বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ায় অসাধারণ গরম এবং দাবানলের কুপরিণতিতে চিন্তিত. এ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা রাশিয়াবাসীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত এবং ইতিমধ্যে পরামর্শের গাইড-বুক প্রকাশ করেছে, যার উদ্দেশ্য হল- ক্ষতি যথাসম্ভব কমানো.   রাশিয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর বস্তুর পরিমাণ বিপুল. প্রথম স্থানে- কার্বন ডাই-অক্সাইড. অতি সামান্য মাত্রায়ও তা বিপজ্জনক. এটুকু বললেই যথেষ্ট হবে যে, অগ্নিকান্ডের সময় লোকে আগুনে পুড়ে তত মরে না, যতটা মরে কার্বন ডাই-অক্সাইডে বিষগ্রস্ত হয়ে. অন্য বিপদ- ধোঁয়াশা. কাঠ এবং পীট কয়লা পোড়া ধোঁয়ায় যে সব জিনিস থাকে তা বাতাস বয়ে নিয়ে যায় হাজার হাজার কিলোমিটার. পোড়ার অতি ক্ষুদ্র কণিকা অ্যালার্জির কারণ হয়ে ওঠে. তা গিয়ে জমে ফুসফুসে এবং কাশী জাগায়, যা ক্রনিক হয়ে উঠতে পারে – পোড়া বস্তু শরীর থেকে বার করা প্রায় অসম্ভব. তৃতীয় উপাদান- গরম. প্রায়ই তার দরুণ কার্ডিও-ভ্যাস্কুলার রোগ তীব্র হয়ে ওঠে, বলেন রাশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপাধ্যক্ষ তাতিয়ানা কলপাকোভাঃ   ৪-৫ দিনের নয়, আরও দীর্ঘকালীন ভীষণ গরম এবং তার সাথে বাতাসের দূষণ, স্বাস্থ্যের বিপুল ক্ষতি সাধন করে. অবশ্যই সবচেয়ে বেশি তা ক্ষতিকর বয়স্ক লোকেদের জন্য,  হৃদরোগে ও শ্বাসকষ্টে ভোগা লোকেদের জন্য এবং শিশুদের জন্য যাদের শরীরে তাপমাত্রার তারতম্য মানিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠে নি. সেইজন্য তাদের প্রতি আমাদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত্.   অসাধারণ গরম জল-জগতের জীবের শরীরের উপরও কঠোরভাবে প্রতিফলিত হয়. কৃষ্ণসাগরের উপকূলে ডলফিনগুলি আছাড় থেয়ে পড়ছে, ব্যাপক হারে মরছে মাছ, শামুক ইত্যাদি. ক্ষতি হচ্ছে বহু টনের, কিন্তু জলজগতের জীবদের কিভাবে সাহায্য করা যায় বিজ্ঞানীরা এখনও তার উত্তর দিতে পারছেন না.   তবে গরমের চেয়ে শরীরের আরও বেশি ক্ষতি সাধন করছে গুজব. যেমন, এমন তথ্য দেখা দিচ্ছে যে চের্নোবিল পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রের বিস্ফোরণের জন্য বনাগ্নি দেখা দিয়েছে. অবশ্য বিশেষজ্ঞরা সঙ্গে সঙ্গেই শান্ত করেছেনঃ কথা হতে পারে শুধু অবশিষ্ট তেজষ্ক্রিয়তার, যার পরিমাণ সামান্য. তবে, এই অসাধারণ গরম আর ধোঁয়াশার পরিস্থিতিতে তার পরিণতি অপ্রীতিকর হতে পারে.সেইজন্য মনস্তত্ত্ববিদরা এখন সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে, বাজে গুজবে বিশ্বাস না করতে এবং আশাবাদ না হারাতে পরামর্শ দিচ্ছেন.