মস্কো শহরে গত দশ দিনের বেশী সময় ধরে তাপমাত্রা একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে. অস্বাভাবিক গরম ও খরা এই বারের গরমে যা হচ্ছে, তা ২০৭০ সালে হয়ত স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে. এই রকম একটা ভবিষ্যদ্বাণী করে বসেছেন বিশ্ব বন্য প্রকৃতি ফান্ডের রাশিয়ার আবহাওয়া প্রোগ্রামের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন. ইউনেস্কোর পরিবেশ সমস্যা পরিষদের সদস্য ভ্লাদিমির গ্রাচেভ উল্লেখ করেছেন - প্রধান অস্বাভাবিকত্ব হল দীর্ঘস্থায়ী গরম. সবচেয়ে দীর্ঘ গরম কাল রাশিয়াতে শেষবার হয়েছিল ১৯৩৬ সালে, আর তা চলেছিল তিন সপ্তাহ. কিন্তু এক মাসের বেশী সময় ধরে গরম চলছে, এরকম আগে কখনোই হয় নি. তিনি বলেছেন:"অস্বাভাবিক গরম, যা রাশিয়ায় ও অন্য বিভিন্ন অংশে বর্তমানে পড়েছে, উদ্বিগ্ন করেছে তার দীর্ঘস্থায়ীত্বে. এর আগেও গরম বছর এসেছিল, সাহারা মরুভূমি ও মধ্য এশিয়াতেও স্থায়ী ভাবে গরম পড়ে প্রতি বছর, কিন্তু এটা এই সব জায়গাতে এক রকম ভাবে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে. আর যেখানে এই রকম ভাবে একটানা গরম পড়ার কথা নয়, সেখানে এই একটানা গরম, নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তোলে বিপদের আশংকায়. আর শুরু হয়ে যায়, নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী".২০০৩ সালে ফ্রান্সে অস্বাভাবিক গরম পড়ার পর, যখন প্রায় হাজারের উপর লোক মারা গিয়েছিল, তখন যে মূল্যায়ন করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, আর কয়েক দশক পরে এই পোড়া গরম স্বাভাবিক মনে হবে, যদি মানুষে গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর জন্য পরিবেশ দূষণ বন্ধ না করে. বিশ্ব বন্য প্রকৃতি ফান্ডের বিশেষজ্ঞরা মানব জাতিকে এই কাজের জন্য আরও ষাট বছর সময় বরাদ্দ করেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা তার আগেও স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে.অবশ্যই রাশিয়াতে জনমত এই কারণে বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ে চিন্তিত. রাতে তিরিশ ডিগ্রী ও দিনে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এক মাসের বেশী সময় ধরে চলছে. সত্য যে, এখনও কেউ জানে না, এর জন্য কে দায়ী – মানুষ তার পরিবেশ দূষণের জন্য, নাকি মহাকাশ বিশ্বের অক্ষ পাল্টে দিয়েছে বলে. আর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সম্বন্ধেও কিছু পরিস্কার নয়. কেউ বলছে এত পরিমানে এই গ্যাস পরিবেশে থাকার কারণ খনিজ কয়লা, গ্যাস ও তেল পোড়ার ফলে, আবার কেউ বলছে কারণ মহাসমুদ্র থেকে এই গ্যাস বেরোচ্ছে বিশ্বের উষ্ণায়ন হয়েছে বলে.কিছু চালু মতামত আছে যে, সব মিলিয়ে বিশ্বের উষ্ণায়ন, যেমন রাশিয়ার উত্তর দিকে হলে, তা শুধু ভালই হবে. কিন্তু আমাদের বোঝা দরকার যে, এখানে বিপর্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, যার মধ্যে, ঝড়, ঝঞ্ঝা, শিলা বৃষ্টি, তুষার ঝড় ইত্যাদি প্রকৃতির সমস্ত ধরনের খামখেয়াল সব কিছুই রয়েছে. এই সমস্ত কারণে সাব ট্রপিকাল অঞ্চলে স্থায়ী শীত কাল থাকবে না, আসবে কখনও কাদা - জলের স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, কখনও ভীষণ ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটা – ফল হবে ফসলের বীজ থেকে গাছ হতে পারবে না, তারপর খরা পাল্টে আসবে বন্যা, আর গরমের সঙ্গে আসবে ম্যালেরিয়ার মত ছোঁয়াচে ভীষণ সব রোগ.এই ধরনের প্রাকৃতিক খামখেয়াল থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ দেখাই যাচ্ছে, সেই সব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যেগুলির কথা বিশ্ব বন্য প্রকৃতি ফান্ড বা গ্রীন পিস সংস্থার মতো সংস্থারা বহু দিন ধরেই বলছে. আর সেগুলি হল: পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা থেকে শুরু করে জল সেচ করার ব্যবস্থা পর্যন্ত সব কিছু, বন কেটে ফেলার বিষয়টা মনে করতে হবে এমন কাজ, যার ফলে লোকে দুর্ভিক্ষের ফলে মারা পড়তে পারে, আর তার জন্য সম মানের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে. রাশিয়ার বনাঞ্চল – নদী গুলির জন্য প্রাকৃতিক ত্রাণের ব্যবস্থা, আর নদী – যা খরার সঙ্গে যুঝতে সাহায্য করতে পারে. প্রকৃতি পরিস্কার করে মানব সমাজকে অসন্তোষ প্রদর্শন করছে, আর তা অবহেলা করা চলতেই পারে না.