বিপদ মানুষকে কাছে টানে, সমবেদনা জাগায় ও সাহায্যের প্রেরণা দেয়. আজ বিশ্বের সংবাদ সংস্থা গুলির খবর শুরু হচ্ছে রাশিয়ায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে অতুলনীয় গরমের ফলে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের খবর দিয়ে. আগুনে নিহতের সংখ্যা এর মধ্যেই ৫০ ছুঁতে চলেছে. মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে বেশ কিছু জনপদ. কয়েক হাজার লোক গৃহহীণ. রাশিয়াতে ও অন্যান্য দেশে বহু লোকেরই স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করার ইচ্ছা হয়েছে.রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ দানসত্র খুলেছে, দেশের বহু শহরেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সাহায্য জড়ো করার জায়গা খোলা হয়েছে. লোকেরা জামা, কাপড়, বিছানা পত্র, বাচ্চাদের জন্য খেলনা ও অন্যান্য প্রাথমিক প্রয়োজনের জিনিস নিয়ে আসছেন. কারণ অনেকেই এই অগ্নিকাণ্ডে সমস্ত কিছু হারিয়েছেন মায় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট সব. তাঁদের যে কোন ধরনের সাহায্যই কাজে লাগবে, মস্কো শহরের মারিয়া এ কথা মনে করে একটি সাহায্য জড়ো করার জায়গায় এসে একেবারে উত্তেজিত হয়ে বলেছেন:"আমি স্রেফ নিজেকে এই সব লোকেদের জায়গায় কল্পনা করে দেখেছি, যাঁদের কিছুই আর রইল না. আমরা মস্কোতে থাকি, খুব একটা এই সম্বন্ধে ধারণাও করতে পারি না. আমার মতে এটা একেবারেই কল্পনা করা সম্ভব নয় যে, ২০১০ সালে আগুনে মাটির সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাম মিশে যাচ্ছে. আর তুমি দাঁড়িয়ে দেখছ, কিন্তু কিছু করতে পারছ না"!জনগনের কাছ থেকে পাওয়া দানের জামা কাপড়, জিনিস পত্র তেমনই সেচ্ছাসেবক লোকেরা নিজেদের গাড়ীতে করে পৌঁছে দিয়ে আসছেন বিপর্যয় অধ্যুষিত অঞ্চলে. ইন্টারনেটে এর মধ্যেই ব্লগ তৈরী হয়েছে, সেখানে সবাই যারা দাবানলে পুড়ে যাওয়া লোকেদের সাহায্য করতে চায়, তারা জোট বেঁধেছে. বিশেষ সাইট খোলা হয়েছে, যেখানে তাত্ক্ষণিক ভাবে সমস্ত খবর নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে, যেখানে জানা যাচ্ছে, আগুনে পোড়া লোকেদের জন্য কি জিনিস বা সাহায্য কোথায় জমা দেওয়া যেতে পারে, সাইট গুলির ঠিকানা:

0http://diaconia.miloserdie.ru

0http://community.livejournal.com/pozar_ru/

0http://russian-fires.ru

সরকারি ভাবেও রাশিয়াকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে. জার্মানীর পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকেদের চিকিত্সা করার বিষয়ে সাহায্য করা হবে, ঘর হারা দের সাময়িক বাসস্থান তৈরী করার বিষয়েও সাহায্য করা হবে, তার সঙ্গে জনগনকে খাবার জল পাঠানো হবে.এস্তোনিয়া প্রয়োজনে রাশিয়াকে সাহায্য করতে তৈরী আগুন নেভানোর প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি দিয়ে, খবর দিয়েছে এই বাল্টিক উপকূলবর্তী দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর. এই দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ের ভাইস চ্যান্সেলার এরক্কি কোর্ট উল্লেখ করেছেন, যদিও রাশিয়া ও এস্তোনিয়ার মধ্যে এই ধরনের কোন সহযোগিতার চুক্তি নেই, তবুও এটা সাহায্যের হাত না বাড়ানোর জন্য কোন কারণ হতে পারে না.রাশিয়ার সরকার নিজের তরফ থেকে ঘোষণা করেছেন যে, সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরাই, যাদের ঘর পুড়েছে, তারা নতুন বাড়ী ঘর পাবে এই বছরের শীতের আগেই. এই প্রসঙ্গে দেখা হবে যাতে সাহায্যের জন্য বরাদ্দ অর্থ ঠিক জায়গায় পৌঁছায়. যাতে কোন রকমের তহবিল তছরুপ না হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে কোন রকমের বড় মাপের বাড়ী তৈরীর জায়গায় ভিডিও ক্যামেরা ও তিনটি করে টেলিভিশনের ব্যবস্থা করতে, যার একটা থাকবে সরকারের প্রধান মন্ত্রীসভায়, একটা তাঁর বাড়ীতে ও অন্যটা ইন্টারনেটের সাহায্যে সরকারের সাইটে. এর ফলে প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী ও সাধারন লোক সকলেই দেখতে পাবেন কর দাতাদের অর্থ কি ভাবে ব্যবহার হচ্ছে ও নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ সময়ের মধ্যে কাজ হচ্ছে কি না.