তালিবদের বিরুদ্ধে আফগানিস্থানের সরকারি বাহিনী ও ন্যাটো জোটের সম্মিলিত বাহিনীর বিগত কিছু কাল ধরে চলা যুদ্ধে কোন দেখার মত সাফল্য পাওয়া যায় নি. দেশের রাজ্য গুলি থেকে আগের মতই বিভিন্ন প্রত্যন্ত জনপদে তালিবদের ক্ষমতা দখলের সংবাদ ভেসে আসছে. রাজধানীতেও পরিস্থিতি শান্ত নয়, নতুন পরপর কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী হানা এই কথাই প্রমাণ করে. তালিবদের পক্ষে যারা আছে, হতে পারে, তারা খুব একটা বেশী সংখ্যক নয় – কিন্তু তারা নিজেদের প্রকাশ খুবই বিরাট করে জাহির করছে.    এর মধ্যে কাবুলে, ইসলামাবাদের ও ওয়াশিংটনের মতই আবার করে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে তালিবদের সাথে. আমরা টেলিফোনে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, এই তথাকথিত আলোচনার উদ্দেশ্য কি তাই নিয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চেয়ে, তিনি বলেছেন:    "প্রতিটি তরফেরই পরিস্কার রাজনৈতিক ধান্ধা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, আমেরিকার ও তাদের জোটের বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা, যারা আজ আফগানিস্থানে রয়েছে, তাদের চেয়ে আফগান তালিবদের সংখ্যা খুবই কম. অথচ জোটের সেনারা তাদের উপর দখল বিস্তার করতে পারছে না, তালিবেরা গেরিলা যুদ্ধ করতে ভালই শিখেছে, তাদের হামলা সফল হচ্ছে, তারা পাকিস্থান ও আফগানিস্থানে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের লোকেরা চায় তালিবদের মধ্যে ভাঙন ধরিয়ে, যাদের তারা মধ্য পন্থী তালিব বলছে, তাদের অন্ততঃ সামরিক যুদ্ধ থেকে নিরস্ত করতে, হামিদ কারজাই ও এটা চান. পাকিস্থানের নেতৃত্ব তালিবদের সঙ্গে আলোচনার নামে, নিজেদের আফগানিস্থানে ভূমিকা স্থির করে ফেলতে চায়, দেখাতে চায় যে, পাকিস্থানকে ছাড়া আফগানিস্থানের রাজনীতি চলবে না. আর তালিবদের ধান্ধা হল, তারা আসলে কোন রকম ভাবেই আলোচনার পথে যেতে রাজী নয়, কিন্তু এই রকম একটা ভাব দেখিয়ে নেতাদের দিয়ে বলানো হচ্ছে যে, তারা নাকি আলোচনাতে বসতে চায়, যদিও তার আগে কিছু শর্ত পূরণ করা চাই. প্রথমেই সমস্ত বিদেশী সৈন্য দেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে, আর তার সঙ্গে তারা হামিদ কারজাই এর সঙ্গেও কোন রকম আলোচনা করতে তৈরী ময়, যাকে তারা নাম দিয়েছে আমেরিকার বেয়োনেটের উপর বসে থাকা কাবুলের মেয়র".    সুতরাং এটা আলোচনার বিষয়ে কোন সহমতে আসা নয়, বরং বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করতে বলা. তাহলে এক্ষেত্রে কাবুল, ইসলামাবাদ বা ওয়াশিংটনে যারা আলোচনার পক্ষে, তারা কি পেতে চায়?    "তালিবদের আলোচনাতে বসতে বাধ্য করতে পারার জন্য যে প্রধান কারণ থাকতে পারে, তা হল যদি আফগানের সরকারের বাহিনী ও ন্যাটো জোট এই দেশে কোন গুরুত্ত্বপূর্ণ সাফল্য পায় তবেই. কিন্তু তা তো নেই. তাই তালিবদের সাথে শান্তি আলোচনা অদূর ভবিষ্যতে শুরু হতে পারবে বলে মনে হয় না. চলুন কল্পনা করে দেখা যাক একটা বুদ্ধি সঙ্গত পরিস্থিতির পরিবর্তন: ধরা যাক জোট ও কাবুলের সরকার তালিবদের কিছু লোকের সাথে আলোচনায় বসতে পেরেছে, আর তাদের সরকারে অংশ নিতে দিয়েছে, তাহলে খুবই সম্ভব হতে পারে দুই রকমের পরিবর্তন. প্রথম হল, তালিবেরা আগে বা পরে যখনই হোক চুক্তির শ৪ত ভঙ্গ করবেই, যেমন, পাকিস্থানের নেতৃত্বের সঙ্গে সোয়াত উপত্যকাতে করেছিল, অথবা দ্বিতীয় হল, আফগানিস্থানের সরকারে তাদের উপস্থিতি তারা ব্যবহার করবে কিছু দিন পরে হামিদ কারজাই কে সরিয়ে নিজেরা আবার পুরো ক্ষমতায় আসতে. অন্য কোন ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব".