রাশিয়াতে বর্তমানে বেবি – বুম. গত তিন বছরে দেশে জন্মের হার বেড়েছে শতকরা ২১ ভাগ. গত শতকের ৯০ এর দশকে শুরু হওয়া খুবই উদ্বেগ জনক বাত্সরিক জন সংখ্যার হার কমে যাওয়ার যে ধারা চালু হয়েছিল পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে, তার দিক পরিবর্তন হয়েছে. রাশিয়ার প্রশাসনের প্রাথমিক কাজের একটা ছিল জন সংখ্যার হার বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা. মাতৃত্ব, শৈশব ও পরিবার সংরক্ষণের জন্য দেশে একাধিক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল. সরকার ঠিক করেছিল যে সমস্ত পরিবারে দ্বিতীয় বা তার পরে আরও শিশু জন্ম নেবে, তাদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করার. আর তাই ২০০৭ সালের পয়লা জানুয়ারী থেকে পরিবারে শিশুর জন্ম হলেই মা বাবারা প্রায় ১০ হাজার ইউরো মাতৃত্ব ধন হিসাবে পেতে শুরু করেছিল. এই কার্যক্রমের প্রথম বছরেই দেশে পাঁচ লক্ষ আশি হাজার পরিবার তার সুযোগ নিয়েছে.যদিও অবাক হওয়ার মত কিছু ঘটে নি, তবুও উন্নতি দেখাই যাচ্ছে. যদি ২০০৬ সালে ২০০৬ সালে দেশে প্রতি সন্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন মেয়েদের মাথাপিছু ১, ২ শতাংশ শিশু জন্মের হার থেকে থাকে, তবে বর্তমানে সেই হার হয়েছে ১, ৮ শতাংশ. তুলনা মূলক ভাবে জাপানে এই হার ১, ২২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ১, ২৭ শতাংশ আর স্পেন ও ইতালিতে ১, ৩ শতাংশ.জন্ম হার বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন শিশু চিকিত্সকেরাও. সতেরো বছরের কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্না শিশু চিকিত্সক গালিনা গুবানোভা শিশু জন্মের ক্রমবর্ধমান হার খেয়াল করে বলেছেন:"আমার মতে নব্বই এর দশকের তুলনায় দেশে জন্মের হার বেড়েছে, তার মধ্যে আবার বহু সন্তান সহ পরিবারের সংখ্যাও বেড়েছে. গত কয়েক বছরে এমন সব পরিবারই বেড়েছে, যেখানে শিশুরা পরিবারের কাম্য নব আগন্তুক এবং পূর্ব্ব পরিকল্পিত. এর অর্থ হল, জন্ম দাতারা শিশুর জন্য তৈরী, তাঁরা শুধু আর্থিক ভাবেই নয়, শারীরিক ভাবেও তৈরী". একই সঙ্গে চিকিত্সক উল্লেখ করেছেন যে, বেশীর ভাগ মায়েরই ইচ্ছা নিজেদের শিশু দের মাতৃ দুগ্ধ দিয়ে বড় করার, অথচ বিগত দশকেও বেশীর ভাগ শিশু বড় হয়েছে কৃত্রিম শিশু খাদ্যে. তাই তিনি বলেছেন:"নব্বই এর দশকে মায়েরা শিশুকে স্তন্য পান করিয়ে নিজেদের শরীরের গঠন খারাপ করতে চাইতেন না. আর এখন তাঁরা বেশী করে চাইছেন শিশুর যেন স্বাস্থ্য ভাল হয়. কারণ শুধু মাতৃ দুগ্ধেই শিশুর স্বাভাবিক ও সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি হয়, যা তার সারা জীবনই কাজে লাগে".রাশিয়াতে আজ মহিলারা বেশী করে শিশু জন্ম দিচ্ছেন, নিজেদের শরীরের গঠনের কথা চিন্তা না করে মাতৃদুগ্ধ দিয়ে সন্তানকে বড় করছেন, এর মানে হল, তারা ভবিষ্যতের দিকে নিশ্চিত হয়ে তাকিয়ে আছেন. মস্কো, ইরকুতস্কের মত বড় শহর গুলিতে এই প্রথম জন্ম হার মৃত্যুর হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে. অনেক রাশিয়ার মেয়েই বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ার তৈরীর বদলে সংসার তৈরী করতে উত্সুক. আর বেবি – বুম হওয়ার কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশ ভেঙে যাওয়ার পরে অবশেষে একটা স্থিতিশীল অবস্থা এসেছে বলে.রাশিয়ায় জন সংখ্যার বৃদ্ধি সংক্রান্ত কার্যক্রমের মেয়াদ দশ বছর. পরিস্থিতির মূল গত পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন ২০১৫ সাল নাগাদ.