারে, যেমন মঙ্গল গ্রহে. এটা আগামী কালই ঘটছে না, তবে রসকসমসের প্রধানের মতে মানুষ মঙ্গল গ্রহে যাত্রা করবে ২০৩০ – ৩৫ সাল নাগাদ. যদিও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ২৫ বছর খুব বড় কোন সময় নয়. আনাতোলি পের্মিনভ উল্লেখ করেছেন, এই সময় কেটে যাবে দ্রুত – যেন মাত্র একটি দিন.