জলের জন্য যুদ্ধ বিশ্বে খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে. বিশ্বে পানের উপযুক্ত পরিশ্রুত জলের পরিমান খুবই কম হয়ে গিয়েছে; দেশ ও অঞ্চলের পরিমান বাড়ছে – যেখানে পানের উপযুক্ত জলই নেই. এই পরিস্থিতির গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সমাজের বেশীর ভাগ সদস্যই বুঝতে পেরেছে. রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভাতে মানুষের পরিশ্রুত জল পাওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতী দেওয়া হয়েছে.    জল – বিশ্বে সবচেয়ে বেশী উপস্থিত যৌগ পদার্থ, এটা সবাই জানে. কিন্তু দুঃখের কথা হল, সমস্ত রকমের জল পানের উপযুক্ত নয়. চিকিত্সকদের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বছর অপরিশ্রুত জল থেকে উদ্ভূত রোগের কবলে পড়ে প্রায় বিশ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছেন.  আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আজ পানের উপযুক্ত জলের দাম  সোনার সমতূল্য, আর একই সময়ে নানা দেশ রয়েছে, যেখানে এর উত্স প্রয়োজনের অতিরিক্ত. জলের ভান্ডারের জন্য যুদ্ধ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, অবশ্য তা অন্য যুদ্ধের আড়ালে. এই ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যখন রাষ্ট্রসংঘের জল সংক্রান্ত দলিল সমস্ত দেশ একসাথে সমর্থন করে নি. ৪১টি দেশের সদস্যরা, যাদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে. তারা ভোটের সময়ে মত দেয় নি.পরিশ্রুত পানীয় জলের বিষয়ে সংগ্রাম চলছে বলে ভূ তাত্ত্বিক ও জল বিজ্ঞানী ইগর দাভিদেঙ্কো বলেছেন:"২০০২ সালে বিজ্ঞানী একাডেমিক লিওনিদ আবালকিন তাঁর লেখা একটি বইতে সোজাসুজি বলেছিলেন যে, বিশ্বে প্রায় দুই হাজার জায়গা রয়েছে, যেখানে পরিশ্রুত পানীয় জলের জন্য যুদ্ধ লাগতে পারে. এই ভবিষ্যদ্বাণী তখন কাউকে ভাবায় নি, আর বাস্তবে এই যুদ্ধ বহুকাল ধরে চলছে, এখনও তা থামে নি. যেমন, আফ্রিকা – যেখানে বিশ্বের শতকরা ১২ শতাংশ লোক রয়েছে. আর জল সেখানে পানের উপযুক্ত মাত্র ১ শতাংশ. আমাদের প্রাক্তন মধ্য এশিয়ার রাজ্য গুলিতেও বাস্তবে চুপিসাড়ে যুদ্ধ চলছে সেই পানীয় জলের জন্যই. কারণ পাহাড়ী দেশ গুলি নিজের দেশে জল বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে, জল আটকে রাখতে পারে, আর সমতলের দেশ গুলিতে জল পৌঁছায় না. আগে এই সবই একটি দেশের সীমানার মধ্যে সমাধান করা হত, আর এখন তা হচ্ছে না. টাইগ্রেস ও ইউফ্রেটিস নদী দুটির জল বণ্টন নিয়ে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে কি ধরনের সব বিবাদই না হয়েছে. সেখানে সত্যই যুদ্ধ লেগেছিল".    আন্তর্জাতিক সমাজ বহুদিন ধরেই পথ খুঁজছে বর্তমানের পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাব দূর করার, অনেক রকম পথের কথাই বলা হয়েছে, এমনকি সমস্ত অদ্ভূত প্রস্তাবও আনা হয়েছে, যেমন, হাইড্রোজেন ও আবহাওয়ার গ্যাসের যৌগ হিসাবে জল উত্পাদন করারও. বেশ কিছু দেশে পারমানবিক প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের জলকে পরিশ্রুত পানের যোগ্য জলে পরিণত করার প্রচেষ্টা পুরোদমে চলছে. বিজ্ঞানীরা নানা রকমের সমস্যা সমাধানের পথের সন্ধান দিয়েছেন, যা এই বছরে মস্কোতে "পরিস্কার জল – ২০১০" নামে এক আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনা করা হবে. মানব সমাজের এই বেঁচে থাকার প্রয়োজনের আর্দ্রতার জন্য অধিকার রাষ্ট্রসংঘ ঘোষণা করেছে. এই বার দেশ গুলিকে তা সুরক্ষিত করতে হবে. আর শিখতে হবে, প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে, যার মধ্যে জল হল একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ.