"উইকিলীকস" ইন্টারনেট সাইটে, আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজকর্মের উপর প্রায় ৯০ হাজারেরও বেশী গোপন দলিল ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরে তার মধ্যে দেখা গিয়েছে এমন সমস্ত দলিল রয়েছে, যা আমেরিকা ও পাকিস্থানের সম্পর্কের বিষয়ে নতুন আলোকপাত করে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্থানকে মনে করা হয় তালিবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহকর্মী দেশ, কিন্তু এই দলিল গুলির মধ্যে অনেক গুলিতেই নির্দেশ রয়েছে যে, পাকিস্থান আসলেই তালিবদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে এবং বহু ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে. এই সব খবরকে চাঞ্চল্যকর বলা যেতে পারে কি? রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভের মতে, এখানে কিছু তথ্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে, যা আগেও নানা জায়গায় শুনতে পাওয়া গিয়েছিল. আমেরিকা – পাকিস্থানের সম্পর্ক খুব সাধারণ নয়, ওপর থেকে তা মনে হলেও. অনেকটা বহু স্তর বিশিষ্ট কেকের কথা মনে করিয়ে দেয়, তাই ভ্লাদিমির সোতনিকোভ উল্লেখ করেছেন:"আমেরিকার লোকেরা পাকিস্থানকে তাদের দলের মনে করলেও সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করে না. তারা সন্দেহ করে যে, এই সহকর্মী দেশ, তাদের কাছ থেকে কিছু জিনিস লুকিয়ে রাখে. আবার পাকিস্থানের লোকেরাও আমেরিকার লোকেদের পুরোটা বিশ্বাস করতে পারে না. যদি বা দেশের প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা তাও নিজেদের কাজকর্মে সাবধান থাকে ও পিছন ফিরে বারবার দেখে কি হচ্ছে, তবে পাকিস্থানের আম জনতা তাদের সহকর্মী আমেরিকার প্রতি ধারণা গোপন করে নি. পাকিস্থানের লোকেরা এই ভেবে একেবারে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়, যে, আমেরিকা তাদের সার্বভৌমত্ত্ব কে পাত্তাই দেয় না, যেমন, যখন ইচ্ছা ড্রোন ব্যবহার করে দেশের মধ্যেই বোমা বর্ষণ করে. এ ছাড়া তারা আরও ভয় পায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের জন্য লাভজনক মনে করলে যে কোন মুহূর্তে পাকিস্থানের মতো সহযোগী দেশকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে পারে. ইতিহাস এই রকম উদাহরণ মনে রেখেছে. সোভিয়েত সেনা বাহিনী আফগানিস্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পাকিস্থানের উপর আগ্রহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হারিয়ে ফেলেছিল. কিন্তু আবার যখন তালিব বিরোধী অভিযানে দরকার পড়ল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের ইসলামাবাদের প্রতি মনোযোগ দিল. আর দাবী করল তালিবান আন্দোলনের যোদ্ধা দের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সক্রিয় ভাবে যোগ দিতে".বর্তমানে জনতার সামনে বেরিয়ে পড়া পেন্টাগনের দলিল গুলিতে দেখা যাচ্ছে যে, পাকিস্থানের গুপ্তচর বিভাগ সংস্থাগুলির মধ্যে অন্তর্বর্তী চর বা আই এস আই তালিবদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে, বিভিন্ন চরদের পাঠানো খবরে বলা হয়েছে পাকিস্থানের জেনেরাল হামিদ গুল, যিনি এক সময়ে এই সংস্থার প্রধান ছিলেন, তিনি এখনও তালিবদের সঙ্গে যুক্ত. পাকিস্থানের সরকারের মদত ছাড়া এই ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হতে পারে কি? আর তার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ তা জানতে পারবে না এমন কি হতে পারে? কারণ সোভিয়েত বাহিনীর আফগানিস্থানে থাকার সময়ে সি আই এ এবং আই এস আই একসাথে ঘনিষ্ঠ জোট বেঁধে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচুর গুপ্ত আঘাত হেনেছিল. তাই সোতনিকোভ বলেছেন:"তাদের মধ্যে এখনও জোট বেঁধে কাজ করা চলছে, শুধু আই এস আই আজ আর তাদের সমস্ত গোপন তথ্য সি আই এ কে দিতে রাজী নয়, সি আই এ অবশ্যই নিজেরা ওদের সব তথ্য দিয়ে দিতে চায় না. যদিও আই এস আই কে মনে করা হয় সরকারের মধ্যে লুকোনো কলকাঠি নাড়ানোর সরকার, তবুও তারা নিজের দেশের সরকারকে না জানিয়ে তালিবদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না. এই তো কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী তালিবদের সঙ্গে দেখা করেছেন, অবশ্য বলা হয়েছে যে, এই তালিবেরা ধরা পড়েছে ও তিনি নাকি তালিবান আন্দোলনের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন, শান্তি আনার বিষয়ে. আমেরিকার লোকেদের পাকিস্থানের এই তালিবদের সঙ্গে গোপন বা খোলাখুলি যোগাযোগ কোনটাই পছন্দের নয়. আর এই সব দলিল ফাঁস হয়ে গিয়ে আরো একবার খারাপ করে  দিয়েছে পাকিস্থান ও আমেরিকার সম্পর্ক".