রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে দাবানল ও পীট কয়লা পোড়ার দরুণ ধোঁয়া ছড়িয়ে রয়েছে ৩ হাজার কিলোমিটার পশ্চিম থেকে পুবে, উরাল অঞ্চল থেকে দেশের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত, আর কিছু কিছু জায়গায় তা উঠেছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে- ১২ কিলোমিটার উচ্চতায়. এর প্মাণ দেয় নাসা-র টেরাঅ্যাকুয়া স্পুতনিক থেকে প্রাপ্ত তথ্য.   শেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অসাধারণ গরম এবং অনাবৃষ্টির দরুণ দাবানল জ্বছে রুশ ফেডারেশনের ২০টি প্রদেশে. সাতটি অঞ্চলে , সেই সঙ্গে মসেকো প্রদেশে, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে জরুরী পরিস্থিতি জারি করা হয়েছে. প্রাকৃতিক বিপর্যয় অন্যান্য দেশকেও প্রভাবিত করেছে- পাকিস্তানে এবং চীনে ভীষণ বন্যা হচ্ছে. দক্ষিণ গোলার্ধে উল্টো- ল্যাটিন আমেরিকার একসারি দেশে বহু বাসিন্দা এই প্রথম অনুভব করেছে ঠান্ডা এবং দেখেছে তুষারপাত.   কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মহাজাগতিক সুনামির জন্য, সূর্য়ের দীর্ঘকালীন ঘুমের পরে জেগে ওঠায় প্লাজমা নিক্ষেপের দরুণ. বিজ্ঞানীদের কথায়, পরিস্থিতির বিশেষত্ব হল এই যে, সূর্য তেকে উত্তেজিত কণিকার প্রবাহ নির্দেশিত- পৃথিবীর দিকে. বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, আগামী কয়েক দিনে শক্তিশালী সৌর শক্তির ঢেউ আসার অপেক্ষা করা উচিত.   বেশির ভাগ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, বর্তমানের বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া গরম হওয়ার কারণ হল বিগত কযেক বছরে মানুষের কার্যকলাপের জন্য বায়ুমন্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমণের তীব্র বৃদ্ধি. এই পটভূমিতে রাষ্ট্রগুলি নিষ্ফলভাবে তর্ক করছে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া গরম হওয়া নিবারণের ব্যবস্থাবলি নিয়ে. কোপেনহেগেন সম্মেলন বিফল হওয়ার পরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আবহাওয়া সংক্রান্ত নতুন চুক্তি সম্পাদন করা বিশ্ব জনসমাজের পক্ষে সহজ হবে না. বৈপরীত্য খুবই বেশি, মনে করেন আবহাওয়া ও অর্থনীতির পূর্বাভাষ ইনস্টিটিউটের বরিস পর্ফিরিয়েভঃ   সর্বপ্রথমে যা করা দরকার তা হল- এ ঘটনার প্রতি মনোভাব সম্পূর্ণভাবে বদলানো এবং মায়াবী উচ্ছাস প্রকাশ না করা. এটি সেই সীমা নয়, যা পার করে মানবজাতি সুখ অর্জন করবে এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত  নিজের সমস্ত  সমস্যা মীমাংসা করে ফেলবে. এমন ধরনের সম্মেলন যাতে আরও সফল হয়, মুখ্য আলাপ-আলোচনা চালানো উচিত সেই সব রাষ্ট্রের গ্রুপের, যার চূড়ান্ত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ আছে, একদিকে খাস সমস্যার উদ্ভবে, আর অন্যদিকে – যথেষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে, এ সব সমস্যা মীমাংসার জন্য.   এ সমস্যাটি এত প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে যে, এখন বলা দরকার শুধু আবহাওয়া গরম হওয়ার কথাই নয়, রাষ্ট্রসমূহের এবং সারা পৃথিবীর আবহাওয়ার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা. মনে হয়, আবহাওয়ার নিরাপত্তা পরিভাষাটি দৈনন্দিন ব্যবহারে চালু হয়ে যাবে এবং তেমনই অভ্যস্ত পরিভাষা হয়ে উঠবে, যেমন জ্বালানী নিরাপত্তা অথবা খাদ্য নিরাপত্তা.