ককেশাসে পাঁচ দিনের যুদ্ধের দুই বছর পার হয়ে এসে দেখা গেল রাশিয়া সেই সময়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা কতটা ঠিক. ইউরোপীয় সংঘের দেশ গুলির নেতৃত্বের অবস্থান বদল হয়েছে. যদি ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে ইউরোপে সবাই চিত্কার করেছিল যে, মস্কো তবিলিসি আক্রমণ করেছে, তবে আজ সকলেই জর্জিয়ার দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণের কথা বাস্তবে স্বীকার করে ও সাকাশভিলি প্রশাসনকে রাশিয়ার জবাব কে সঙ্গত মনে করে. দুই বছরের ককেশাস সম্বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ফলাফল রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর হিসাবে দিয়েছেন কিছু দিন আগে:    "দুই বছর আগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব যে, সেই সময়ে নেওয়া সব কটি সিদ্ধান্তই ছিল একেবারে সঠিক ও তার সাফল্য আজ প্রমাণিত. আমাদের দেশ আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার লোকদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল, এই কাজ করেছিল এক সঙ্কটের মুহূর্তে, যখন তাদের জাতিগত বিশেষত্ব, জীবনের অধিকারের জন্য একটি মরণ বাঁচন লড়াই চলছিল. যারা সেই সময়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল – তারা আশা করি এখন বুঝতে পেরেছে যে, রাশিয়া সেই সময়ে মাত্র একটি উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে গিয়েছিল – আর তা হল সেখানের লোকেদের জীবনের সুরক্ষা করতে, যাদের আগ্রাসনের চেষ্টা হয়েছিল".    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দৃঢ় অভিমত যে, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা স্থিতিশীল করতে হলে, একদিকে জর্জিয়া ও অন্য দিকে আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ অসেতিয়াকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ বিষয়ে নিরস্ত থাকার জন্য চুক্তি করতে হবে. এই প্রশ্ন ককেশাস উত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য জেনেভা শহরের আলোচনাতে বহুবার তোলা হয়েছে, কিন্তু জর্জিয়া এই দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছে.    মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, জর্জিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতি ২০০৮ সালের ১লা আগষ্ট খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হতে শুরু করে, জর্জিয়ার তরফ থেকে স্খিনভাল ও অন্যান্য জনপদে প্রচুর গোলাগুলি বর্ষণ করা হয়, আর ৮ই আগষ্ট ভোর রাতে জর্জিয়ার সরকার সেনা বাহিনী প্রয়োগ করে স্খিনভাল শহরের দখল নেওয়ার জন্য. তারা রাষ্ট্রসংঘের পাঠানো রুশ শান্তি রক্ষা বাহিনীকে এই অঞ্চলে আক্রমণ করে, তাই রাশিয়া বাধ্য হয়ে জর্জিয়াকে শান্তির পথে জোর করে ফিরিয়ে আনার জন্য সেনা বাহিনী প্রয়োগ করে, যারা সেখানের রুশ ফৌজ এবং স্থানীয় জনগনকে রক্ষা করতে গিয়েছিল, প্রসঙ্গতঃ বহু অসেতিয়ার মানুষেরই রুশ পাসপোর্ট ছিল. পাঁচ দিনের মধ্যে জর্জিয়ার বাহিনীকে অসেতিয়ার এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে দেশের ভিতরে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, মস্কো এখানের লোকেদের এক আগ্রাসকের দ্বারা গণহত্যার হাত থেকে রক্ষা করে. যুদ্ধের পরেই রাশিয়া আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়াকে দুটি দেশ হিসাবে স্বীকৃতী দিয়েছিল, তারা এই সময়ে প্রায় বিগত ২০ বছর ধরেই স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল হিসাবে ছিল.    দুই বছর পার হয়ে এসে রাশিয়া ও বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এই জর্জিয়া দক্ষিণ অসেতিয়া যুদ্ধের ফলাফলের একটি মূল্যায়ণ করার চেষ্টা করছেন. তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সমাধানের ফলে রাশিয়া ককেশাসে তার ভৌগলিক স্ট্র্যাটেজি গত অবস্থান শক্ত করতে পেরেছে, আর বর্তমানে এই বিস্ফোরণ সম্ভাব্য অঞ্চলের একমাত্র স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে রাশিয়া.    আজ সকলেই নিজের কাছে স্বীকার করতে বাধ্য যে, ককেশাসে পরিস্থিতি পুরো পাল্টে গিয়েছে, জর্জিয়ার সঙ্গে সুখুমি বা স্খিনভাল এর পুনর্সংযোজন এখন ধারণা বহির্ভূত বিষয়. এটা শুধু রাশিয়া নয়, ইউরোপের বিশ্লেষকেরা নিজেরাও তাই মনে করেন. আর এই ককেশাস অঞ্চলের এমনিতেই দোদুল্যমান পরিস্থিতিকে আরও ভারসাম্য বিহীণ করার জন্য যে সমস্ত দেশের নেতৃত্ব আজ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা বরং অন্য কাজে লাগালেই ভাল হয়, যেমন, জর্জিয়াকে শান্তি চুক্তি সই করতে বাধ্য করানোতে.    কিন্তু বর্তমানের তবিলিসি শহরের প্রশাসনের নেতৃত্ব এই শান্তি প্রয়াসের লাভ সম্বন্ধে চিন্তা করতে বোধহয় সক্ষম নয়, তাই দিমিত্রি মেদভেদেভ – এখন দুই বছর পার হয়ে এসে – আবারও মনে করিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেছেন – ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসের ঘটনার পুরো দায়িত্ব জর্জিয়ার নেতৃত্বের ও তাদের রাষ্ট্রপতি মিখাইল সাকাশভিলির. আর জর্জিয়ার জনগনের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যময় ভ্রাতৃ সুলভ বন্ধুত্ব রাশিয়া তৈরী আছে আবার করে স্থাপন করতে. সেই সময় অবধি রাশিয়া গ্যারান্টি দিয়েছে, ককেশাসে গণহত্যা করতে দেওয়া হবে না.