রাশিয়ার শাস্তি বহাল করার ব্যবস্থা আরও বেশী করে মানবিক হচ্ছে. এই প্রথম রাশিয়াতে এক স্ত্রী বিহীণ পিতার শাস্তি বহাল করার সময় পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে.দেশের ফরিয়াদী আইন ও ফরিয়াদী ব্যবস্থার ধারায় পরিবর্তনের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে. এখন শাস্তি বহাল করার ক্ষেত্রে, ছোট বাচ্চার বাপ কেও গর্ভবতী বা ছোট বাচ্চা সমেত মায়ের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে.    এখন থেকে রায়ে শাস্তি পাওয়া বাপ মায়েরা বিচারালয়ের কাছে আবেদন করতে পারবেন, শাস্তি বহাল হওয়া পরে করানোর জন্য. যদি তাদের আবেদন মেনে নেওয়া হয়, তবে বাচ্চাদের চোদ্দ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত বাপ তাদের মানুষ করতে পারবে. আরও বড় কথা হল, যদি সেই লোক শাস্তি বহাল হওয়ার বিষয়ে দেরীর সময়ে ঠিক থাকে ও যত রকমের নির্দেশ আছে তা মেনে চলে, তাহলে হতে পারে যে, তাকে আর জেলে পাঠানো হবে না.    এই আইন বর্তমানে যারা জেলে রয়েছে, তাদের জন্যও বহাল হয়েছে. নতুন আইনে যে রেহাই পেয়েছে, তার শাস্তি হয়েছিল ৭ বছরের জন্য, সে ২০১৪ সালে ছাড়া পেতে পারত, কিন্তু কিছুদিন আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ায় অল্পবয়সী বাচ্চা অনাথ হয়ে যায়. রাশিয়ার আইন ব্যবস্থার জন্য বাপের অধিকার বহাল হওয়া একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন. কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের কথা মতো সংশোধন চলতেই থাকবে, তিনি বলেছেন:    "দুঃখের কথা হল, আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে যা পাওয়া হয়েছে, তা খুবই ভারী. আরও অনেক কাজ করতে হবে, যাতে আমাদের শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থার পরিবর্তন করে তা আধুনিক ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব হয়. যাতে অপরাধের ইচ্ছাই না হয়. অবশ্যই শাস্তি হবে দোষের ফল হিসাবে, কারণ শাস্তি দেওয়ার আসল উদ্দেশ্যই তাই. কিন্তু একই সময়ে আমাদের উচিত হবে আধুনিক নীতি গুলির উপরে নির্ভর করতে হবে, যা দেশের সংবিধানে রয়েছে, মানুষের ভিত্তি মূলক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সঠিক ভাবে সম্পর্ক রেখে".    সরকারের এই বিষয়ে পরবর্তী উদ্যোগ হল বিচারের আগে গ্রেপ্তারের ভিত্তি কমিয়ে ফেলা. এই বছরের শুরু থেকেই যারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আগে গ্রেপ্তার করা বন্ধ করা হয়েছে. এরপর যারা খুব একটা ভারী অপরাধ করেনি, তাদের বিচারের আগে গ্রেপ্তার করা বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে.    দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:    "কোন কারণ নেই লোককে বিচারের আগেই জেলে পুরে দেওয়ার, বিচারাধীন অবস্থায় বন্দী থাকার সময়ে লোকের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়, তার দোষ যতদিন অবধি প্রমাণিত না হচ্ছে, সে ততদিন অবধি দোষী নয়". বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়ার আইন ব্যবস্থা এরপর ঠিকানা অনুযায়ী হবে – প্রত্যেক ব্যক্তির কথা আলাদা করে ভেবে. অবশ্যই, এক মুহূর্তে সমস্ত পরিবর্তন হয়ে যাবে না, কিন্তু এর মধ্যেই নতুন মানবিক নীতির ফল দেখা যাচ্ছে, আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালের প্রথম অর্ধে বিচারের আগে গ্রেপ্তার করা লোকের সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ কমেছে.