এক স্টেডিয়াম জনতার সামনে বক্তৃতা দিতে আসার সময়ে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদের গাড়ীর সারির সামনে হামাদান শহরে বোমা বিস্ফোরণের খবর ইরান ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলির খবরের শিরোনাম হয়েছে.৪ ই আগষ্ট এই সম্বন্ধে তথ্য ছিল খুবই বিপরীতার্থক. বিশ্বের এক নম্বর আন্তর্জাতিক ইহুদী বিদ্বেষী নেতাকে ইজরায়েলের চক্রান্ত করে মারার প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে ইরানের জনতার নিজেদের নেতার প্রতি প্রবল আবেগে ভালবাসা প্রদর্শনের চেষ্টা পর্যন্ত সব কিছুই বলা হয়েছে.এই পরিস্থিতিতে মন্তব্য করতে আমরা অনুরোধ করেছিলাম আমাদের প্রাচ্য বিশারদ বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সাঝিন কে. তিনি বলেছেন:"বিশ্বের নেপথ্যে থাকা চক্রান্ত কারীদের কোন অপচেষ্টার কথা প্রথমেই নাকচ করে দেওয়া যেতে পারে, শ্রী আহমাদিনিজাদের বাইরের দেশের শত্রুদের গুপ্তচরেরা নিশ্চয়ই কোন দড়ি দিয়ে বাঁধা বোমা বা পটকা এর জন্য ব্যবহার করতে যাবে না. বাকী থাকে দেশের ভিতরে থাকা আহমাদিনিজাদের প্রশাসনের বিরোধী লোকেরা. কিন্তু ঘরোয়া কোন্দলে ভাগ হয়ে যাওয়া বিরোধী পক্ষ, যারা নিজেরাই বেশীর ভাগ ঐস্লামিক চরমপন্থী লোক, তারা এই রকমের একটা আত্মহত্যা করতে যাওয়ার মত কাজ করতে যেতে পারে, তা কি বিশ্বাস করা সম্ভব? আত্মহত্যার মতো – কারণ বোঝাই যাচ্ছে যে, এর উত্তর হবে অবিলম্বে ও ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে, যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের দিকে তাক করে করা হবে. বিরোধী পক্ষ পরিনামের কথা চিন্তা করে এই রকম একটা বাজী ফাটানোর কথা ভাবতে চাইবে কি"?ভ্লাদিমির সাঝিন পরে যোগ করেছেন – তারপরে ধরা যাক এই বিস্ফোরণ টা হয়েছে, জনতার আবেগ প্রকাশ উপলক্ষে, কিন্তু মুসলমান মূল্যবোধ, প্রচলিত অভ্যাস অথবা ঐতিহ্যে তা কি আদৌ সম্ভব হতে পারে. এমনকি যারা অগ্নি উপাসক, সেই ইরানের ধর্ম গুলির মধ্যে প্রাচীনতম জরথ্রুষ্ট বাদীরাও মাথায় আনবে না এই ভাবে নিজেদের উত্তেজনা প্রকাশের.এই সমস্ত কিছুতে কিছু বড় যুক্তি নেই. কিন্তু অন্য দিকে এক্ষেত্রে সাধারণতঃ যে প্রশ্ন মাথায় আসে, তা হল এই বিস্ফোরণে কার লাভ বেশী?বর্তমানের ইরান অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয়ের কেন্দ্রের জেনেরাল ডিরেক্টর রাঝাভ সাফারভ মনে করেন যে, এই কু চেষ্টার পর ইরানের রাষ্ট্রপতি আহমাদিনিজাদের পক্ষেই জনমত বাড়বে, আর তিনি নিজে বিশ্ব মানের নানা প্রশ্নে অবস্থান আরও কড়া করে দেখাবেন.আর এটা সত্যের অনেকটাই কাছে. ইরানের প্রশাসন বর্তমানে খুব একটা ভাল সময় কাটাচ্ছে না. তেহরান নিজেদের পারমানবিক গোয়ার্তুমি দিয়ে দেশকে বাস্তবে একটা অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় নিয়ে গেছে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘ নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে অন্যান্য জোট বদ্ধ দেশ. তাদের মধ্যে রয়েছে ইরানের সবচেয়ে বড় ব্যবসার সাথী জাপান. এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞার ফল ইরানের অর্থনীতির জন্য খুবই খারাপ হতে চলেছে, তার প্রভাব পড়বে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষের উপর. অনেকেই আহমাদিনিজাদের নীতির সঙ্গে একমত না হওয়ার কথা সেই দেশে ঘোষণা করেছেন. আর যদি মনে করা হয় যে, ইরানের জন সংখ্যার একের তিন ভাগ (যারা সব থেকে বেশী লেখা পড়া জানা লোক ও বলা যেতে পারে বুদ্ধিজীবী) লোক ২০০৯ সালের ১২ই জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরের দিন থেকেই রাষ্ট্রপতি আহমাদিনিজাদের ক্ষমতায় আসাকে আইন সঙ্গত হয়েছে কি না বলে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা বাস্তবে তাঁকে সমর্থন করছেন না, তবে বোঝা সম্ভব, কেন যে কোন রকম ভাবেই প্রশাসনের এত চেষ্টা জনমতকে নিজেদের পক্ষে আনার. তার ওপরে সাফারভ বলেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি আগে থেকেই জানতেন এই হত্যার প্রচেষ্টার কথা. তাই খুবই আওয়াজ ও আলো ঝলসান বিস্ফোরণ নিশ্চয়ই কাজে লেগেছে.