বিভীষিকা ও বর্বরতা. বিশ্ব বিখ্যাত শিশু চিকিত্সক লিওনিদ রশাল এই কথা বলে ব্যাখ্যা করেছেন হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি. ৬৫ বছর আগে আমেরিকা এই দুটি জাপানী শহরের উপর পারমানবিক বোমা ফেলেছিল, এটা ছিল মানবেতিহাসের পারমানবিক বোমার প্রথম ব্যবহার. আর তা সামরিক বাহিনীর উপর ব্যবহার করা হয় নি, হয়েছিল সাধারন মানুষের উপরে, যেখানে কোন সামরিক ঘাঁটি ছিল না.আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বিপর্যয়ে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা বিষয়ক সাহায্য পরিষদের শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান ডাক্তার লিওনিদ রশাল বলেছেন যে, প্রত্যেক লোকেরই অন্ততঃ একবার জীবনে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যাওয়া উচিত. সেখানে গেলেই এই ট্র্যাজেডির বিভীষিকার সম্বন্ধে একটা ধারণা তৈরী হবে. তাঁর কথা মতো হিরোশিমা ও নাগাসাকির বর্বরতা ও বিভীষিকা তাঁর হৃদয় ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাথার মতো প্রবল হয়েছে সেই জায়গায় যাওয়ার পর, তাই ৬৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি বর্বরতা ও বিভীষিকা ছাড়া আর কোনও নাম দিতে পারেন নি."স্রেফ জাপানী বলে, সেনা বাহিনীর কেউ না হওয়া স্বত্ত্বেও সেই সব শহরে তারা বেঁচেছিল, যেখানে কোনও সামরিক বা প্রতিরক্ষা ঘাঁটি নেই বলে, তাদের উপর এই ভয়ঙ্কর বোমা ফেলার কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে না. বহু সহস্র ছোট বড় নির্বিশেষে পুড়ে গিয়েছিল সেই বোমার আঘাতে, ধ্বংস হয়েছিল বহু ভবিষ্যত, তাই কোন যুক্তি দিয়েই এর সমর্থন করা যায় না. যে কোন যুদ্ধেই এর কোন ব্যাখ্যা নেই আর তা হতে পারে না. আমি মনে করি যুদ্ধ শুধু হিংসা ও বর্বরতার প্রকাশ. কেউ বলে থাকে যে, এই বোমা মারার ফলে ফ্রন্টে অনেকে রক্ষা পেয়েছিল, আমি তাও মনে করি এটা নিছক বর্বরতা ছাড়া আর কিছু নয়".লিওনিদ রশাল দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বের জন্য হিরোশিমা ও নাগাসাকি একটি খুবই ভয়ঙ্কর শিক্ষা, উদাহরণ যে কি করে একটা প্রশাসন অন্য দেশের শান্তি প্রিয় নাগরিকদের উপর ভয়ানক আঘাত হানতে পারে, যারা এই বোমা ফেলার হুকুম দিয়েছি, তারা সন্ত্রাসবাদী – একই ভাবে বিনা বিচারে নিরীহ মানুষের হত্যাকারী.যতই প্যারাডক্স মনে হোক না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক বোমা বর্ষণের ট্র্যাজেডি আরও বেশী, কারণ বর্তমানের জাপানী প্রজন্ম ধীরে হলেও ভুলতে বসেছে ৬৫ বছর আগে কি হয়েছিল. কিছু দিন আগে জাপানের এক রেডিও টেলিভিশন চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী অর্ধেক জাপানী এই ঘটনার দিনক্ষণ বলতেই পারে নি, তাই এই রকম সামাজিক অবজ্ঞার মধ্যে যাঁরা আজও এই ভয়ঙ্কর ঘটনার চিহ্ন নিজেদের শরীরে নিয়ে বেঁচে রয়েছেন (জাপানে এঁদের বলে হিবাকুসিয়া)তাঁরা প্রায়ই সমাজে গৃহীত হতে পারেন না. সারা জাপান পারমানবিক বোমা ক্ষতিগ্রস্থ দের সংস্থার কার্যকরী সমিতির চেয়ারম্যান ইয়ামামোতো হিন্দেনোরী বলেছেন:    "বেঁচে রয়েছেন আজ ২২ হাজার হিবাকুসিয়া লোক, তাঁদের জীবনকে সহজ বলা যায় না. তাঁরা কাজ করার উপযুক্ত নন আর সকলে মোটেও কোন সাহায্য বা পেনশন পান না. তাই এই সংস্থার প্রথম দুটি কাজ হল: সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্র নির্মূল করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, এই কাজের একটা লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, ১৯৯০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পারমানবিক অস্ত্র কমানোর বিষয়ে চুক্তি করে বিশ্বকে একটা উদাহরণ দিতে সক্ষম হয়েছে, তারপরই সমস্ত পারমানবিক অস্ত্র ধারী দেশ যারা পারমানবিক ক্লাবের সদস্য তারা হিরোশিমাতে সম্মেলনে ঘোষণা করেছে যে, চেষ্টা করবে সম্পূর্ণ ভাবে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত হতে. দ্বিতীয় কাজ –এই হিবাকুসিয়া সংক্রান্ত আইনের পরিবর্তন করা, কারণ কোন দেশের সরকার এমনকি এঁদের কাছে আজও ক্ষমা প্রার্থনা করে নি, ক্ষতিপূরণ দেওয়া তো দূরের কথা".    যদিও সময়ের সঙ্গে স্মৃতি মলিন হয়ে যা, তবুও জাপানে কোনদিনই হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি ভুলতে পারবে না. অন্য দেশের লোকেদের ঐতিহাসিক স্মৃতিতেও তা থেকেই যাবে. রাশিয়ার সমীক্ষা সংক্রান্ত কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, রাশিয়ার লোকেরা মনে করেন যে, হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা বর্ষণ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা ছিল, আর তা কোন ভাবেই সমর্থন করা চলতে পারে না.