রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র সীমিত করণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরে প্রথম প্রকাশ্যে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একে অপরকে পারস্পরিক অভিযোগ ব্যক্ত করেছে. মস্কো ওয়াশিংটনের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বিশেষ করে বলেছে যে, ঠাণ্ডা যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখতে চায় না. কিন্তু একই সঙ্গে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আহ্বান করা হয়েছে পারস্পরিক অভিযোগের হাওয়াকে উতপ্ত হতে না দিতে, তার চেয়ে বরং পরস্পরকে জানিয়ে আরও বেশী করে স্বচ্ছ বাতাবরণ তৈরী করে গণহত্যার অস্ত্রের প্রসার রোধে ও অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে সহযোগিতা করার প্রয়োজন আছে.    প্রথমে কার দৌড় কতদূর তার শুরু করেছিল হোয়াইট হাউস. সেখান থেকে এক বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের ভিত্তিতে কোন রকম তথ্য প্রমাণ না দিয়ে রাশিয়াকে নিরস্ত্রীকরণের বিপক্ষে থাকা দেশের মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল. এই রকম খুবই তথ্যের বিষয়ে দীন অভিযোগের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ১১ পাতার একটি অভিযোগ প্রকাশ করা হয়, সেখানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়ে চুক্তি করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমেরিকার পক্ষ থেকে বাস্তবে কি করা হয়েছে তার সম্বন্ধে বিশদ করে জানিয়েছেন. মস্কো অংশতঃ বলেছে যে, তারা মোটেও খুশী নয়, কারণ অনেকগুলি ডুবোজাহাজ থেকে ছোঁড়া রকেটের পরীক্ষা না জানিয়ে করা হয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিকীরণ নিরাপত্তা বিষয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ সংরক্ষণের নিয়ম মানে নি. অভিযোগের তালিকায় – রকেট প্রযুক্তি সংক্রান্ত জিনিসের মার্কিন উত্পাদকদের কাছ থেকে সরবরাহ করা চালু থাকা, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য বিদেশী পাঠানো রয়েছে. এর মধ্যে প্রায় একের তৃতীয়াংশ দেশ আন্তর্জাতিক রকেট প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নিয়মের চুক্তি করা সদস্য দেশই নয়, যাদের মধ্যে রয়েছে – ইজিপ্ট, ইজরায়েল, কুয়েইত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমীর শাহী এবং এর সঙ্গে আবার তাইওয়ান.আমেরিকার আক্রমণ ও রাশিয়া প্রতি আক্রমণ কিছু বিশেষজ্ঞকে বাধ্য করেছে ভাবতে যে, স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র সীমিত করণ সংক্রান্ত চুক্তি গ্রহণ করা বোধহয় পেছিয়ে গেল. তার মধ্যে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিষয়ের ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়েভ মনে করেন যে, এই একে অপরকে চাপান উতোরে  গ্রহণ করার দিনটিকে দূরে না ঠেলে বরং কাছিয়ে আনা হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:"পরিস্থিতি দেখাই যাচ্ছে যে, এই চুক্তি গ্রহণের সাথেই জড়িত. আমেরিকার প্রশাসনিক দপ্তর চাইছে দেশের কংগ্রেসে আবহাওয়া তৈরী করে দেখাতে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট শক্ত ভাবেই নিজের অবস্থানে দৃঢ় ভাবে স্থির আছে এবং আগের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির কাঠামোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করে নি. একই সঙ্গে নতুন চুক্তির পরিসরে তারা নিজেদের দেশের স্বার্থের কথাটাও ভুলে যায় নি. এই ভাবেই তারা রিপাব্লিকান দলের পায়ের তলার থেকে মাটি কেড়ে নিচ্ছে, কারণ এই দলের লোকেরা রাশিয়ার প্রতি ও নতুন চুক্তির প্রতি খুবই আগ্রাসী মনোবৃত্তি নিয়ে বসে রয়েছে. রাশিয়ার উত্তরে প্রতিক্রিয়া ও খুবই স্বাভাবিক. এক দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জায়গা মতো বসিয়ে দেওয়া দরকার, কারণ বাস্তবেই আইন ভঙ্গ হয়েছে. এটা দেখাই যাচ্ছে. আবার একই সঙ্গে রাশিয়ার লোকসভাতেও প্রচুর নতুন চুক্তি বিরোধী সদস্য রয়েছে, যাদের কাছে কূটনীতিজ্ঞদের খুব একটা কম দরকার নেই দেখানোর যে, মস্কো একেবারে পরিস্কার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, আর কোনভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে একতরফা ছাড় দিতে রাজী নয়. সব মিলিয়ে দুই পক্ষের ঘোষণাই, যতই প্যারাডক্স মনে হোক না কেন, স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তি গ্রহণের উপযুক্ত বাতাবরণ তৈরী করেছে".বিগত দেড় বছরের পুনরারম্ভ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু একে অপরকে শুনতেই নয়, এমনকি বুঝতেও শুরু করেছে. এই বিষয়ে প্রথম নির্দেশ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা. তারাই কূটনীতিবিদদের বলেছেন সম্পর্কের বিছানায় খুব খোঁচা ওলা বিষয় না পাততে, তার চেয়ে বরং খোলাখুলি প্রকাশ্যে আলোচনা করতে, অভিযোগ প্রকাশ কতে, যাতে একসাথে তার সমাধান সূত্রও খুঁজে পাওয়া যায়. তাই এই চাপান উতোর থেকে নতুন চুক্তি গ্রহণের পথে যে কোন অন্তরায় ঘটবে তার সম্ভাবনা খুবই কম.