যারা অর্থনৈতিক বিনিয়োগের খবর বিক্রী করবে, তাদের সাত বছর অবধি জেল হতে পারে.রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এর জন্য একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন – নাম – ভিতরের খবর নিয়ে অনধিকার ব্যবহার ও বাজারের ওঠা নামা নিয়ন্ত্রণের প্রতিরোধ করার জন্য আইন.    ভিতরের খবর নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের শায়েস্তা করা ছাড়াও এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়টি. এখন থেকে সাংবাদিকদের ভিতরের খবর জানিয়ে প্রবন্ধ লেখার জন্য ফরিয়াদী মামলার অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে না. সাংবাদিক অথবা প্রকাশক শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই শাস্তি পেতে পারেন, যদি সেই তথ্য তারা নিজেদের বিত্ত বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করেন. রাশিয়ার রস বিজনেস কনসাল্টিং নামে সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ বলেছেন:    "বোঝাই যাচ্ছে যে, আগে সব রকমের দোষের কারণ হিসাবে বিনিয়োগ বিষয়ে খবর দেওয়া সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তোলা হত, কিন্তু এটা ফালতু কথা. কারণ ভিতরের খবর ব্যাপারটা এই রকম যে, তা দিয়ে লোকে বাজারে ওঠা নামা করায়. লোকে নানা রকমের আগে থেকে ঠিক করা বিষয়ে খবর বাজারে ছাড়ে, যাতে শেয়ার বা স্টক মার্কেটে কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটার আগে একটা আন্দোলন শুরু হয় শেয়ারের দামে. সাংবাদিকরা এই বিষয়ের শেষ অংশ – যারা ঘটনা ঘটে গেলে তবে সেটা জনতার গোচরে আনে. তারা ভিতরের খবরের জন্য রোজগার করে না, করে তাদের প্রকাশিত খবরের থেকে".    বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, বাজারে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারে সরকারি বড় আমলা বা বড় কোম্পানীর কর্মচারীরা. আর পারে সেই সমস্ত দপ্তরের প্রতিনিধিরা, যাদের রাখা হয়েছে আইন রক্ষার কাজে, যেমন, অভিশংসক দপ্তর, অনুসন্ধান দপ্তর ও অন্যান্য সব দপ্তর গুলি. যারা ইচ্ছা করে বা অসাবধানী কথা বলে যে কোন কোম্পানীর শেয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে.     রাশিয়াতে এই রকম আইনের প্রথম প্রয়োজন পড়েছিল দেশের ভিতরের শেয়ার বাজার পড়ে যাওয়ার পর, যা হয়েছিল ১৯৯৮ সালের আগষ্ট মাসে. তখন সঙ্কটের ফলে রাশিয়ার বিনিয়োগ বাজারের দুই তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, আর মাত্র কয়েকটা কোম্পানী শুধু এর ফলে টিকেই তাকে নি, বরং নিজেদের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল করে তুলেছিল. সঙ্কট হওয়ার কিছু আগেই তারা বাজারে তাদের কাছে জমা সরকারের স্বল্প মেয়াদী ঋণ পত্র গুলি এক সাথে যেন কোন এক বিশেষ মানসিক ক্ষমতার ফলে বেচতে এনেছিল, পরে এই কাগজ গুলিই অর্থহীণ হয়ে পড়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে. তখন স্পষ্ট বুঝতে পারা গিয়েছিল যে, ভিতরের খবর আগে থেকে কিছু লোকের কানে ঢালা হয়েছিল, যার ফলে তারা আগে থেকেই দাম পড়ে যাওয়া কাগজ বেচে দিতে পেরেছিল.    বিনিয়োগ বাজারের কৃত্রিম ওঠা নামা প্রতিরোধ করার জন্য এই রকম আইনের খুব দরকার থাকলেও, এই আইনের বয়ান বছর দশেক ধরে লোকসভার করিডরে পথ হারিয়ে ছিল. ভিতরের খবর অর্থাত্ ঘটনা ঘটার আগে থেকে জেনে নিয়ে সরকারি কর্মচারী আর ব্যবসায়ীরা এই সময় ধরে খুব খারাপ রোজগার করে নি. আর এখন যখন আইন শেষ অবধি নেওয়া সম্ভব হয়েছে, রাশিয়াতে অবশেষে এই ভিতরের খবরের কারবারে একটা বাঁধ দেওয়া সম্ভব হবে. ফলে শেয়ার বাজারে দুর্নীতি কমতে পারে. আর তার সঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা আর পারবে না ভিতরের খবর ব্যবহার করে বিনিয়োগ বাজারের দাম ওঠা নামা করাতে.