বিদেশী গ্রাহকদের জন্য রাশিয়ার কোম্পানী গাজপ্রম দামের বিষয়ে নতুন ব্যবস্থা নিতে চলেছে. সম্ভাব্য ছাড় ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গিয়েছে.     ঐতিহ্য অনুযায়ী গ্যাসের দাম ঠিক করা হয় খনিজ তেলের দামের ভিত্তিতে. বর্তমানে তেল – স্টক মার্কেটে বেচা কেনা হয় এমন দ্রব্য, কিন্তু গ্যাস নয়. তার মানে হল, গ্যাসের বর্তমান দাম তেলের দামের উপর নির্ভর করে ঠিক করা হয়. তার উপরে গ্যাসের বিষয়ে সমস্ত চুক্তিই অনেক দিনের জন্য. তাতে নির্দিষ্ট দাম লেখা হয় না, শুধু একটা ফরমুলা দেওয়া হয়, যে ফরমুলা দিয়ে দাম নির্ণয় করা হয়ে থাকে. এই ফরমুলা তৈরীর মূলে আছে ছয় থেকে আট মাস ধরে চলে আসা খনিজ তেলের গড় দাম. কিন্তু বিশ্বে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন এই ফরমুলা ধরে দাম হিসাব করার উপরেও প্রভাব ফেলেছে, তাই আরবাত ক্যাপিটাল নামে এক কোম্পানীর বিশ্লেষক ভিতালি গ্রমাদিন বলেছেন:    "গাজপ্রমের প্রতিনিধিদের ঘোষণা অনুযায়ী গ্যাসের বাজারে দাম ঠিক করার বিষয়ে তারা হয় দাম কমাবে অথবা কিছু গ্রাহকদের জন্য তাদের বরাদ্দ পরিমানের চেয়ে কম নেওয়ার সুযোগ দেবে, যাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ. অথবা আমরা যেমন দেখলাম ইউক্রেনের বিষয়ে, দামে ছাড় দেবে. সেখানে রপ্তানী শুল্ক নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে. সরকার নিজের উপরেই দাম কমানোর বোঝা নিয়েছে".    কিন্তু তা স্বত্ত্বেও রাজনৈতিক দিকের চেয়ে গ্যাসের দামের বিষয়ে অর্থনৈতিক দিকটাই বেশী করে চিন্তা করা হয়. তাই যদি গ্যাসের দাম খনিজ তেলের দামের চেয়ে কমের দিকে থাকে, তাহলে ছাড়ের অর্থনৈতিক ভাবে ভিত্তি থাকবে. হতে পারে যে, গাজপ্রম কিছু দিন পর্যন্ত তাত্ক্ষণিক দামের ভিত্তিতেই কাজ করবে, অর্থাত্ বর্তমানের বাজার দরের ভিত্তিতে, যেখানে গ্যাসের দাম ঠিক হবে এই মুহূর্তে দেওয়া হলে যে দাম হওয়া উচিত্ সেই দামে. এই দামেই বর্তমানে গাজপ্রমের স্থায়ী ইউরোপীয় গ্রাহক দেশ গুলি, যেমন, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালি ও তুরস্ক কিনছে.    তা স্বত্ত্বেও মনে করা যেতে পারে যে, গাজপ্রম কোম্পানীর দামের নীতি পুরো পাল্টে যাবে না. সম্ভবতঃ সাময়িক পরিবর্তন বা সংশোধন করা হবে বলে মনে করা যেতে পারে. ভবিষ্যতে যখন সব আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসবে, তখন গাজপ্রম কোম্পানীও নিজের নীতি ফেরাবে, দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি করবে খনিজ তেলের দামের উপর ভিত্তি করা ফরমুলা অনুযায়ী. প্রসঙ্গতঃ মনে করা যেতে পারে যে, বিশেষ কিছু গ্রাহকের জন্য চুক্তির শর্ত পাল্টাতেই পারে.