পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ফরাসী পত্রিকা মন্ড কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, আফগানিস্থানে তালিবদের কাছে পরিস্থিতি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সমাজ হেরে যাচ্ছে. প্রথমতঃ হেরে যাচ্ছে আফগান লোকেদের হৃদয় ও আত্মার অধিকারের প্রশ্নে. আর আফগানিস্থানে আরও সেনা বাহিনী পাঠানো হবে কি না তা শুধু এক বিরাট প্রশ্নের উত্তরের অংশ মাত্র. পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণার পিছনে কি থাকতে পারে? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা আফগানিস্থান বিশেষজ্ঞ এবং আফগানিস্থানের লোকসভার সদস্য পদ প্রার্থী আখমাদ সাইদি কে মন্তব্য করতে বলাতে তিনি বলেছেন:    "জারদারী নিজের ঘোষণা দিয়ে যেন তালিবদের উত্সাহ দিয়েছেন, যেন বলতে চেয়েছেন, তোমরা বাধা দেওয়া চালিয়ে যাও, তোমরাই জিতে যাচ্ছ, বিদেশীরা হেরে যাচ্ছে. উনি আরও বিদেশীদের বলে বোঝাতে চেয়েছেন: তোমরা আফগানিস্থানে হেরে গিয়েছো, এবার আমাদের হাতে সব ছেড়ে দাও, আমরা দেখাচ্ছি কি করতে হবে. একই সঙ্গে বিশ্বের আগ্রাসক (বোঝাই যাচ্ছে  - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) দেশকে ইঙ্গিত করেছেন, যে তারা বাস্তবেই আফগানিস্থানে হেরে গিয়েছে, এরপর আফগানিস্থানের ভবিষ্যত নির্ভর করবে পাকিস্থানের উপর. এই বর্ষণ জারদারী অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য করেছেন, তাতে কোন গঠন মূলক কিছু নেই, আর আফগানিস্থানের জন্য এটা গ্রহণ যোগ্য নয়".    অন্য একটি ধারণা প্রকাশ করে আমাদের সমীক্ষক পিওতর গনচারোভ বলেছেন:    "ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, জারদারী এই রকম ঘোষণা করেছেন উইকিলীকস সাইটে বেরিয়ে পড়া খবরের মধ্যে পাকিস্থানের সরকার যে তালিবদের সাহায্য করেছে ও করছে, তার খবর ফাঁস হওয়ার জন্য. সেখানে দেখানো হয়েছে যে, পাকিস্থানের আন্তর পরিষেবা গুপ্তচর বাহিনীর প্রতিনিধিরা গোপনে তালিবদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে জোট বেঁধেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক জোটের বিরুদ্ধে এবং ঠিক করেছে আফগানিস্থানের নেতাদের হত্যা করার. এখন অনেকেই এই উইকিলীকস সাইটে বেরোনো তথ্যের পিছনে কারও একটা অদৃশ্য হাতের কথা টের পাচ্ছেন, যারা এই প্রকাশের বিষয়ে গ্রীন সিগন্যাল দিয়েছে সময় বুঝেই. আর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যে চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছেন পাকিস্থানের ইসলামাবাদকে সন্ত্রাস পাচার করা বন্ধ করার বিষয়ে কড়া হতে বলে, তা আবার অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করেছে. সুতরাং জারদারীকে উত্তর দিতে বাধ্য হতে হয়েছে, এই উইকিলীকস সাইটে খবর ফাঁস ও ক্যামেরনের ঘোষণাতে ইসলামাবাদে একটা রাজনৈতিক অগ্নিকাণ্ড হয়ে যাওয়াতে. জারদারী নিজেও আঘাত দিতে ছাড়েন নি, যথেষ্ট বেদনা দায়ক করেই দেখিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের কোথায় প্রধান খামতি রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, তিনি সততার অবমাননা একটুও না করেই এটা করতে পেরেছেন".    অবশ্যই গনচারোভ বলেছেন যে, জারদারী আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের আসল সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন. তিনি হাজার বার ঠিক কথাই বলেছেন, যখন উল্লেখ করেছেন যে, শুধু সেনা বাড়িয়ে আফগানদের হৃদয় জয় করা সম্ভব হবে না. আফগানিস্থানের জনতার সমর্থন পেতে হলে তাদের কাছে অর্থনৈতিক উন্নতি নিয়ে আসতে হবে ও প্রমাণ করতে হবে, যে এই রাজনীতিতে লোকের উপকারই হবে. এই কথা বলেই জারদারী ঠিক লক্ষ্যে আঘাত করতে পেরেছেন, তিনি আরো একবার বারাক ওবামার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়েছেন, যদি মনে করে যায়, এই কদিন আগেই হোয়াইট হাউসের উপর দিয়ে রাস্তা সমান করার রোলারের মত ডেভিড ক্যামেরন তাঁর "আমরা কি ভাবে যুদ্ধে হেরেছি" প্রবন্ধ নিয়ে চলে গিয়েছেন. সেখানেও বাস্তবে বলা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট কিছুতেই আফগানিস্থানের রাস্তায় জয় পেতে পারে নি.