মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে. পরমাণু কেন্দ্র নাথাঞ্জে দ্বিতীয় সেন্ট্রিফিউজের কাঠামো বসানো হয়েছে, যার ফলে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাওয়া যাবে. আর যদি এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে তেহরানের পরমাণু বোমা বানাতে আর এক পা ফেলা বাকী থাকবে.    ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সমাজকে অহেতুক উত্তেজিত করছে, তাদের সহ্য শক্তির পরীক্ষা নিচ্ছে. তার ওপরে এই সিদ্ধান্তে যারা এই সমস্যার সামরিক সমাধান করতে চায়. তাদের সুবিধাই হবে.    আগষ্ট মাসের শুরুতে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের সর্ব্বোচ্চ কার্যালয়ের প্রধান অ্যাডমিরাল মাইকেল মাল্লেন ইরানের পরমাণু কেন্দ্র গুলির উপর ডানা ওয়ালা রকেট ও স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান ব্যবহার করে বোমা ফেলার পেন্টাগনের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছিলেন. তার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এই বিষয়ে তাদের নিকট প্রাচ্যের সহযোগী দেশ ইজরায়েল কে সম্পূর্ণ অধিকার দিয়েছিলেন তাদের খুশী মত ব্যবস্থা নেওয়ার. তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ওরা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা নিজেদের পছন্দ মত ভাবে সমাধান করার অধিকার রাখে. তার সঙ্গে প্রতি বার তেহরানের ইজরায়েল কে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পরবর্তী হুমকির পরিবর্তে, ওরা নানা রকমের জবাব দেওয়ার উপায়ের কথা বলেছে. এখানে বলা উচিত হবে যে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আছে ইরানকে আঘাত করার. অবশ্য এখানে কিছু জটিলতাও আছে – ইজরায়েলের বিমান বাহিনীকে ইরাকের উপর দিয়ে উড়ে যেতে হবে, যেখানে আমেরিকা সব নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই আমেরিকার সঙ্গে সহমতে না এসে এক তরফা বোমা বর্ষণ করা সম্ভব হবে না.    পরবর্তী কালে ইরানে কি হতে চলেছে তাই নিয়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মিখাইল দেলিয়াগিন মন্তব্য করে বলেছেন যে:    "ইরানের উপর রকেট দিয়ে আঘাত করার কিছু একটা সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজকের দিনে নেওয়া হয়েছে. আশা করি এই সিদ্ধান্ত এখনও বদলানো যাবে, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল চিন্তা করতেই রাজী নয় যে, ইরানের পারমানবিক বোমা উদ্ভব হয়েছে. আমি বলতে পারব না, তারা সেটা বানিয়ে ফেলছে অথবা তা করছে না, তবে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলে যথেষ্ট ভয় আছে. তাই আমি মনে করি যে, আঘাত হানা হবে, খুব সম্ভবতঃ এই আঘাত হবে পারমানবিক. আশা করব যে, আমরা এটা এড়াতে পারবো. আপাততঃ সকলেই ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে খালি উত্তেজিত হয়ে উঠছে".    রাশিয়ার উচ্চ সামরিক নেতৃত্ব জানে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানে বোমা ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু রাশিয়ার প্রধান সামরিক কার্যালয়ের প্রধান নিকোলাই মাকারভ মনে করেন যে, বোমা বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা কম. এপ্রিলে যখন আন্তর্জাতিক সমাজ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকা তৈরীতে ব্যস্ত ছিল, তখনই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ইজরায়েল কে নিষেধ করেছিলেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু না করতে. এটা এক বিশাল বেদনা দায়ক বিপর্যয় হবে, আর তার প্রভাব নিকট প্রাচ্যের বাইরের দেশগুলির উপরও পড়বে. ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের উপর এই শক্তি প্রয়োগ করা যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রতিফল যে পড়বে, তাও দেখাই যাচ্ছে পরিস্কার. কারণ ইরানকে জোর করে অস্ত্রের মুখে নতজানু হতে বাধ্য করলে প্রত্যেক মার্কিন ও ইজরায়েলের নাগরিকের জন্য বিশ্বের যে কোন জায়গায় তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পক্ষে এই ঘটনা এক স্থায়ী হুমকিতে পরিণত হতে পারে.