এই বছরের শেষের আগেই সারা পৃথিবী জুড়ে রাশিয়ার দিক নির্দেশ ব্যবস্থা গ্লোনাসস চালু হয়ে যাবে. এই বিষয়ে রিয়াজান শহরে মন্ত্রীসভার এক বাইরের বৈঠকে ঘোষণা করেছেন. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, সরকার বর্তমানে ২০২০ সাল পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রীয় রুশ উপগ্রহ নির্ভর বিশ্ব দিক নির্দেশ ব্যবস্থার লক্ষ্য নির্নায়ক পরিকল্পনার ধারণা তৈরী করছে.খুব তাড়াতাড়ি উপগ্রহ নির্ভর দিক নির্দেশ ব্যবস্থা দেশের পরিকাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিনত হতে চলেছে, যা অন্যান্য উন্নত দেশেও চালু হয়েছে. তাই গ্লোনাসস প্রয়োজন ও চাওয়া হয়েছে শুধু রাশিয়ার জন্যই নয়, বরং সারা পৃথিবীর জন্যই. উপগ্রহ নির্ভর দিক নির্দেশ ব্যবস্থার মূল অঙ্গ হল মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা ও তার ব্যবস্থা. বর্তমানে মহাকাশের কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে একুশটি রুশ উপগ্রহ – গ্লোনাসস – এম ব্যবস্থার মধ্যে. এই বছরের শেষের মধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে মহাকাশে আরও ছয়টি উপগ্রহ পাঠানোর. মহাকাশচারনা সংবাদ (নোভস্তি কসমোনাভতিকি)পত্রিকার সম্পাদক ইগর লিসভ বলেছেন:"এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশে নতুন একটি ধরনের উপগ্রহ গ্লোনাসস কা পাঠানো হতে চলেছে, যা ওজনে কম ও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করবার জন্য তৈরী করা হয়েছে, এর থেকে পাঠানো তথ্য বেশী সঠিক হবে. তারপরে এই দলের কক্ষপথে পরিবর্তন আনা হবে এবং পরে গ্লোনাসস এম উপগ্রহের জায়গা গ্লোনাসস কা নেবে".কক্ষপথে সবসময়েই ২৪ থেকে ২৮ টি এই উপগ্রহ থাকবে, গ্লোনাসস থেকে পাওয়া সঙ্কেত বিশ্বের সমস্ত জায়গা থেকেই নিশ্চিত ভাবে পাওয়া সম্ভব হবে. বর্তমানের বিশ্বে খুব কম দেশই আছে, যারা নিজেদের প্রযুক্তি, ক্ষমতা দিয়ে নিজেদের উপগ্রহ ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যেমন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জি পি এস ব্যবস্থা দিয়ে. চীন মাত্র কয়েকদিন আগে নিজেদের দিক নির্দেশ ব্যবস্থার জন্য পঞ্চম উপগ্রহ পাঠিয়েছে. আর ইউরোপের গ্যালীলিও উপগ্রহ দিক নির্দেশ ব্যবস্থা কাজ করতে শুরু করবে আগামী ২০১৪ সালে. আপাততঃ মহাকাশে এই ব্যবস্থার জন্য দুটি উপগ্রহ রয়েছে. সুতরাং রাশিয়া নিজেদের মহাকাশচারী দেশ হিসাবে অবস্থান শক্ত করে আগেই এগিয়ে রয়েছে.ভুললে চলবে না যে, বর্তমানে শতকরা ১০০ ভাগ চালু হওয়া আমেরিকার জি পি এস ব্যবস্থায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে. নিজেদের গঠন কাঠামো অনুযায়ী তা উত্তরের গোলার্ধের উপরের দিকে খুব একটা ভাল কাজ করে না. আর উত্তর মেরুর উপরে তো কাজই করে না. যদি মনে করা হয় যে, রাশিয়ার শতকরা ৪৫ ভাগ জায়গাই মেরু বলয়ের মধ্যে, তবে একমাত্র গ্লোনাসস ব্যবস্থা, যা উপরের গোলার্ধে কাজের উপযুক্ত, তা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়. আজ বহু দেশই গ্লোনাসস ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য উত্সাহ দেখিয়েছে. যাতে জি পি এস ব্যবস্থার একটা ব্যতিক্রম পাওয়া যায়. তার উপরে আমেরিকার ব্যবস্থার উপরে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে না চাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে. ভারতের সঙ্গে ইতিমধ্যেই গ্লোনাসস ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তি হয়ে রয়েছে, এই বিষয়ে ইউক্রেন ও বেলোরাশিয়া বিশেষ করে আগ্রহ দেখিয়েছে এক সাথে সহযোগিতা করার জন্য. লাতিন আমেরিকা ও আরব দুনিয়া থেকেও এই ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে.সুতরাং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, জি পি এস ও গ্লোনাসস প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরকে ভর্তুকি দিতে পারে. খুব তাড়াতাড়ি গ্রাহকেরা রুশ বা আমেরিকা যে কোন উপগ্রহ ব্যবস্থার সাহায্যেই অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে. ২০১১ সালের প্রথমার্ধেই বিশ্বের সমস্ত বড় উত্পাদক সংস্থা বহুল পরিমানে দুই ধরনের ব্যবস্থা জি পি এস – গ্লোনাসস একসাথে কাজ করতে পারে এই রকমের গ্রাহক যন্ত্র বাজারে ছাড়তে শুরু করবে.