রাশিয়াতে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের দিন এই বছর থেকে রাশিয়ার জাতীয় উত্সবের দিন বলে মানা হচ্ছে. নতুন স্মৃতি দিবস হয়েছে ২৮শে জুলাই.    রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জা এই দিনে দশম শতকে পবিত্র ধর্ম প্রচারক রাজা ভ্লাদিমির দেশে খ্রীষ্ট ধর্ম নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তাঁর স্মৃতি তর্পণ করে থাকে. রাশিয়ার খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের ফলে এই দেশে খুবই জোরদার ভাবে সংস্কৃতির উন্নয়ন, লিখিত ইতিহাসের সৃষ্টি, শিল্প এবং স্থাপত্যের বিকাশ সম্ভব হয়েছিল. কিন্তু এই সবের মধ্যে সবচেয়ে প্রধাণ ছিল – রাশিয়ার দেশ হিসাবে গঠন, এই ঘটনাকে বিশেষ করে উল্লেখ করে তাঁর বিশ্বাসের কথা অর্থোডক্স গির্জার একজন প্রধান যাজক মাক্সিম পিয়েরভোজ্ভানস্কি বলেছেন:    "রাশিয়ার ইতিহাসে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণকে অধিক মূল্যায়ণ না করা খুবই মুশকিল. এর ফলে সেই রাশিয়ার উদ্ভব হয়েছে, যাকে আমরা চিনি আজ এক হাজার বছর ধরে. সমস্ত ধরনের কথা বার্তা যা বলা হয়ে থাকে যদি রাশিয়া খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ না করত তবে কি হত এই বিষয়ে – তা একে বারেই ফাঁকা আওয়াজ. তাহলে এটা একটা অন্য দেশ হত, লোকেরা অন্যরকম হত এবং অন্য হত তাদের নীতি. অবশ্যই অর্থোডক্স ধর্ম আমাদের দেশের জন্য দেশ তৈরী করার মতো ধর্ম হয়েছে. এই সমস্ত শতাব্দী ধরে ধর্ম মানুষের ইচ্ছাকে সংযত করেছে, আত্মাকে চিকিত্সা করেছে, পাপী দের অনুশোচনা করতে শিখিয়েছে, সেনা বাহিনীকে – বিশ্বাস নিয়ে সেবা করতে".    রাশিয়ার খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের দিনটি পালনের এক বহু পুরনো ইতিহাস রয়েছে: উনিশ শতকে এই দিন পালন করা হত বিরাট করে. কিন্তু তারপর এই উত্সবের মাহাত্ম্য কমে গিয়েছিল, শুধু ১৯৮৮ সালে এই দিনের এক হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে যথা যোগ্য মর্যাদায় তা পালিত হয়েছিল. আর ২০০৮ সালে রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ ধর্ম গুরু রাজা ভ্লাদিমির কে স্মরণ করার দিনটি গির্জার বড় উত্সবের দিন হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় ও সরকারের কাছে দেশের জাতীয় উত্সব দিবস হিসাবে পালন করার জন্য আবেদন করে. এই প্রস্তাব গৃহীত হয়. এটাকে বর্তমানের রাশিয়ার সরকার ও গির্জার মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসাবে মানা যেতে পারে, যা প্রমাণ করে যে, বর্তমানের রাশিয়া তার ইতিহাসকে মনে রেখেছে. প্রধান যাজক মাক্সিম পিয়েরভোজ্ভানস্কি বলেছেন - রাশিয়ার খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ এক প্রক্রিয়ার শুরু করেছে, যেখানে ইভান জেলিক ধর্ম উদ্ধৃত বিশ্বাস যদি জীবনের নিয়ম নাও হয় তবে একটা পথ প্রদর্শক লাইট হাউস হয়েছে, যার দিকে লোকে সব সময়ে লক্ষ্য করে চলেছে, তিনি যোগ করেছেন:    "যদি বিংশ শতাব্দীকে হিসাবের মধ্যে ধরা নাও হয়, তবে তার আগের ৯০০ বছর প্রত্যেক খ্রীষ্ট ধর্ম অবলম্বন করা লোক নিজের ভিতরে প্রেম ও সেবা করার এক ধারণা পোষণ করত, যেটা খুবই দরকারী ছিল. অবশ্যই আমরা নিজেদের জীবনে এই সমস্ত কিছুই বাস্তবায়িত করতে গিয়ে অনেক দূরেই থেকে যাই লক্ষ্যের থেকে, কিন্তু এখানে জরুরী হল আমরা কোন দিকে যেতে চাই".    ইউক্রেনে ধর্ম প্রচারের জন্য সফর রত রাশিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল রাশিয়া, ইউক্রেন ও বেলোরাশিয়ার লোকেদের উদ্দেশ্য করে আহ্বান করেছেন এই ভ্রাতৃ সম তিন জাতির মধ্যে যে কোন ধরনের বিভেদ দূর করতে, যারা ঐতিহাসিক ভাবে একই রুশ অঞ্চলে এতকাল রয়েছে. জাতিগত ঐক্য – এটা পবিত্র বিষয় এবং তাকে ছোঁয়া যাবে না, যা জীবনের একেবারে মূলে রয়েছে, তার ভিত্তির শেষ ধাপে, এই ভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন:    "আর তাই প্রত্যেকেই যারাই নিজেদের দেশকে ভালবাসেন, তাদের সকলের উচিত হবে এই বিভেদ দূর করা, আত্মা ও মূল্যবোধের পরিবেশ পরিবর্তন করা, বিরুদ্ধতার স্তরকে কমিয়ে দেওয়া. আমি সমস্ত পক্ষকেই আহ্বান করছি, যারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক অথবা ঐতিহাসিক কোন বিবাদে মত্ত, তারা সকলেই যেন এই ফুটন্ত ক্রোধের উপশম করেন, যাতে দেশের লোকেরা শান্তি পায় ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নিজেদের স্বাধীনতাকে বিকশিত করে".    খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের উত্সব রাশিয়া ইউক্রেন ও বেলোরাশিয়ার জনগনকে একত্রিত করে, মনে করিয়ে দেয় মহান ঐতিহ্যের কথা এবং পূর্ব্বপুরুষদের উপদেশ.