আর্কটিক অঞ্চলে আগষ্ট মাসে অস্বাভাবিক গরমের জন্য রেকর্ড পরিমান জায়গায় বরফ গলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে. এই রকম একটা পূর্ব্বাভাষ দিয়েছেন রাশিয়ার জল বায়ু বিভাগের বিশেষজ্ঞরা. এই পূর্ব্বাভাষ দেওয়ার ভিত্তি জুন মাসের ঐতিহাসিক ভাবে বিরল বরফ গলে যাওয়ার গতি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরফ ও তুষার তথ্য কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরাও এই ধরনেরই মত প্রকাশ করেছেন. তাঁরা হিসেব করে দেখেছেন যে, আর্কটিক অঞ্চলে জুন মাসে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে লক্ষ্য রাখার সময় সীমার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বরফের স্তর গলে গিয়েছে: দৈনিক ৮৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে, যা ঐতিহাসিক ভাবে নির্ণয় করা গড় বরফ গলার গতির থেকে দেড় গুণ বেশী. অবশ্য এটা সত্য যে, জুলাই মাসে বরফ গলার গতি কমেছে.    ২০০৭ সালে একই রকমের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আর্কটিক ও আন্টার্কটিকা অঞ্চলের বরফের পরিমান সম্বন্ধে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরীর প্রধান আলেকজান্ডার ইউলিন বলেছেন:    "২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে সবচেয়ে কম বাড়তি বরফ জমা ছিল, তার মোট এলাকা ছিল ৪, ৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার. কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ব্যাপার হল ২০০৮ সালে এই পরিমান ধীরে হলেও ঠিকই বেড়ে গিয়ে হয় ৪, ৭ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার. গত বছরে ছিল ৫, ২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার. দেখতেই পাচ্ছেন গত দুই বছরে প্রায় ১ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকা বরফে ঢেকে গিয়েছে. তাই আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি যে, পরিস্থিতি ২০০৮ সালের মত হতে চলেছে আবার. যথেষ্ট বরফ রয়েছে পূর্ব্ব সাইবেরিয়া ও লাপতেভ সাগর অঞ্চলে. আর এগুলি প্রায় এক বছর ধরে জমা হওয়া বেশ পুরু বরফ. এটাও সত্যি যে, বরফ দ্রুত গলে গিয়েছে চুকোতকার সমুদ্র ও কারা সমুদ্র অঞ্চলে, আর্কটিক অঞ্চলের এই সমুদ্র গুলিতে গলেছে পাতলা বরফের স্তর".    বিশ্বের মহাসাগরে এই চির তুষার রাজ্যের বরফ গলে যাওয়া অবশ্যই প্রভাব ফেলতে বাধ্য. নেতিবাচক প্রভাব গুলির মধ্যে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সমুদ্রের জলের দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি. এর ফলে উপকূল অঞ্চলের এলাকা গুলি জলে ডুবে যেতে পারে, দ্বীপ গুলি ডুবতে পারে. ফলে বহু পরিবেশ ব্যবস্থা পশু, প্রাণী ও মাছের মৃত্যু হতে পারে. তাহলেও এখনও বিশ্বের উষ্ণায়ন হয়েছে বলে কোন বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে, এমন বলার কোন কারণ নেই, তাই ইউলিন বলেছেন:    "বর্তমানে বেশ কয়েকটি পৃথক মতবাদ চলছে, কিছু পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, বিশ্বের উষ্ণায়ন হচ্ছে, দ্বিতীয় দলের লোকেরা এই বিষয়ে সন্দিহান. অংশতঃ আমাদের ইনস্টিটিউটে, যেখানে প্রফেসর ইভান ফ্রলোভ ডিরেক্টর, সেখানে মনে করা হয়েছে যে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের একটা দোলন রয়েছে – একই শতকের মধ্যে ও বিভিন্ন শতকের মধ্যে যা আবর্তিত হয়ে থাকে. আমরা বর্তমানে একই শতকের মধ্যে যে পরিবর্তন হয়, তার একটা চূড়ায় রয়েছি, গরম হওয়ার সময়ের. যার ফলে একটানা কিছু বছর গরম পড়ছে. আগামী দশ বছরে তাও জল বায়ু পরিবেশে একটা জটিল রূপান্তর হবে ও আবার ঠাণ্ডা হতে শুরু করবে.    এখানে মনে রাখতে হবে যে, মানুষের কাজের প্রভাব পরিবেশের উপর কিন্তু অব্যাহত. এর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই. প্রকৃতি প্রকৃতির মতই আছে, কিন্তু মানুষে তার উপর প্রভাব ফেলছে. যদি আমরা আমাদের বিশ্বের প্রতি যত্ন না নিই তবে যে কথা বিশ্বের উষ্ণা.ন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা হতেই পারে, আর আর্কটিকের বরফের চূড়া সম্পূর্ণ গলে যেতেই পারে. কিন্তু তাও বর্তমানে আমাদের পূর্ব্বাভাষ মতো অবস্থা এত সাংঘাতিক নয়, এই শতকের তিরিশের দশকে ঠাণ্ডা হবে, আর আর্কটিক অঞ্চলের বরফের কাছ থেকে আমরা কোথাও যাবো না. ইউরোপের বেশীর ভাগ জায়গায় এই কয়েক দিনের রেকর্ড গরম সম্বন্ধে বলা যেতে পারে যে, তা বিশ্বের উষ্ণায়ন সম্বন্ধে কোন তত্ত্ব প্রমাণ বা ভুল প্রমাণিত করে না". "এই ধারণাকে প্রমাণ করতে হলে" বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, "কম করে হলেও এক টানা তিরিশ বছর ধরে আবহাওয়ার উপর লক্ষ্য রাখতে হবে. আমরা খুবই মনোযোগ দিয়ে বরফের পরিস্থিতির উপর লক্ষ্য করছি – কারণ বরফ জল বায়ুর বিষয়ে এক দারুণ ইঙ্গিত বাহী নির্দেশক".