আজ বিশ্ব ল্যাটা দিবস. ১৯৯২ সালে প্রথমবার এটা পালন করা হয়েছিল. উদ্যোগ নিয়েছিল ব্রিটেনের ল্যাটা লোকেদের ক্লাব.    শুরুটা ছিল ১৯৭৬ সালে ল্যাটা বিল পাস হওয়া থেকে. সেখানে লেখা হয়েছিল যে, এরপর থেকে প্রতি বছর ১৩ই আগষ্ট আন্তর্জাতিক বাঁহাতি লোকেদের দিবস পালিত হবে, যা বিশ্বের সমস্ত বাঁহাতি লোকেদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেবে. কিন্তু এই আন্দোলন গতি পেয়েছিল শুধু আশির দশকেই. কারণ ছিল রিভলবারের খাপ... একজন পুলিশ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল এই কারণে যে, সে ল্যাটা ছিল বসে রিভলবারের খাপ লাগাতো কোমরের বাম দিকে, আর পুলিশের নিয়মে বলা ছিল যে, খাপ লাগাতে হবে ডান দিকে. এখানে প্রশ্ন ছিল সুবিধার, আর পুলিশ কর্মীর জন্য এটা ছিল জীবন মরণ প্রশ্ন, আইনের সামনে এই প্রশ্নটাই ছিল পিছনের দ্বিতীয় সারিতে. আজ সংখ্যা তত্ত্ব বলে যে, বিশ্বের প্রায় প্রতি দশম ব্যক্তিই হয়ত বাঁহাতি. এমনকি ঐতিহাসিক ভাবে বেশী বাঁহাতি লোকেদের থাকার জায়গা নিয়েও এখন কথা বলা যেতে পারে, এই রকম মনে করে চিকিত্সা বিদ্যায় ডক্টরেট আনাতোলি চুপরিকোভ বলেছেন:    "ঐতিহাসিক ভাবেই বেশী ল্যাটা লোক থাকেন জাপানে, কারণ বোধহয় জাপানের হিরোগ্লিফ অক্ষর, যা মস্তিষ্কের ডান দিককে বেশী কাজ করতে বাধ্য করে, যার সঙ্গে বাঁহাতি হওয়া জড়িত. বারবার পড়া মুখস্ত করার বিরুদ্ধে বেশী বাচ্চা ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় বলে সেখানে ল্যাটা লোকের সংখ্যা বেশী, হলিউড তো ল্যাটা লোকেদের জড় হওয়ার সবচেয়ে বড় জায়গা বলে বিখ্যাত".    আমাদের দুনিয়া ঐতিহাসিক ভাবেই ডান হাতের লোকেদের জন্য বেশী করে প্রস্তুত, ল্যাটা লোকেদের সবসময়েই সমস্যা রয়েছে, কলম নিয়, স্কেল নিয়ে, কাঁচি নিয়ে, ছুরি নিয়ে, মেট্রোতে ঢোকার টার্নিকেট নিয়ে. এমনকি দাঁতে চিকিত্সার জন্য ফুটো করার মেশিনটাও শুধু ডান হাতের লোকেদের জন্য ব্যবস্থা করা.    বাঁহাতি লোকেদের জন্য জিনিস উত্পাদন বিশ্বে গত দশকেই শুরু হয়েছে আলাদা করে, কিন্তু তা খুব শীঘ্রই বড় মাপের শিল্পে পরিনত হওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা রাখে. রাশিয়াও এই সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টায় রয়েছে, আজ রাশিয়াতে বিশেষ করে বাঁহাতি দের জন্য বানানো হয়েছে চামচ, ঘড়ি, আংটা, হাতের লেখা শেখার বই, মানি ব্যাগ, কম্পিউটারের নানা ধরনের ব্যবহারিক অংশ ও আরও অনেক কিছু. বিশেষ বই বের হয়েছে ছোট বাঁহাতি বাচ্চাদের পড়াবার জন্য, তাদের জন্য মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন. ইন্টারনেটে ল্যাটা লোকেদের জন্য ক্লাব ও ফোরাম রয়েছে, যেখানে বাবা মায়েরা সমস্ত সমস্যা নিয়েই আলোচনা করতে পারেন.