রাশিয়ার দাবানলের সঙ্গে সংগ্রামে ব্যস্ত প্রায় সারা বিশ্বের লোকেরা. বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বলেছেন যে, এর মধ্যেই এক আন্তর্জাতিক অগ্নি নির্বাপক জোট সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে. বিশেষজ্ঞ, যন্ত্র প্রযুক্তি অথবা অভিজ্ঞতা বিনিময় করে সাহায্য করার জন্য তৈরী লোকের সংখ্যা প্রতি দিনের সঙ্গে খালি বেড়েই চলেছে. ইউক্রেন, পোল্যান্ড, কাজাখস্থান, ইতালি, বুলগারিয়া, জার্মানী, আর্মেনিয়া, ফ্রান্স, আজারবাইজান, ভেনেজুয়েলা – এটা সম্পূর্ণ তালিকা নয়, সেই সব দেশের যারা আজ রাশিয়াকে এই দাবানলের হাত থেকে উদ্ধার করতে সামিল হয়েছে.ফরাসী দেশ থেকে মস্কো এসেছে আগুনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞের দল, তাঁরা সঙ্গে করে এনেছেন তিরিশ হাজার ধোঁয়ার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মুখোশ, সপ্তাহের শুরুতে আসছে এক শক্তিশালী আগুন নেভানোর জন্য বিমান. এলিসির প্রাসাদ যে কোন রকমের সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফরাসী রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজি.সপ্তাহের শুরুতে আগুন নেভানোর কাজে লেগেছে জার্মানী, ফ্রান্স ও ইতালির বিমান বহর. পদাতিক বাহিনী তৈরী হওয়া চলছে, বর্তমানে অপেক্ষায় আছে পোল্যান্ডের বিশেষজ্ঞদের আগমনের. পনেরো জনের মত ত্রাণ কর্মী ও দমকল কর্মী সমেত এক ব্যাটালিয়ন মস্কো উপকণ্ঠের সব চেয়ে সঙ্কটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছেই সোজা কাজে নিযুক্ত হবেন.বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়াতে প্রায় ৮০০ জায়গায় আগুণ জ্বলছে, প্রসঙ্গতঃ বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রী কিছু আশার কথা উল্লেখ করেছেন: "যদি এই গতিতে কাজ হয় তবে আগামী পাঁচ সাত দিনের মধ্যেই পচা পাতার শুকনো মন্ড জ্বলা আগুনের অধিকাংশই নিভিয়ে ফেলা যাবে. আমরা এখন আমাদের বিদেশী সহকর্মীদের  থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি".রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের দাবানলের ধোঁয়া এখন প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে, কিছু অংশে উচ্চতা প্রায় ১২ কিলোমিটার. যখন রাশিয়া জ্বলছে, তখন পাকিস্থান ও চীনে চলছে বন্যা, আর লাতিন আমেরিকায় প্রবল তুষার পাত ও ঠাণ্ডা. প্রবল আবহাওয়ার বিপর্যয় এখন সারা বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, তাই আর পরিবেশ বিজ্ঞানীরা নন, এখন আবহাওয়া নিরাপত্তা কথাটি বেশী শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতায়. এই পরিবেশে দেশ গুলি বিশ্বের উষ্ণায়ন মানুষের কাজকর্মের ফল কিনা তা নিয়ে বাগ বিতণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে পরিষদের সদস্য ভ্লাদিমির গ্রাচেভ তাই বলেছেন:"কোন সন্দেহই নেই যে, পরিবেশ সমস্যা অবশ্যই বিগত কিছু কাল ধরে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রসঙ্গতঃ এটা শুধু আমাদের দেশেই নয়. ঠিক হবে বললে যে, আমাদের এই বিষয়ে সম্পর্কটা অনেকটা এক রকমের আবহাওয়ার পূর্ব্বাভাষের মতই অবিশ্বাসের আর কিছু করতে না পারা অপারগের মত. আর সেটা সারা মানব সমাজই দেখাচ্ছে. আমি বিশ্বাস করি যে, অর্ধেক গ্রাম ও জনপদ বাঁচানো সম্ভব হত, যদি আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা রক্ষার মত বিভাগ করা থাকত. এখন যা ঘটে গিয়েছে, তা থেকে একটা সিদ্ধান্তে আসার সময় হয়েছে, আমার মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে কিছু নির্দেশ পালন করতে হবেই, যাতে রাশিয়ার জলবায়ু দপ্তর প্রশাসনের একটি আলাদা সংস্থায় পরিনত হয়. যাতে আবহাওয়ার নিরাপত্তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হয়".কিন্তু আবহাওয়ার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব একমাত্র সকলে মিলে, যদিও কোপেনহেগেন সম্মেলনে বিফল মনোরথ হওয়ার পরে বোঝা গিয়েছিল যে, একসাথে কিছু করা সম্ভব হয় নি, এমনকি নতুন পরিবেশ সংরক্ষণ চুক্তিতেও স্বাক্ষর করা যায় নি. কিন্তু বিশ্বের সমস্ত জায়গার বিজ্ঞানীদের রাশিয়ার দাবানলের সাথে সংগ্রাম আমাদের কাছে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের সমাজ তাও একসাথে কাজ করতে জানে, বিশেষত যখন চরম কোনও সঙ্কট উপস্থিত হয়. এখন বিশ্বের সব দেশ বসে থাকবে আগামী দিনের সঙ্কটের অপেক্ষায়, নাকি কানকুন শহরে শীর্ষ বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ চুক্তি করবে, সেটাই আমরা এবারের হেমন্তে জানতে পারব.