৫৬০ মিটার ব্যাসের এক অ্যাস্টেরয়েড পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে. অদূর ভবিষ্যতে সেই রকম সম্ভাবনা খুব একটা বেশী নয়, কিন্তু তা খুবই বেড়ে যেতে পারে ২১৮২ সালে. স্পেনের ভালিয়াদোলিদা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদদের হিসেব মতো সেই সময়েই এই মহাকাশের বস্তু আমাদের দুনিয়াতে আসতে পারে.১৯৯৯ সালে এই অ্যাস্টেরয়েড টিকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, নাম দেওয়া হয়েছে RQ36. স্পেনের জ্যোতির্বিদদের হিসেব মতো দেখা গিয়েছে যে, এটি পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে. অ্যাস্টেরয়েড সূর্যের চারপাশে যে কক্ষপথে ঘুরছে, তা যথেষ্ট পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই তার কক্ষপথ হিসাবে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তবুও মনে করা হয়েছে যে, বিশ্বের সঙ্গে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা আছে বার দুয়েক. একদম সঠিক করে কেন তাঁরা হিসেব করে বলছেন না কবে ধাক্কা লাগতে পারে, তার কারণ হিসাবে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী ওলেগ মালকভ বলেছেন:"আমরা পারি শুধু সম্ভাব্য সময় বলতে, কারণ এই ছোট অ্যাস্টেরয়েড গুলি – এক দিক থেকে যথেষ্ট বড়, তাই পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আবার এমন ছোট যে, তাদের সঠিক কক্ষপথ বহুদিন আগে থেকে লক্ষ্য করে তা হিসেব করে বার করা সম্ভব হয় না. এই কক্ষপথ সূর্য, বড় গ্রহ ও তাদের উপগ্রহ গুলির মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পরিবর্তিত হয়. বর্তমানে বেশ কিছু নতুন পর্যবেক্ষণের ফল পাওয়া গিয়েছে, তাই আমাদের বিদেশী সহকর্মীরা RQ36 এর কক্ষপথ হিসেব করতে পেরেছেন. বোঝা গিয়েছে যে, ২১৮২ সালে বিশ্বের সঙ্গে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কিছুটা বেড়েছে".এই ধাক্কায় বিশ্বের কোন একটা অংশে ক্ষতি হতে পারে, তাই এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পদ্ধতি বার করা গিয়েছে দুই রকম. হয়, এর কক্ষপথ পরিবর্তন করে দেওয়া অথবা তা ধ্বংস করে ফেলা. প্রথমটি সহজ ভাবে হিসেব করে করা যেতে পারে, ২০৮০ সালের আগে তা করা সম্ভব, তাই বিশেষজ্ঞ বলেছেন:"যত তাড়াতাড়ি আমরা এই কাজ করতে পারব, তত কাজটা সহজ হবে. যেমন, গুলি করার সময় যদি বন্দুক একটু পাশের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, তবে গুলিও কিছু দূর যাওয়ার পর তার গতি পথ পাল্টে পেলে, এখানেও সেই রকম করা সম্ভব. হিসেব করে দেখা যেতে পারে, কোন সময়ের আগে এটা করা যেতে পারে, তাহলেই আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে অ্যাস্টেরয়েড অন্য পথে পাঠানো যেতে পারে.প্রসঙ্গতঃ এই অ্যাস্টেরয়েড এর চেয়ে আগেই "অ্যাপোফিস" নামে আর একটি মহাকাশের বস্তুর বিশ্বের সঙ্গে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা আছে, আমরা ২০২৯ সালে তার দেখা পাবো, তখন ওটা আমাদের পাশ দিয়ে চলে যাবে, তবে ২০৩৬ সালে আবার ফিরে এলে বিশ্বের সঙ্গে ধাক্কা লাগবে কিনা তা বোঝা যাবে, ২০২৯ সালে কোন জায়গা দিয়ে আমাদের পাশ কাটিয়ে যায় তার ওপরে".বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, অ্যাস্টেরয়েড বিশ্বের জন্য বিপদের কারণ, তাঁরা বলেন যে, আজ থেকে ৬, ৫ কোটি বছর আগে এই রকমই এক ধাক্কার ফলে বিশ্বের ডাইনোসর ও অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের শতকরা ৭০ ভাগ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল. ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস অঞ্চলে এক উল্কা পাতে বিরাট এলাকায় সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ জগত নষ্ট হয়েছিল. মানুষ তখন মরে নি, কারণ সে জায়গায় লোক থাকত না. আজও এই ঘটনার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়. বিশ্বের বিখ্যাত জ্যোতির্বিদদের দল রাষ্ট্রসংঘে দরবার করেছেন অ্যাস্টেরয়েড সন্ধান ও ধ্বংস করার জন্য আন্তর্জাতিক দল তৈরী করার, যাতে বিশ্বের বিপদ এড়ানো যায়. মহাকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাকাশ যান তৈরী করা যেতে পারে, যা এই অ্যাস্টেরয়েড গুলির কক্ষ পথ পরিবর্তন করতে পারে ও দরকারে ধ্বংস করতে পারে. বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, এই রকম একটা প্রতিরক্ষা বর্ম তৈরী করলে আগামী কালের বিপদ এড়ানো যেতে পারে.