প্রকৃতি বিদ্রোহ করেছে. ইউরোপে ও রাশিয়াতে অস্বাভাবিক গরম, পাকিস্থানে ও চীনে বন্যা, বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানব সমাজকে বাধ্য করেছে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকত্বের সঙ্গে একজোট হয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে.    রাশিয়ার মস্কো, নিঝনি নভগোরদ, ভরোনেঝ, রিয়াজান ইত্যাদি অঞ্চলে বিরাট এলাকা জুড়ে দাবানল জ্বলছে, কিছু জায়গায় সেই আগুণ জ্বালিয়ে দিয়েছে লোকালয়. নিষ্ঠুর আগুনে পুড়ে গিয়েছে বাড়ী ঘর, আর ঘন ধোঁয়া শহর গুলির উপরে আকাশ ঢেকে দিয়ে প্রমাণ দিচ্ছে এই বিপর্যয়ের বিপুল প্রসারতার. নিহতদের সংখ্যা বেশ কয়েক দশক ছাড়িয়েছে, রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক প্রশাসন সমস্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ করেছে এই বিপর্যয় থামাতে.    আগুনের সঙ্গে যুদ্ধে সংগ্রাম করছেন বহু সহস্র ত্রাণ কর্মী, কয়েক শ গাড়ী ও যন্ত্র, এমনকি সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে আগুনের মোকাবিলায়. যে মুহূর্তে আগুনকে আয়ত্বের মধ্যে আনা সম্ভব হবে, তত্ক্ষণাত প্রশাসন আগুনে ঘর হারা লোকেদের জন্য বানাতে শুরু করবেন নতুন আরাম দায়ক বাড়ী ঘর ও ক্ষতি হয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের জন্য আলাদা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া. রাশিয়ার নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী শীতের আগেই প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্থ কে বাড়ী বা ঘর দেওয়া হবে. প্রত্যেক প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীণ কে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক বাজেট থেকে সাড়ে তিন হাজার ডলার অর্থ মূল্যের সাহায্য দেওয়া হবে ও এক লক্ষ ডলার দেওয়া হবে বাড়ী ও তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য. প্রাথমিক অব্যবহিত প্রয়োজনের জন্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে এখনই. রাশিয়াকে প্রাকৃতিক অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলা করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নিকট প্রতিবেশী ইউক্রেন ও জার্মানী.    বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তন পৃথিবীকে শুধু প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সামনেই দাঁড় করিয়ে দেয় নি. প্রধান প্রশ্ন বিশ্বের বহু অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বহু লক্ষ লোকের খাদ্য নিরাপত্তা. প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, দানা শষ্যের দামের বহু গুণ বৃদ্ধি, রাশিয়া ও অন্যান্য প্রদান শষ্য উত্পাদক দেশ গুলিতে অতুলনীয় খরা, যার ফলে খাদ্যের এক বিরাট অংশে দাম বাড়তে পারে বহু গুণ. যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন বহু রকমের আলোচনার মুখ্য ও সক্রিয় ভাবে বিতর্কিত বিষয় হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক ভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলার জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় নি. ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরের বিগত বিশ্ব আবহাওয়া সম্মেলনের ফল সকলেই মনে করেছেন শূণ্য.    আন্তর্জাতিক ভাবে সহযোগিতা আজ মনে হচ্ছে অবধারিত: এমন কি সবচেয়ে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী দেশ গুলিআজ প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করার উপযুক্ত আধুনিক প্রযুক্তি না থাকতে পারে. বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ফান্ডের "আবহাওয়া ও শক্তি" প্রোগ্রামের রাশিয়ার প্রধান আলেক্সেই ককোরিন এই ধারণা পোষণ করে মন্তব্ করে বলেছেন:    "এই ধরনের সহযোগিতার ভিত্তি মূলক কাঠামো হতে পারে – রাষ্ট্রসংঘের আবহাওয়া সংক্রান্ত নেওয়া সিদ্ধান্ত. কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত "কিয়োটো প্রোটোকল" আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ সহযোগিতার জন্য যথেষ্ট নয়. এখন প্রয়োজন আরও বহুমুখী ও ফলপ্রসূ চুক্তি করার. আর তার মধ্যে উন্নত এবং উন্নতিশীল দেশ গুলির পারস্পরিক কর্মসূচী গুলিকে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ".    পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, এই ধরনের প্লাবন, খরা, ধ্বস নামা আগেও হয়েছে, কিন্তু এত ঘনঘন তা হত না, বর্তমানে যত বেশী হচ্ছে. আজ সবার সামনেই এক বিপদ এসেছে, যা "জাদু কাঠির ছোঁয়া" দিয়ে পাল্টানো যাবে না, মানব সমাজের সামনে সময় এসেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবাদ ভুলে অবশেষে চুক্তি করার. আর যদিও কোপেনহেগেন শহরে চুক্তি করা সম্ভব নাও হয়ে থাকে, তবুও আগামী মেক্সিকো শহরের আবহাওয়া সম্মেলনে তা করা যেতেই পারে.