প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বন্যা ও দাবানল – যা এই গরমে ইউরোপ ও রাশিয়াতে প্রবল আকারে হয়েছে, তা রাজনীতিবিদদের বাধ্য করেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে একসাথে মোকাবিলা করার বিষয়ে বক্তব্য প্রকাশ করতে. এই রকম একটি কেন্দ্র প্রয়োজন তা এখন সকলেই বুঝতে পারছেন.ইউরোপীয় সংঘের মধ্যে অন্তর্দেশীয় ভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিরসনের বিভাগ এর মধ্যেই তৈরী হয়েছে. কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, মস্কো ও ব্রাসেলসের মধ্যে এই ধরনের কাঠামো তৈরী করা খুবই বাস্তবিক, সেই কথা বুধবার ঘোষণা করেছেন রাশিয়াতে ইউরোপীয় সংঘের দূতাবাসের প্রধান ফের্নান্দো ভালেনসুয়েলা. ২০০৭ সালে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রী সের্গেই শইগুর প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠিত সের্বিয়ার নিশ শহরের আন্তর্জাতিক বিপর্যয় নিরসন কেন্দ্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করার জন্য রাশিয়া ও ইউরোপের সম্মিলিত কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে. ২০০৭ সালে ইতালি ও জার্মানীর সঙ্গে রাশিয়া একসাথে বিপজ্জনক জায়গা থেকে জনগণকে সরিয়ে নেওয়া, দাবানল আক্রান্ত অঞ্চলে সম্মিলিত ভাবে অগ্নি নির্বাপণ ইত্যাদি কাজ করেছিল ঐক্যবদ্ধ দলের হয়ে. এই সম্বন্ধে রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র সংক্রান্ত বিভাগের ডিরেক্টর ইউরি ব্রাঝনিকভ. বালকানের এই কেন্দ্রে অগ্নি নির্বাপণের জন্য বিমান বহর, মানবিক সহায়তার জন্য সামগ্রী ও মাইন নষ্ট করার জন্য ব্যাটালিয়ন থাকবে.মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, বছর দুয়েক আগে রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরা ইউরোপের লোকেদের বালকান অঞ্চলের জঙ্গলের দাবানল নিভাতে সাহায্য করেছিল, সুতরাং বিভিন্ন দেশের বিপর্যয় নিরসন কর্মীদের প্রায়ই কাঁধে কাঁধ দিয়ে বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়. আর তাই সেই ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতার কার্যকরী কাঠামো তৈরী করা স্বাভাবিক. এই প্রসঙ্গে ইউরি ব্রাঝনিকভ বলেছেন:"আমাদের মন্ত্রী সের্গেই শইগুর মুখ থেকে এই প্রস্তাব বেরিয়েছিল, সবচেয়ে কঠিন দাবানলে জ্বলে যাওয়া দিনগুলিতে. বিপর্যয় নিরসন দপ্তর বহুদিন ধরেই এই ধরনের ধারণাকে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছে. বাস্তবে সেই সমস্ত চুক্তি গুলিরই রূপায়ণ করা হতে চলেছে, যা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের সময়ে. এখানে ইউরোপীয় সংঘ অবশ্যই একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ কাঠামো, যারা সমস্ত কিছুই করে যৌথ নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করার জন্য. আর রাশিয়া, সন্দেহ নেই যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় ইউরোপীয় সংঘের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ এবং সাফল্যের সাথে সহযোগিতা করে এসেছে সব সময়, বর্তমানে অনেক দেশই এই ধারণাকে বাস্তবে পরিনত করার বিষয়ে সহমত হয়েছে". ইউরোপীয় সংঘের দেশ গুলি বিমান ব্যবহার করে অগ্নি নির্বপনের বিষয়ে ২০০৮ সালে একমত হতে পারে নি, তবুও রাশিয়া থেকে এই প্রস্তাব কার্যকরী করার বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে. শেষবার এই প্রসঙ্গ উঠেছিল রাষ্ট্রসংঘ আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ সম্মেলনে কোপেনহেগেন শহরে, এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার আবহাওয়া ও শক্তি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:"কোপেনহেগেন শহরে এক মতে আসা সম্ভব হয় নি. যদিও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে. এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ গুলিও সবচেয়ে কঠিন সমস্যা গুলিকে মোকাবিলা করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী নাও হতে পারে. এই সহযোগিতার কাঠামো হওয়া উচিত বহু মুখী, আশা করব মেক্সিকোতে পরবর্তী সম্মেলনের সময়ে এই বছরের ডিসেম্বর মাসে একটা চুক্তি করা সম্ভব হবে, অন্ততঃ আংশিক ভাবে. আর হতে পারে এক বছর বাদে, সমস্ত চুক্তিই গৃহীত হবে". ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের সম্মিলিত কেন্দ্র গঠনের ঘোষণা থেকে আশা করা সম্ভব হয়েছে যে, রাশিয়ার উদ্যোগ এই বারে সমর্থন পাবে. আর এর বাস্তবায়নের জন্য আবার তিন বছর ধরে অপেক্ষা করতে হবে না. এটা সত্য যে, এখনই কিছু বিষয় দেখা যাচ্ছে, যার থেকে সন্দেহ হতেই পারে যে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত কাজে পরিনত হবে খুব দ্রুত. রাশিয়াতে ইউরোপীয় সংঘের প্রতিনিধি ফের্নান্দো ভালেনসুয়েলা মন্তব্য করেছেন যে, এই বিষয়ে যদিও ইউরোপীয় সংঘ কেন্দ্র তৈরী করতে প্রস্তুত, কিন্তু তা আরও নির্দিষ্ট করে বলা হবে, যখন দেশ গুলি বর্তমানের সঙ্কট কাটিয়ে উঠবে.